হাওড়ার ধুলাগড়ে জেহাদি তান্ডব

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পঞ্চগ্রামের শঙ্কর ভুঁইয়ার মত ধুলাগড়ের আশিষ খাঁড়াও শাষকদলের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বহু সভায় জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েছেন। দিদির রাজত্বে হিন্দু-মুসলিমরা যে একসাথে শান্তিতে বসবাস করছে সে কথা মনেপ্রানে বিশ্বাস করতেন। আশেপাশের গ্রাম থেকে মুসলিম অত্যাচারের খবর টুকটাক কানে আসলেও তিনি সেগুলোকে বিরোধীদের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিতেন।

কিন্তু গত ২৪শে জুন, ২০১৫ তারিখে শঙ্কর ভূঁইয়া ও গ্রামের অধিবাসীদের শান্ত জীবনযাত্রা মুহূর্তের মধ্যে ছারখার হয়ে গেল যখন এক মুসলিম অটোচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাদের পাশের গ্রাম বাসুলডাঙ্গা থেকে হাজার হাজার মুসলিম এসে সারা গ্রাম জুড়ে তান্ডব শুরু করল। হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তারীর পরেও মুসলমানদের তান্ডবে কোন বিরাম দেখা গেলনা। তারা একের পর এক বাড়ি লুট করতে লাগলো এবং লুট শেষে সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দিল। বসতবাড়ি, ধানের গোলা, আসবাবপত্র, সঞ্চিত অর্থ, বাসনপত্র – কিছু লুট হল আর বাকি সব কিছুক্ষনের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখার গ্রাসে ছাইয়ে পরিনত হল।

যে পুলিশের ভরসায় গ্রামবাসীরা নিজেদের নিরাপদ ভাবছিল,আক্রমনের সময় সেই পুলিশের টিকিও খুঁজে পেলনা গ্রামবাসীরা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে এতদিন ধরে বক্তৃতা দিয়ে আসা শঙ্কর ভূঁইয়া ও তার আত্মীয়দের বাড়িগুলিও আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলনা। দিদির পার্টির সদস্য হয়ে সে নীরবে দেখল যে তারই দলের বাসুলডাঙ্গার মুসলিম সদস্যরা, যাদের সাথে এতদিন ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন করে এসেছে, তারা তাকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে তার সর্বস্ব লুটেপুটে নিল। এমনকি পার্টির পতাকাটার প্রতিও কোন রেয়াত করলনা, সেটাকেও ছুঁড়ে ফেলে দিল।

বেলাশেষে যখন পুলিশ আসল, পঞ্চগ্রাম তখন প্রায় শ্মশানের রূপ নিয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ পুরুষই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। রাজনৈতিক ঝান্ডা বয়ে বয়ে বেঁকে যাওয়া শিরদাঁড়া মুসলিম আক্রমনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারেনি। প্রতিটি গলির দুই পাশে আধপোড়া বাড়িগুলি যেন প্রশাসনের কর্তাদের দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গের ছলে হাসছে। আর গোটা গ্রামের নিস্তব্ধতা যেন চিৎকার করে জানিয়ে দিচ্ছে যে সম্মিলিত মুসলিম আক্রমনের সামনে রাজ্যের সর্বক্ষমতাসম্পন্ন স্বয়ং দিদিও কত অসহায়।

একই অভিজ্ঞতা হল ধুলাগড়্রের আশিষ খাঁড়া যখন তার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করা তার “সংখ্যালঘু ভাইয়েরা” গত ১০ই ডিসেম্বর জ্বালিয়ে দিল তার বাড়ি, লুটে নিল যাবতীয় সম্পত্তি। শুধু তার বাড়ি কেন, পরিকল্পিত জেহাদি আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল গোটা ধুলিগড়। দিশেহারা প্রশাসন অসহায় হিন্দুদের তিল মাত্র নিরাপত্তা দিতে পারলনা। অবশেষে যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হল ততক্ষনে ধুলাগড় প্রায় শ্মশানে পরিণত হয়েছে। ধুলাগড় বুঝলো যে জেহাদিরা কখনও হিন্দুর বন্ধু হতে পারেনা। পঞ্চগ্রামের পরে ধুলাগড়ও দেখলো যে সম্মিলিত মুসলিম আক্রমনের সামনে রাজ্যের সর্বক্ষমতাসম্পন্ন স্বয়ং দিদিও কত অসহায়।

Advertisements