পশ্চিমবাংলার জেলায় জেলায় আইএস ঘাঁটি : নবান্নকে চিঠি কেন্দ্রের

ISIS-591990আইএস তৎপরতার বিষয় নিয়ে কী ভাবছে রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এমনই চিঠি দিয়ে জানতে চাইলো কেন্দ্র। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলা (মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া) র পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের এক অফিসার এই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে জানিয়েছেন, জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট খুব শীঘ্রই দিল্লিতে পাঠানো হবে।
চারটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যে রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ৭ জন জেএমবির শীর্ষ নেতা এখন লুকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এরা প্রত্যেকেই ভারত এবং বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ । শুধু এরাই নয়, এছাড়াও নয়া জেএমবির মাঝারি মাপের আরও প্রায় সাড়ে ছ’শো জেহাদি লুকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার একের পর এক জঙ্গিঘাঁটিতে হানা দিয়ে জেহাদিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতেই বাংলাদেশের মাটিকে আর তারা নিরাপদ মনে করছে না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নয়া জেএমবি জঙ্গিরা এখন আইএসের প্রচার চালাচ্ছে। ওই তিন জেলায় নয়া জেএমবির যে মডিউলগুলি রয়েছে, সেগুলি চাঙ্গা করে আইএসের হয়ে প্রচার কাজ চালানো হচ্ছে। সালাউদ্দিন, হাতকাটা নাসিরুল্লা, তালহা শেখ, কওসর ওরফে বোমারু মিজান, আমির সোহেল, আবু সুলেমান এবং শামিম গাজা এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গেই লুকিয়ে আছে, এমনটাই তথ্য পাওয়া গেছে।
এমনকি নয়া জেএমবি নেতৃত্ব তাদের মোডাস অপারেন্ডি বদলে ফেলেছে। আগে বাংলাদেশ সংলগ্ন মালদা এবং মুর্শিদাবাদে জঙ্গিরা চাষীদের দিয়ে আফিম চাষ করাতো। সেই আফিম বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে হেরোইন তৈরী করে আবার ভারতে ফেরত আসত। এটাই ছিল জঙ্গিদের অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে সহজ পথ। কিন্তু সম্প্রতি নার্কোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো আফিমের মরসুমে খেতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারপর থেকেই জঙ্গিরা কোচবিহারে একই পদ্ধিতে আফিম চাষ শুরু করেছে।
ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে জেহাদিরা স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। যে কোনও সময়ে বোরো ধরণের নাশকতা ঘটানোর ছক করতে পারে এরা। তবে পশ্চিমবঙ্গ যেহেতু এখনো পর্যন্ত জেহাদিদের জন্য তাই পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের অন্যকোনো রাজ্যে এখান থেকে গিয়েই নাশকতা ঘটাতে পারে তারা।