চার পাক-ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনা

army-2_webনিহত সহযোদ্ধার মাথা কেটে নেওয়ার ঘটনায় চরম অপমানিত হয়েছিল ভারতীয় সেনা৷ ফুঁসছিল ক্ষোভে৷ এবার তার চরম প্রতিশোধ নিলেন জওয়ানরা৷ গত ২৯ অক্টোবর, শনিবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের কেরন সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় চারটি পাকিস্তানি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা৷ এই ঘটনায় একাধিক পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ উরির ঘটনার পর নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় বাহিনী পাক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল, এদিনের সেনা অপারেশনও সেই মাত্রায় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে৷ শনিবার রাতের অপারেশনে ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারী মর্টার ব্যবহার করেছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে৷ সাম্প্রতিকালে ভারতীয় সেনার এত বড় অপারেশন হয়নি৷ এদিনের অপারেশনে পাক সেনাবাহিনী ও তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তাও নজিরবিহীন৷ কূটনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা হল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের এক মাস পর ভারত দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের বিরু‌দ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল৷ কূটনীতির ভাষায় যা ‘হট পারস্যুট’ নামে পরিচিত৷ আগে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরু‌দ্ধে ভারত এতটা কড়া পদক্ষেপ করত না৷

শুক্রবার সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়াড়া সেক্টরের মাচিলে পাক সেনা ও জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ১৭ শিখ ইনফ্যাণ্ট্রির জওয়ান মনজিৎ সিংয়ের৷ ভারতীয় সেনার পাল্টা হামলার মুখে মনজিতের দেহ  বিকৃত করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যায় পাক জঙ্গি ও সেনারা৷ ধারালো অস্ত্রে তাঁর মাথা কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়৷ এর পরই তীব্র ক্ষোভের আঁচে ফুটতে থাকেন সেনা জওয়ানরা৷ উধমপুরে সেনার নর্দার্ন কম্যান্ড হেডকোয়ার্টার থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, খুব দ্রূত এই ঘৃণ্য ঘটনার উপযুক্ত জবাব পাবে পাকিস্তান৷ প্রশাসনের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়ার পর রাতেই বদলা নিল ভারতীয় সেনা৷

এদিকে শুক্রবারের নৃশংস ঘটনার পরও শনিবারও বিনা প্ররোচনায় হামলা জারি রাখে পাকিস্তান৷ জম্মুর আর এস পুরা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন হীরানগরে সাধারণ মানুষ এবং বিএসএফ পোস্ট লক্ষ্য করে লাগাতার মর্টার হামলা চলেছে৷ শুক্রবারও পাক হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক মহিলা-সহ ১৫ বছরের এক কিশোরের৷ দিনভর জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং মেন্ধের এবং মাচিল সেক্টরে হামলা চলেছে৷ এর মধ্যে মাচিলে পাক সেনা দাঁড়িয়ে থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল৷ কিন্তু ভারতীয় জওয়ানদের প্রতি আক্রমণের মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয় তাঁরা৷ সেই সময়ই সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ১৭ শিখ ইনফ্যাণ্ট্রির জওয়ান মনজিৎ সিংয়ের৷ ঘটনার সময় উপস্থিত সেনা আধিকারিকদের দাবি, জঙ্গিদের পালানোর সময় দূর থেকে লাগাতার গুলি চালিয়ে তাঁদের ‘কভার’ দিয়েছে পাকিস্তান রেঞ্জার্স৷ কিন্তু সরাসরি অনু্প্রবেশের নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম বা ব্যাট৷ সেনা সূত্রের খবর, এই ব্যাট বাহিনীতেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করে পাক সেনা ও জঙ্গিরা৷ মূলত নিয়ন্ত্রণরেখায় ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনার আগুন জ্বালাতেই এখন এই বাহিনীকে আরও বেশিভাবে সক্রিয় করেছে পাকিস্তান৷ প্রসঙ্গত, ২০১৩-তেও জম্মু-কাশ্মীরের মেন্ধর সেক্টরে একই কায়দায় নৃশংসভাবে এক ভারতীয় সেনার মাথা কেটে নিয়েছিল ব্যাট৷ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল এক জওয়ানের দেহ৷ সেই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান বিক্রম সিং জানিয়েছিলেন, এভাবে নিয়ম-নীতি লঙ্ঘিত হলে ভারতীয় সেনাও নিয়মের তোয়াক্কা করবে না৷ বস্তুত কয়েকদিনের মধ্যেই যোগ্য জবাব দিয়েছিল ভারত৷

 এদিনের গোলাগুলির ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের দাবি, শনিবার ভোর ছ’টা থেকে শুরু হয়েছে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের মর্টার হামলা৷ বেছে বেছে উপত্যকার গ্রামগুলিকে টার্গেট করছে তারা৷ ভারতীয় বাহিনীর সার্জিক্যাল অ্যাটাকের পর পাক বাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখায় একমাসে ১০০ বারের বেশি সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে৷ ভারতীয় বাহিনীর পাল্টা জবাবে ১৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে৷ তারপর থেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ঘনঘন হামলা হচ্ছে৷ পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনাও৷ এদিকে এদিনও মাচিল সেক্টরে ফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে ব্যাট৷ লড়াই চালানোর সময় হঠাৎই দুর্ঘনায় মৃত্যু হয়েছে এক বিএসএফ জওয়ানের৷ বিএসএফের আইজি কাশ্মীর বিকাশ চন্দ্র জানিয়েছেন, দূরপাল্লার অস্ত্র মজুদগারে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন কনস্টেবল নীতিন সুভাষ৷ দ্রূত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি৷

Advertisements