সেনাকে মারার ছক, ৩ লস্কর জঙ্গির ফাঁসি

xxxxxxxxxxxx কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপরে আক্রমণের ছক কষেছিল তারা। পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বিএসএফের তৎপরতায়। ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে ধরা পড়ে লস্করের আত্মঘাতী বাহিনীর চার জঙ্গি। বিচার চলাকালীন পালিয়ে যায় একজন। এখনও সে অধরা। বাকি তিনজনকে শনিবার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বনগাঁ আদালতের বিচারক।

এ দিন বনগাঁ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক ওয়ান) বিনয়কুমার পাঠকের এজলাসে তোলা হয়েছিল তিনজনকে। সোমবারই তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। এ দিন সকলকে ফাঁসির আদেশ শোনান তিনি। বনগাঁ আদালতের মুখ্য ভারপ্রাপ্ত সরকারি আইনজীবী তথা মামলা সরকারি কৌঁসুলি সমীর দাস বলেন, ‘‘দেশদ্রোহ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ধারায় তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সেনাবাহিনীর উপরে হামলা চালাতেই এ দেশে ঢুকেছিল ওরা।’’

২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে মহম্মদ ইউনুস, শেখ আবদুল্লা, মুজাফ‌্ফর আহমেদ রাঠৌর, এবং শেখ নঈম ওরফে সামিরকে আটক করে বিএসএফ। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। ২০০৭ সালের জুন মাসে চার্জশিট জমা পড়ে। ২০১২ সালের জুলাই মাসে শুনানি শুরু হয়। তার আগেই অবশ্য মুম্বই নিয়ে যাওয়ার পথে ছত্তীসগঢ়ে ট্রেন থেকে পালায় মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা সামির।

২০০৬ সালে মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় সামিরের সরাসরি যোগ ছিল বলে অভিযোগ। বেঙ্গালুরুতে নার্কো অ্যানালিসিস টেস্ট হয়েছিল তার। পাক নাগরিক জনৈক আমজাদের সঙ্গে ইন্টারনেটে যোগাযোগ। সেই সূত্রেই জঙ্গি দলে হাতেখড়ি হয়

ওই যুবকের। কিছু দিন কলকাতাতেও ঘাঁটি গেড়েছিল।

বাকি তিন জঙ্গিকে এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে কমান্ডো পাহারায় বনগাঁয় আনা হয়। সওয়া ২টো নাগাদ তোলা হয় এজলাসে। বিচারক রাঠৌরের কাছে জানতে চান, তার কিছু বলার আছে কিনা। রাঠৌর বলে, ‘‘দশ বছর ধরে জেল খাটছি। মাঝের সময়টায় পরিবারের উপর দিয়ে অনেক ঝড়ঝাপ্টা গিয়েছে। জঙ্গি সন্দেহে আমাকে গ্রেফতার করায় দাদাকে চাকরিতে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।’’ উৎসুক আইনজীবীদের ভিড়কে খানিকটা অবাক করে দিয়ে রাঠৌর বলে, ‘‘আমাকে দেশের জন্য কিছু কাজ করতে দেওয়া হোক। সব থেকে কম সাজা দেওয়া হোক।’’

বিচারক নিরুত্তর ছিলেন। বাকি দু’জনকে বৃহস্পতিবারই স্বপক্ষে বলার সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। সে দিন ইউনুস এবং আবদুল্লা দু’জনেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিল।

বেলা ২টো ৫৬ মিনিটে বিচারক তিনজনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। এজলাসে তিনজনকেই

ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে চোখ মুছতে দেখা যায় আবদুল্লাকে।

তিন সাজাপ্রাপ্তের আইনজীবী সুব্রত বসু বলেন, ‘‘সিআইডির তদন্তকারী অফিসার আদালতে জানিয়েছিলেন, এদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের কোনও অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’’

Advertisements