উরি সেক্টরেই জবাব দিলো ভারতীয় সেনা, দিনভর সংঘর্ষে হত ১০ জঙ্গি

7ফের সন্ত্রাসবাদী হানার চেষ্টা হল উরিতে। কিন্তু এ বার প্রবল প্রত্যাঘাত ভারতীয় সেনার। আজ সকাল থেকে আক্রান্ত উরি সেক্টরেই শুরু হয় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ১০ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রবিবার ভোরেই উরিতে সেনা ব্রিগেডের সদর দফতর আক্রান্ত হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে আসা আত্মঘাতী জঙ্গিদের হামলায় ১৮ জওয়ানের মৃত্যু হয় উরি সেনা ছাউনিতে। সেনার পাল্টা অভিযানে চার আত্মঘাতী জঙ্গি খতমও হয়। কিন্তু সেই ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আজ, ফের জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হল সেখানে। সেনা সূত্রের খবর, এ দিন যে ভাবে জঙ্গিরা নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছে, তা সাম্প্রতিক অতীতে নজিরবিহীন। অন্তত ১৫ জন সন্ত্রাসবাদীকে এ দিন নিয়ন্ত্রণ রেখার এ পারে ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু পাল্টা প্রত্যাঘাতের জন্য পুরোদস্তুর প্রস্তুত ছিল ভারতীয় বাহিনী। ফলে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরবার সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ দিন তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে জঙ্গিদের। উরি সেক্টরের লছিপুরা এলাকা থেকেই সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের খবর এসেছে। ওই এলাকা দিয়েই মূলত অনুপ্রবেশের চেষ্টা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। লছিপুরায় ভারতীয় বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাত করেছে বলে প্রথম খবর পাওয়া যায় আজ বিকাল চারটে নাগাদ। অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে পাঁচ জঙ্গি সেনার গুলিতে নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বড় সাফল্যের কথা জানায় সেনাবাহিনী। লছিপুরায় গুলির লড়াইতে আরও তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আরও ২ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে। সেনাবাহিনীর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ১৫ জন জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছে।

একই দিনে ১৫ জনকে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করানোর চেষ্টাকে বড় ঘটনা হিসেবেই দেখছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অনুপ্রবেশের এই মরিয়া চেষ্টা বলে ভারত সরকার মনে করছে। লছিপুরা সহ উরি সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায় সেনা চিরুনি তল্লাশিতে নেমেছে। সন্ধ্যা নাগাদ হান্দওয়ারাতেও সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই শুরু হয়েছে বলে খবর। সংঘর্ষে এক জওয়ান জখম হয়েছেন।

Advertisements