কালো টাকায় করের উপর ২০০% জরিমানা

কালো টাকা রোধে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা হয়েছে৷ তবে বর্তমানে বাতিল ওই সব নোট ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে কেউ কর সংক্রান্ত রক্ষাকবচ উপভোগ করতে পারবেন না৷ বুধবার অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে কেউ কর সংক্রান্ত রেহাই পাবেন না৷ বরং এই টাকার উৎস সম্পর্কে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ অর্থমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, জমা টাকা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে উদ্বৃত্ত টাকার করের উপর ২০০ শতাংশ জরিমানা হবে৷

কেন্দ্রের মোদি সরকারের সংস্কার ‘অ্যাজেন্ডা’র অন্যতম প্রধান অঙ্গ কালো টাকা রোধে এর আগে দু’টি বড় ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছিল৷ প্রথমে বিদেশে গচ্ছিত গোপন সম্পত্তি ঘোষণা ও পরে দেশের অভ্যন্তরে থাকা গোপন সম্পত্তির ঘোষণা৷ প্রথমটিতে তেমন সাফল্য না মিললেও, দ্বিতীয়টিতে ‘বড় সাফল্য’ মিলেছে বলে কেন্দ্রের দাবি৷ নিয়ম অনুযায়ী কর ও জরিমানা নিয়েছে সরকার৷ উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়নি৷ ধারণা করা হয়েছিল, বড় নোট বাতিলের মাধ্যমে দেশে লুকিয়ে থাকা টাকা প্রকাশ্যে আনতে সরকারের এই পদক্ষেপে কর সংক্রান্ত তেমনই রক্ষাকবচ মিলবে৷ কিন্তু জেটলি তেমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন৷

জেটলি এদিন ডিডি নিউজ’কে বলেছেন, পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে ছোট ভাঙানি নোট বা নতুন নোট পাওয়া যাবে৷ কিন্তু এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার যে, এটা কোনও রক্ষাকবচমূলক প্রকল্প নয়৷ জমা করা টাকার উপর কোনও কর ছাড় মিলবে না৷ তিনি আরও বলেন, ওই অর্থ যদি বৈধ হয়, যেমন আগেই ব্যাঙ্ক থেকে তোলা হয়েছে, বৈধ ভাবে আয় করা হয়েছে ও সঞ্চয়ে রাখা হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে চিন্তার কোনও কারণ নেই৷ তবে তা অবৈধ হয়ে থাকলে, তার উৎস প্রকাশ করতে হবে৷ তা ঘুষের টাকা হলে নিশ্চয়ই সমস্যা হবে৷

জেটলি এদিন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পক্ষে জোরদার সওয়াল করে বলেন, “যে কোনও বড় সিদ্ধান্ত হঠাত্‍ করেই নিতে হয়৷ কালো টাকা ও জাল নোট আটকাতে এই সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল৷ রাজনীতি ও ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ দেশবাসীর জন্য অবশ্যই মঙ্গলকর৷” সমস্ত টাকা জমার ক্ষেত্রেই সচিত্র পরিচয়পত্র এবং প্যানকার্ডের নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷

এদিকে, কালো টাকা রোধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে নৈতিকভাবে সমর্থন করেও একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম৷ একইসঙ্গে এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন অ্যাখ্যা দিতেও নারাজ তিনি৷ বরং দাবি, এর আগে একাধিক সরকার এই পদক্ষেপের কথা ভেবেছে৷ তাঁর কথায়, “আমরা সরকারের উদ্দেশ্যকে সমর্থন করছি৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে, দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের হাতে বৈধ টাকাই রয়েছে৷ ব্যাঙ্ক খুললেই তাঁরা নোট খুচরো করতে যাবে৷ এই বিপুল চাপ ব্যাঙ্কগুলি কীভাবে সামলাবে এখন সেটাই দেখার৷”