২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর দিতে হবে ইন্টারনেটে : নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

imageএফআইআর দায়ের করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা পুলিশের ওয়েবসাইটে ‘আপলোড’ করতে হবে বলে সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আজ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি সি নাগাপ্পানের বেঞ্চ আজ জানিয়েছে, অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত যাতে আদালতে যথাযথ আবেদন করতে পারেন, সে জন্য এফআইআরের প্রতিলিপি ওয়েবসাইটে ‘আপলোড’ করা প্রয়োজন। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ওই নিয়ম চালু হবে। ‘ইউথ লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি আবেদন করেছিল। তাতে দিল্লি হাইকোর্টের তরফে এফআইআর ‘আপলোড’ করার নির্দেশের উল্লেখ ছিল। সেই আবেদনের শুনানির সময় শীর্ষ আদালত আজ জানিয়েছে, কোনও রাজ্যের পুলিশের ওয়েবসাইট না থাকলে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে এফআইআরের প্রতিলিপি ‘আপলোড’ করতে হবে।

অবশ্য বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বেঞ্চ জানিয়েছে, অনুপ্রবেশ, জঙ্গিহানা, যৌন হেনস্থা বা শিশুদের যৌন নিগ্রহের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এফআইআর ওয়েবসাইটে না দিলেও চলবে। তবে কোনও ক্ষেত্রে অভিযুক্তের সঙ্গে ‘যোগসাজশে’ পুলিশ এফআইআর ‘আপলোড’ না করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিচারপতিরা জানিয়ে দিয়েছেন, তেমন হলে ওই মামলার অভিযুক্ত বা অভিযুক্তেরা কোনও আইনি সুবিধা (জামিন সংক্রান্ত) পাবেন না।

সিকিম এবং মিজোরাম প্রশাসনের তরফে হাজির আইনজীবীরা সে সব রাজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট পরিষেবার বেহাল দশার প্রসঙ্গ আদালতে তোলেন। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা দুর্বল থাকলে সেখানকার পুলিশ ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা সময় পাবে। সেই সময়সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা হতে পারে। এফআইআর ‘আপলোড’ না করার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র পুলিশের ডেপুটি সুপার বা সমমর্যাদার কোনও পদাধিকারীই নিতে পারবেন।

বেঞ্চ জানিয়েছে, সংবেদনশীল মামলাগুলির এফআইআর ‘আপলোড’ না করার বিষয়ে কারও অভিযোগ-অনুযোগ থাকলে তিনি নিজের পরিচয় জানিয়ে পুলিশ সুপার বা সমমর্যাদার পদাধিকারীর কাছে আবেদন করতে পারবেন। তিন দিনের মধ্যে সেই আবেদন খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের দল গড়বেন পুলিশ সুপার।

ঘটনাচক্রে, এফআইআর ‘আপলোড’ সংক্রান্ত নির্দেশের দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ক’টি থানায় কম্পিউটার পরিষেবা রয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশে কমপক্ষে ১৫ হাজার থানা রয়েছে। তবে থানাগুলিতে কম্পিউটার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও সঠিক তথ্য নেই। তিনি অবশ্য বলেন, ‘‘কম্পিউটার না থাকলেও স্মার্টফোন থেকে এফআইআর আপলোড করা যাবে। এছাড়া, পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের দফতরেও থানার আধিকারিকেরা এফআইআরের প্রতিলিপি পাঠাতে পারেন।’’