খড়দহে স্বর্ণঋণ সংস্থায় ভয়াবহ ডাকাতি, মহিলা গ্রাহককে গুলি

Khardah-Dacoity_webদক্ষিণের রেশ কাটতে না কাটতেই ডাকাত দলের হানা উত্তরে! গত ৮ই মার্চ, শনিবার সকালে স্বর্ণঋণপ্রদানকারী সংস্থার অফিসে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহে৷ ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত এক মহিলা গ্রাহক৷ ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী যায় ৷
সোনারপুরের ডাকাতির ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ডাকাত যোগ সামনে এসেছে৷ এখনও অধরা চক্রের মূল পান্ডা কাশেম৷ তার খোঁজে বাংলাদেশ পাড়ি দিচ্ছে পুলিশ৷ এই ঘটনার উত্তাপ কমতে না কমতেই ফের একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা৷ এবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বর্ণঋণপ্রদানকারী সংস্থার অফিসে৷ এদিন সকাল ৯টা ২০ নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহর জনবহুল অরুণাচল মোড়ে আইআইএফএল নামে ওই স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থার অফিস খোলা মাত্রই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে দুই সশস্ত্র ডাকাত৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সে সময় অফিসের মধ্যে ছিলেন মাত্র তিন জন কর্মী৷ পোশাক পরিবর্তন করছিলেন বছর পঞ্চাশের এক নিরাপত্তাকর্মী৷ রাস্তার উল্টোদিকে তিনটি বাইক রেখে অফিসের মধ্যে ঢোকে দুই ডাকাত৷ বাইরে রেইকি করছিল একজন ডাকাত৷ নিরাপত্তারক্ষীর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে এক কোণে নিয়ে যায় সে৷ ঠিক সেই সময় শর্বরী ঘোষ নামে এক গ্রাহক ঋণ শোধ করতে ওই অফিসে আসেন৷ তিনি ভিতরে ঢুকতে চাইলে তাঁকে বাধা দেয় বাইরে প্রহরারত ওই ডাকাত৷ ওই মহিলার সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয় ডাকাতের৷ এরপর জোর করেই ভিতরে ঢুকে পড়েন শর্বরী৷ সেসময় অফিসের ভিতরে অপারেশন চালাচ্ছিল ডাকাতদল৷
সিন্দুক লুঠ হচ্ছে দেখে চিকার জুড়ে দেন শর্বরী৷ সেসময় গুলি চালিয়ে নগদ টাকা বেশকিছু সোনা নিয়ে বাইকে চেপে চম্পট দেয় ডাকাত দলটি৷ গুলিটি মহিলার মাথা ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়৷ গুলির আওয়াজ শুনে ভিতরে ঢোকেন তিন স্থানীয় বাসিন্দা৷ গুরুতর আহত ওই মহিলাকে উদ্ধার করেন নির্মল দে নামে স্থানীয় এক রিকশা চালক৷ সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে প্রথমে বলরাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে পরে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷
ডাকাতির ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে আসে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা৷ আসেন পুলিশ কমিশনার সুব্রত মৈত্র, এডিসিপি ধ্রূবজ্যোতি দে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, একটি বাক্স ভেঙে নগদ টাকা লুঠ করে পালিয়েছে ডাকাত দল৷ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ গোটা কমিশনারেট এলাকা ঘিরে ফেলেছে পুলিশ৷ রহড়া বাজারের ওই এলাকা সংলগ্ন বিটি রোড ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচেছ৷ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ তবে বিটি রোডের দিকে একটি রেলগেট থাকায় ডাকাত দলের সেদিকে পালানোর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে পুলিশ৷ সেক্ষেত্রে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে বা যশোর রোড ধরে পালিয়ে থাকতে পারে ডাকাত দল৷
বছর পঞ্চাশের ওই নিরাপত্তারক্ষীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ ঠিক কত টাকা লুঠ হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি৷ নিরাপত্তারক্ষী জানিয়েছেন, ডাকাতরা হিন্দি ও বাংলা মিশিয়ে কথা বলছিল৷ সাধারণ পোশাকে ছিল তারা৷

Advertisements