সংখ্যালঘু স্কলারশিপের আবেদনের সময়সীমা আরও একমাস বাড়ল দুই বর্ধমানে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সংখ্যালঘু স্কলারশিপে আবেদনপত্র গতবারে মোট উপভোক্তার তুলনায় কম। বেশকিছু জেলায় এরকম ঘটনা ঘটনায় পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের আবেদন করার সময়সীমা আরও একমাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও আবেদনের সময়সীমা বাড়তে পারে বলে পূর্ব বর্ধমানের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার অব মাইনোরিটি অ্যাফেয়ার্স শামস তিবরেজ আনসারি জানিয়েছেন।

গত বছর অবিভক্ত বর্ধমানে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ পেয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৪০২৩জন। পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপে উপভোক্তার সংখ্যা ১৬ হাজার ১০০। এবছর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের দুটি ক্যাটাগরিতে আবেদনের সময়সীমা ধার্য ছিল। দুই বর্ধমানে প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী। গত বারের তুলনায় ৩০ হাজার কম। আবার পোস্ট ম্যাট্রিকে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১৫ হাজার। গত বছরের তুলনায় এক হাজার কম।

গত দু’-আড়াই মাস ধরে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের জন্য আবেদনপত্র জমা চলছে। গত বছরের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম কেন তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রী পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে, নাকি স্বেচ্ছায় অনেকে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করছেন না সেটাই এখন প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবেদন করার ক্ষেত্রে যাতে কেউ বাদ না পড়েন সেজন্য আরও একমাস সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে বর্ধমানে সংখ্যালঘু কমিশনের বৈঠক হয়। সেখানে কমিশনের চেয়ারম্যান আবু আয়েশ মণ্ডল সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপে আবেদনপত্র সংগ্রহ করার উপর বিশেষ জোর দিতে নির্দেশ দেন। দুর্গাপুজোর সময় স্কুল খোলা রেখে ওই আবেদনপত্র নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। যার জেরে নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়। তা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গত বছরের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম। এনিয়ে কারণ খোঁজা হবে বলেও জেলা সংখ্যালঘু দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisements