কাটোয়ায় ক্লাবে বিস্ফোরণ , খাগড়াগড়ের ছায়া

সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কাটোয়ার শ্রীবাটি গ্রামের একটি ক্লাব বিস্ফোরণে উড়ে গেলো৷ ঘটনায় মৃত্যু হয় লালমহম্মদ শেখ (৭০) শেখ নামে এক বৃদ্ধের৷ সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ক্লাবের সামনে একটি বসার কংক্রিটের মাচার তলায় আরও দুই ড্রাম সকেট বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হওয়া ৩২টি সকেট বোমা নিষ্ক্রিয় করে সিআইডির বম্ব-স্কোয়াড৷ পাঁচ দফায় নিষ্ক্রিয় করা হয় ওই বোমাগুলি৷ তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সকেট বোমাগুলিতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামোনিয়াম সালফেটের মতো শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল৷ নিহত লালমহম্মদ শেখের স্ত্রী কাটোয়া থানায় জামির আলি মণ্ডল, আমির আলি মণ্ডল ও মতি মণ্ডলের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ তাদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ তবে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে৷ ধৃতদের সূত্রেই পুলিশ জানতে পারে, শ্রীবাটি গ্রামে সম্প্রতি বাইরের লোকের আনাগোনা শুরু হয়েছিল৷

কাটোয়ার বোমায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের থেকেও প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল৷ উদ্ধার হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করার পর রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মঙ্গলবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে সিআইডি৷

দু’বছর আগে বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে খাগড়াগড় থেকে ঠিক যে ধরনের সকেট বোমা উদ্ধার হয়েছিল, সোমবার কাটোয়ার শ্রীবাটি থেকেও ওই ধরনেরই সকেট বোমা পাওয়া গিয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে খবর৷ পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার না করলেও, বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেরা করছে৷ ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মতি মণ্ডল এদিন জেরায় স্বীকার করেছেন, বাইরের  বেশ কিছু লোক আসা-যাওয়া করত৷ তারাই বোমা তৈরি করেছিল৷ তৈরি হওয়ার পর এই বোমাগুলি বাইরে পাচার করার কথা ছিল৷ তবে মতির এই বক্তব্য এখনও সরকারিভাবে জানায়নি পুলিশ এবং সিআইডি৷

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কারা আসত বাইরে থেকে? কোথা থেকে আসত? এবং কোথায়ই বা  পাচার করার কথা ছিল বোমাগুলি? এমনই প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা৷

কাটোয়ার শ্রীবাটি গ্রামে খাগড়াগড়ের মতোই বাইরের লোকের আনাগোনা ছিল৷ সেখানে বোমাও বানানো হত৷ আর তার থেকেই এই ঘটনায় জেএমবির যোগ থাকার একটি সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা৷ যদিও তদন্তকারীরা এখনই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ৷ বর্ধমানের কাটোয়ার এসডিপিও শচীন মাকড়া এদিন জানান, তদন্ত চলছে৷ এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি৷

সিআইডি ও পুলিশের তদন্ত তো চলছে৷ পাশাপাশি গোটা ঘটনার উপর এনআইএ-রও নজর রয়েছে বলে সূত্রের খবর৷ কারণ, বছর দেড়েক আগে জেএমবি যোগের সূত্রে কাটোয়া শহরের এক ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েছিলেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক৷ অন্যদিকে ঘটনাস্থল শ্রীবাটির কাছেই মঙ্গলকোটের কৃষ্ণবাটি ও শিমুলিয়া গ্রাম৷ কৃষ্ণবাটির বাসিন্দা ইউসুফ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের অন্যতম মূলচক্রী৷ শিমুলিয়ার মাদ্রাসাতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত বলেও সে সময় তদন্তে উঠে এসেছিল৷