নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মোদী সরকারের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিল পাশ হলে নাকি সমাজে বিভাজন তৈরি হবে- এমনটাই দাবী করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অত্যাচারিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভারতে নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইনে যে সংশোধন আনার প্রস্তাব দিয়েছেন সেটাতে মুসলিমদের উল্লেখ না থাকায় দিদি গোসা করেছেন।

কিন্তু দিদি, ১৯৪৭ সালে এই দেশটাকে তো টুকরো করা হয়েছিল দ্বিজাতিতত্ত্বের মানে মুসলিমরা হিন্দুদের সাথে এই অপবিত্র, না-পাক জমিতে থাকতে পারবেন…া, এটা মেনেই, তাই নয়? সেই কারনেই মুসলিমরা তাদের জন্যে পাক জমি, পাকিস্তান গঠন করে। কিন্তু মুসলিমদের উদ্দেশ্য তো শুধু ভারতের এক-তৃতীয়াংশ জমির দখল নেয়া নয়, তাদের লক্ষ্য গোটা দেশ। তাই দেশভাগের ৭০ বছর পরে আজ ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের থেকেও বেশী।

উল্টোদিকে, পাক-রাষ্ট্র গঠন হওয়ার পর থেকেই সেখানে শুরু হয়েছিল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। উদ্দেশ্য একটাই- সম্পূর্ণ ইসলামিকরন। তাই দুইদেশ থেকে হিন্দু সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বাধ্য হয়েছে নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে আসতে। ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমপ্রান্তের হিন্দুরা কলমের এক খোঁচায়, রাতারাতি অন্যদেশের নাগরিক হয়ে গেল আর সেখানে অত্যাচারিত হয়ে যখন তারা তাদের নিজেদের ভারতে এল, তখন তারা পেল উদ্বাস্তুর তকমা।

এই অব্যবস্থা শেষ করতেই মোদীজীর সরকার নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন আনতে আগ্রহী কিন্তু সেই বিলে মুসলিমদের উল্লেখ না থাকায় মমতা দিদি সহ বাকি দলগুলির তাতে প্রবল আপত্তি। অর্থাৎ, মুসলিমদের আলাদা দেশও দেয়া হবে আবার সেখানে না থেকে ভারতে চলে আসলে বিশেষ মর্যাদাও দিতে হবে- এটাই দিদির দাবী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বছর খানেক আগে আসামে দাঙ্গার সময় মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা যখন উত্তরবঙ্গ দিয়ে এই রাজ্যে ঢুকছিল, তখন সরকারী পয়সায় তাদের খাতির করেছিল মমতা ব্যানার্জীর সরকার।

ইমাম ভাতা-মোয়াজ্জেন ভাতা, ঈদের জন্যে স্পেশাল রেশন, মহরমের জন্যে রথযাত্রার পথ বদল, মহরমের জন্যে দুর্গা পূজার বিসর্জনের দিন বদল, কাংলাপাহাড়িতে দুর্গাপূজা বন্ধের পরিকল্পনা, সরকারী জমিগুলিতে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বসতিস্থাপন এরকম অগুনতিভাবে মুসলিমদের তেল দিয়েও তো মুর্শিদাবাদ বা মালদার মত মুসলিমবহুল এলাকা থেকে নির্বাচনী সাফল্য পাননি মমতা ব্যানার্জী। তাঁর দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার একমাত্র কারন হিন্দুভোট। আর ক্ষমতা পেয়েই তিনি হিন্দুদের স্বার্থ বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়েছেন। দিদি, আপনি যদি সত্যিই বিভাজনের বিপক্ষে থাকেন তো পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ভারতের সাথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান, তখন অবশ্যই নাগরিকত্ব আইনে মুসলিমদের বিশেষ মর্যাদা দেয়ার দাবী মেনে নেবো। কিন্তু সেটা যদি না পারেন তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা সংশোধনীকে সমর্থন করুন আর আপনাকে যে হিন্দুরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে তাদের স্বার্থ ও সম্মানের প্রতি সুবিচার করুন।

—-  প্রসূন মৈত্র

Advertisements