হিন্দু মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাঙ্গীপাড়া, চলল পুলিশ ও র‍্যাফের টহলদারী

2eda2102-6a37-4be4-9247-cf5265de6361দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে রাস্তার কিছুটা অংশ আটকে আল্পনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দু মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাঙ্গীপাড়া। গত ১৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে জাঙ্গীপাড়া থানার দিলাকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের নিকাশগ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে জাঙ্গীপাড়ার নিকাশগ্রামের নিকাশ যুবক সংঘের দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য প্রস্তুতি চলছিল। গ্রামবাসীরা প্রতিমা বেদি থেকে নামিয়ে বরণ করার প্রস্তুতি করছিল। সেই সময়ে গ্রামের কিছু মহিলা রাস্তার কিছুটা অংশ আটকে আল্পনা দিচ্ছিল। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্যে পাশেই কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। ওই সময়ে ওই গ্রামেরই কয়েকজন যুবক একটি মোটর বাইকে চেপে ওই আল্পনার ওপর বাইকের স্ট্যান্ড রেখে দাঁড়িয়ে পড়েন। এই নিয়ে শুরু হয় বচসা। সেই বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। বাইক আরহীরা তখনকার মত ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেও কিছুক্ষণ পরে তারা অস্ত্র শস্ত্র সহ প্রায় একশো লোকজন সঙ্গে করে নিয়ে এসে নিকাশ যুবক সংঘের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। ভেঙে দেওয়া হয় দুর্গা প্রতিমা। মারধরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি নিরঞ্জনে অংশ গ্রহণকারী শিশু ও মহিলারা।

এই ঘটনার পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন উত্তরপাড়ার সিআই অসিতবরণ কুইলা। এরপর উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফের শুরু হয় ব্যাপক লাঠিচার্জ। এই ঘটনায় কমবেশি পুজো কমিটির প্রায় ত্রিশজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। এদের মধ্যে কমিটির প্রতিনিধি রাধিকাপ্রসাদ হাজরা গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই অবস্থায় তাকে জাঙ্গীপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মাথায় প্রায় পঁচিশটি সেলাই পড়েছে বলে এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে। অবস্থা বেগতিক বুঝে পুলিশ জোড় করে দুর্গা প্রতিমা পাশের একটি পুকুরে নিরঞ্জন করে দেন বলে অভিযোগ।

নিকাশ যুবক সংঘের কয়েকজন সদস্য বলেন, প্রতিমা নিরঞ্জন করার জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এলাকার মহিলারা গ্রামে ঢোকার রাস্তার কিছুটা আটকে আল্পনা দিছিল। কেন রাস্তা আটকে আল্পনা দেওয়া হছে এই নিয়ে বচসা বাধে এরপর শুরু হয় হাতাহাতি। তারপর গ্রাম থেকে শোড, লাঠি ও আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের লোকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় একাধিক প্রতিমা। এরপর পুলিশ এসে ওদের কিছু না বলে আমাদের ওপর অতর্কিতে মারধর শুরু করেন। আমাদের অবস্থা এখন শাঁকের করাতের মত। শুক্রবার সকাল থেকেই নিকাশগ্রামের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছিল পুলিশ ও র‍্যাফের টহলদারী। গ্রামের কয়েকটি মোড়ে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।