কলকাতা-অমৃতসর এক্সপ্রেসে বোমা উদ্ধার, সঙ্গে লস্করের চিঠি

স্বাধীনতা দিবসের পাঁচদিন আগে কলকাতা-অমৃতসর অকালতখ্ত এক্সপ্রেসে উদ্ধার হল বোমা। তবে বিষয়টি আরও গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বোমার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া লস্কর-ই-তোইবার চিঠিতে। যাতে হিন্দিতে লেখা ছিল, ‘আবু দুজানার মৃত্যুর বদলা নেব। হিন্দুস্থানের মানুষ তৈরি থাকুন।’
গত ৯ই আগস্ট, বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা স্টেশন থেকে ছেড়েছিল এই সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরে পৌঁছায় ট্রেনটি। পরবর্তী স্টেশন লখনউ। কিন্তু তার আগেই লখনউ জিআরপি’র থেকে খবর পেয়ে সেটিকে দাঁড় করানো হয় আকবরগঞ্জ স্টেশনে। শুরু হয় বিস্ফোরকের খোঁজে গোটা ট্রেনে তল্লাশি। শেষমেশ একটি বাতানুকূল কামরার বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় প্যাকেটে মোড়া সুতলি বোমা। সঙ্গে দু’টি লাইটার এবং একটি চিঠি, যাতে দুজানা-হত্যার বদলা নেওয়ার কথা লেখা ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি সি দুবে বলেন, ‘বোমা নিষ্ক্রিয় করার পর ১টা ১৭ মিনিটে আকবরগঞ্জ স্টেশন থেকে অমৃতসরের উদ্দেশে রওনা করানো হয় অকালতখ্ত এক্সপ্রেসকে।’
তবে উদ্ধার হওয়া সুতলি বোমার থেকেও লস্করের ওই চিঠিটিকেই বেশি গুরত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। ১ আগস্ট পুলওয়ামায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারায় আবু দুজানা। লস্করের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই জঙ্গিনেতা শেষের দিকে যোগ দিয়েছিল আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ নামক জঙ্গি সংগঠনে। এই সংগঠনটি গড়েই কাশ্মীরে প্রভাব বিস্তার করার ছক কষছে আল-কায়েদা। এক সেনা আধিকারিকের দাবি ছিল, ‘মূলত টাকাপয়সা নিয়ে ঝামেলা এবং দুজানার স্ত্রীকে পাকিস্তানে অন্যত্র স্থানান্তরিত করায় লস্কর নেতৃত্বের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় দুজানার। যার ফল, সে নাম লেখায় আল-কায়েদার এই সংগঠনে।’ কিন্তু তারপরও যে দুজানার প্রতি লস্করের টান কমেনি, তার জ্বলন্ত প্রমাণ অকালতখ্ত এক্সপ্রেসে উদ্ধার হওয়া চিঠি। তাই এই ঘটনার পর লস্করের হুমকিকে মাথায় রেখে দেশ জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হচ্ছে।

Advertisements