স্কুল ভাঙচুরের ঘটনায় সাসপেন্ড বাগুইআটি থানার এসআই

babuihati-schoolস্কুল মেরামতির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোদমে ক্লাসও শুরু হয়ে যাবে৷ দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাও কার্যকর হতে শুরু করেছে৷ স্কুল ভাঙচুরের ঘটনার জেরে সাসপেন্ড করা হল বাগুইআটি থানার সাব ইন্সপেক্টর তমাল সরকারকে৷
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত শনিবার (১৮ই ফেব্রুয়ারী)৷ বাগুইআটির রাজারহাট রোডে দশদ্রোণ এলাকায় লীলাবতী মেমোরিয়াল স্কুলে সেদিন পরীক্ষা ছিল৷ কিন্তু পড়ুয়া ও অভিভাবকরা স্কুলে এসেই হতবাক হয়ে যান৷ রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয়েছিল প্রায় গোটা স্কুল৷ আর এর নেপথ্যে ছিল প্রমোটার চক্রের হাত৷ জানা যায়, ওই স্কুলের জমির মালিক বাপি মণ্ডল মিজানুর রহমান নামে এক প্রমোটারের কাছে স্কুলের জমিটি বিক্রি করে দেয়৷ জমিটি কেনার পরই স্কুল কর্তৃপক্ষকে উঠে যেতে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ স্কুল কর্তৃপক্ষ পাশে একটি জমি কিনে স্কুল সরানোর জন্য ওই প্রোমোটারের কাছে কিছুটা সময় চায়৷ কিন্তু সেই সময় দিতে রাজি হয়নি মিজানুর৷ রাতে প্রায় সত্তর-আশি জন নিয়ে স্কুলে ঢুকে পড়ে মিজানুর৷ স্কুলের ছাদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়৷ পরদিন সকালে স্কুল ভাঙা হচ্ছে দেখে প্রধান শিক্ষক বাধা দেন৷ অভিযোগ, তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়৷
ঘটনার পরই রাজারহাট রোড অবরোধ করে স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবকরা৷ কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসে বাগুইআটি থানার পুলিশ৷ পুলিশ ওই প্রোমোটারকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে৷ পরে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভাঙচুর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি৷ দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন৷ গ্রেফতার করা হয় বাপি মণ্ডল, মিজানুর রহমানকে৷ অভিযোগ ভাঙচুরের ঘটনায় বাপিকে পরোক্ষে মদত দিয়েছেন এসআই তমাল সরকার৷ স্কুল ভাঙা হবে সেই কথা নাকি আগে থাকতেই জানতেন তিনি৷

Advertisements