হিন্দু সংহতির নবম বার্ষিকী কর্মীসভা সম্পন্ন হলো

কলকাতায় হিন্দু সংহতি’র দুইদিন ব্যাপী নবম বার্ষিকী বাৎসরিক কর্মশালাঃ হিন্দুদের দলমত নির্বিশেষে ফেসবুক-টুইট্যার ব্যাবহার করতে এগিয়ে আসার আহ্বান শ্রী তপন ঘোষের।

আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি’তে কলকাতায় মহার‍্যালীর ডাক দিয়ে শেষ হল এই বারের হিন্দু সংহতির নবম বার্ষিকী বাৎসরিক সমাবেশ তথা নিজস্ব কর্মশালা। উল্লেখ্য, এবছরে ১৭ ও ১৮ই ডিসেম্বরের এই দুইদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় শ’তিনেক হিন্দু সংহতির পুরুষ ও মহিলা, আংশিক এবং পুর্নকালীন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত বক্তারা পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক এই বঙ্গের দিকে দিকে ক্রমবর্ধমান লাভ জেহাদ, ইসলামিক আগ্রাসন ও তার প্রতিকারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসুচীও গ্রহণ করা হয়। বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হিন্দু সংহতির ভূমিকা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে উপস্থিত সকলকে অবহিত করা হয়।

সংহতি সভাপতি শ্রী তপন ঘোষ তার সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুনির্বিশেষে সকলকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সড়গড় হতে উপদেশ দেন। তার মতে, বিগত এক বছর ধরে “দৈনিক যুগশঙ্খ” নামক সংবাদপত্রটিকে ঘিরে আমাদের বুকে আশার সঞ্চার হয়েছিল। এই বাংলার বুকে তারাই একমাত্র হিন্দু নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এনে, এই পেশায় তাদের নিরপেক্ষতা ও পবিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করছিলেন। সেই কারনেই আমরাও ব্যক্তিগত ভাবে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই পত্রিকাটির প্রচার করে এর বিক্রি বহুগুন বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি তারাও তাদের প্রতিবেদনের ভাষা পরিবর্তন করে ‘গোষ্ঠীদ্বন্ধ’ বা ‘বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়’ তত্ত্বের অবতারনা করছেন। এবং বহু ক্ষেত্রেই তারা আর আগের মত হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষের খবর ছাপছেন না। এই প্রবণতাকে যুগশঙ্খ পেপারের উপর ‘ইসলামিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সঙ্গে তুলনা করে তপন বাবু আরো বলেন যে, এ মত অবস্থায় আমাদের হাতে তাই আর এমন কোন বিশ্বস্থ সংবাদ পত্র বা নিউজ চ্যানেল নেই, যারা হিন্দুর ব্যথায় সমব্যথী। তাহলে কি ভাবে আমাদের উপর ঘটে চলা নিরবিচ্ছিন্ন এই হিন্দু নির্যাতনের খবর আমরা পেতে পারি? এর উত্তর প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, আপনারা সকলেই এবার থেকে ফেসবুক এবং টুইট্যার হ্যান্ডেল করতে শিখুন। প্রয়োজনে যারা জানেন তারা, যারা জানেন না, সেই সব হিন্দুদের সাহায্য করুন। সত্য খবর জানতে এ ছাড়া আর আমাদের বিকল্প কোন পথই খোলা নেই। আর যারা অন্তত পয়সার অভাবে সেটুকুও করতে পারবেন না, তাদের একমাত্র কর্তব্য হবে, গ্রামে বা শহরে যে সমস্থ বন্ধুদের কাছে এনড্রয়েড ফোন আছে, তাদের কাছে গিয়ে দিনের মধ্যে অন্তত একবার হলেও গিয়ে ফেসবুক বা টুইট্যারে সেদিনের ঠিক কি কি খবর আছে, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে অবহিত হওয়া। এতে যেমন একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির ডিজিট্যাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন সফল হবে, তেমনি অন্যদিকে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার পাশাপাশি সমাজে নিজেদের সার্বিক অবস্থানের গুরুত্বপুর্ন পর্যালোচনাটি করতেও অনেক সুবিধা হবে। এছাড়াও আত্মরক্ষার বিষয়ে প্রভূত সচেতনতা বাড়াতেও এই উদ্যোগটি গ্রহন করা বিশেষ প্রয়োজন বলে জানিয়ে শ্রী ঘোষ উপস্থিত সকল যুবক ও যুবতীদের একান্ত আহ্বান জানান।

এছাড়াও সভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য্য সহ শ্রী চিত্ত দে, শ্রী দেবদত্ত মাজি, শ্রী ব্রজেন রায়, শ্রী ঋদ্ধিমান ব্যানার্জী, শ্রী সুজিত মাইতি এবং শ্রী সমীর গুহরায় ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সম্মানীয় পদাধিকারীবৃন্দ। তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব অমুল্য বক্তব্যের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে তাদের মুল্যবান বিচারধারা ব্যক্ত করেন।

Advertisements