পশু হাটে গোমাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি কেন্দ্রর

cow_web.jpgশত চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত বেআইনি গোহত্যা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তাই গোহত্যা রুখতে এবার আরও কড়া আইন চালু করল কেন্দ্র। ২৬শে মে, শুক্রবার সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, পশু হাট বা পশু মেলায় বেআইনিভাবে আর পশুর মাংস বিক্রি করার অনুমতি মিলবে না। ধর্মীয় কারণে বলি দেওয়ার জন্য অথবা মাংস খাওয়ার জন্য গরু, মোষ, ষাঁড়, বলদ, বাছুরের মতো পশুগুলি এই বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
সাধারণত গ্রামাঞ্চলের পশু মেলায় এধরনের বেচা-কেনা বেশি হয়ে থাকে। বেআইনিভাবে সেই সব পশুর বিক্রি-বাটা বন্ধ করতেই কড়া হচ্ছে কেন্দ্র। তবে ছাগল ও ভেড়া এই আইনের আওতায় থাকছে না। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে ছাগল বা ভেড়া ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক চালই দেখছে বিরোধীরা। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসার পর থেকে শক্ত হাতে গোহত্যা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বেআইনি কসাইখানাগুলি। বিজেপি-র বক্তব্য ছিল, গরু, বাছুরদের মাংসের থেকেও অনেক দামী সম্পদ তাদের থেকে পাওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মাংস বিক্রেতারা। সরকারের আচমকা এমন সিদ্ধান্তে তাঁদের ব্যবসার চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই পশু হাটে বেআইনি মাংসের বিক্রি বন্ধের নয়া আইন চালু হয়েছে। যাকে সমর্থন জানিয়েছেন সমাজসেবীরা। পিপল ফর অ্যানিম্যালস-এর (পিএফএ) ট্রাস্টি গৌরি মৌলেখি বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই ভাবনা এবং পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। বেআইনি বাজারে মাংস বিক্রি বন্ধ হলে পশুদের পুনর্ব্যবহার করা যাবে। তাদের থেকে দুধের মতো পুষ্টিকর খাদ্য মিলবে। চাষের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যাবে। তাতে সকলেই লাভবান হবেন।” বিহারের সোনপুর, রাজস্থানের পুস্কর-সহ উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পশু হাটে এই আইন এখন বলবত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, আইনিভাবে মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে কসাইখানাগুলি সরাসরি খামার থেকে পশু কিনতে পারবে।

Advertisements