পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বায়ুসেনা প্রধান

IAFচরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে একইসঙ্গে যুদ্ধ করে দু’পক্ষকেই মোকাবিলা করার জন্য ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে গত ৫ই অক্টোবর বায়ুসেনা প্রধান বি এস ধানোয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। ভারতীয় বায়ুসেনা দিবস অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে বায়ুসেনা প্রধান ইদানীংকালের মধ্যে সবথেকে কঠোর হুমকি দিয়েছেন দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রকেই। পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বি এস ধানোয়া বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সার্জিকাল স্ট্রাইকের সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তানের সীমান্তে মোতায়েন পরমাণু অস্ত্র উপকরণ ও ভাণ্ডার চিহ্নিত করে করে ধ্বংস করার জন্য ভারত প্রস্তুত। প্রসঙ্গত ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে পর্যাপ্ত যুদ্ধ সামগ্রী নেই এবং ১০ দিন লাগাতার যুদ্ধ চালানোর মতো কিছু কিছু উপকরণ নেই বলে সম্প্রতি একটি সরকারি রিপোর্ট সংসদে জমা পড়ার প্রেক্ষিতে আজ বায়ুসেনা প্রধানের এরকম কড়া বিবৃতি নিয়ে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞ মহলে। বিতর্ক যে হবে তা আন্দাজ করে তাই বায়ুসেনা প্রধান আজ একধাপ এগিয়ে বলেছেন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ফাইটার জেট ব্যবস্থার ৪২ স্কোয়াড্রন ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে নেই, এটা সত্যি। কিন্তু আমাদের কাছে বিকল্প তৈরি আছে। ভারতকে যারা চ্যালেঞ্জ করছে, সেটা যেন তারা মনে রাখে। তিনি বলেন, চীন ও পাকিস্তানের মোকাবিলা করার জন্য ওই প্ল্যান বি যথেষ্ট শক্তিশালী।

ডোকা লা নিয়ে চীন বনাম ভারতের চরম টানাপোড়েনের পর যখন দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান নরম করে পিছু হটেছিল, তারপরই বেজিংয়ে গিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে হওয়া বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক হয়। সেখানে স্থির হয়েছিল, আগামীদিনে যাতে এরকম কোনও পরিস্থিতি আবার সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র রাস্তা। কিন্তু তারপরও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নিয়ম করে ভারতকে হুমকি ও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চীন বলেছে, ভারত এই ডোকা লা ইস্যু থেকে যেন শিক্ষাগ্রহণ করে। এবং আগামীদিনে চীনের লালফৌজকে সমীহ করে। ভারতের বায়ুসেনা প্রধান আজ চীনের আগ্রাসনের পালটা বলেছেন, ভূটানের চাম্বি উপত্যকায় এখনও চীনের ফৌজ বসে আছে। চীনা ফৌজ পুরোপুরি বিতর্কিত এলাকা থেকে সরে যায়নি। চাম্বি উপত্যকা ওই ডোকা লা উপত্যকার একটি অংশ। বায়ুসেনা প্রধান আজ বলেছেন, চীনকে আমাদের আবার অনুরোধ ওই এলাকা ফাঁকা করে দিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আবার ঘোরালো হবে। আমাদের বাধ্য হয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রসর হতে হবে। আজ যেভাবে বায়ুসেনা প্রধান দু’টি ওয়ার ফ্রন্টেই যুদ্ধের জন্য ভারত প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন তাতে প্রশ্ন উঠছে, আপাত শান্তির আড়ালে কি তাহলে পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উত্তপ্ত? এবং আসলে ভারত আশঙ্কা করছে দুই সীমান্ত বরাবর চীন এবং পাকিস্তান একযোগেই ভারতকে আক্রমণ করতে পারে? কারণ, কিছুদিন আগেই সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতও ঠিক এই একই সুরে দু’টি ওয়ার ফ্রন্টেই ভারত শত্রুপক্ষের মোকাবিলায় তৈরি বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এবং সেই বিবৃতির পর চীন পালটা প্রতিক্রিয়া দেয়। সেই চাপানউতোরে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও জড়িয়ে পড়েন। গতকালই আমেরিকা একসঙ্গে চীন ও পাকিস্তানকে সমালোচনা করে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান যুদ্ধ-হুংকার দেওয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে ভারত কেন এত যুদ্ধপ্রস্তুতির উপর জোর দিচ্ছে? এটা কি নিছকই কূটনৈতিক চাপের কৌশল? নাকি সত্যিই পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের আকাশে আশঙ্কার মেঘ?

Advertisements