মুর্শিদাবাদে হাসপাতাল থেকে পালালো মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী লালু আনসারী

গত ১৮ই সেপ্টেম্বর, সোমবার মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শৌচাগারের জানালা ভেঙে পালাল মাদক ও অস্ত্র মামলায় বিচারাধীন এক বন্দি। তার নাম লালু আনসারি(২২)। ভরতপুর থানা এলাকায় তার বাড়ি। বন্দি পালানোর ঘটনায় হাসপাতালের জেল সেলের ইনচার্জ অসীম সূত্রধরকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কারা দপ্তর।

জেল সুপার টি আর ভুটিয়া বলেন, ওই বন্দি পালানোয় হাসপাতালের জেল সেলের ইনচার্জ ও গার্ডকে প্রথমে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে কারা দপ্তরে জানানো হয়। দপ্তরের নির্দেশে এদিন বিকালে সেলের ইনচার্জকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই বন্দির সম্পর্কে পুলিশকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। বহরমপুর থানার আইসি শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, জেল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিয়ে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই বন্দির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। জেলার প্রতিটি থানাকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের জেল সেলে ভরতি হয় ওই বন্দি। হাসপাতলের তিন তলার সেলে এদিন ভোরে সে শৌচাগারে যায়। শৌচাগারের বাইরে জেলের এক গার্ড মোতায়েন ছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের পর ডাকাডাকি করেও তিনি ওই বন্দির সাড়া পাননি। কোনও রকমে দরজা খুলে শৌচাগারে গিয়ে তিনি দেখেন, ওই বন্দি উধাও। শৌচাগারের জানালা ভাঙা। এই খবর চাউর হতেই জেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেন বহরমপুর পুলিশ অফিসাররা। তাঁরা ঘটনাস্থলের ছবি ক্যামেরা বন্দি করেছেন।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, সিনেমার কায়দায় বাথরুমের জানালা ভাঙার পর গ্যাস পাইপ বেয়ে ওই বন্দি নীচে নেমে পালিয়েছে। প্রসঙ্গত, ন’মাস আগে আদালতের নির্দেশে ওই বন্দি বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আসে। জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক ও অস্ত্র পাচারের আইনে ওই বন্দিকে গ্রেপ্তার করে ভরতপুর থানার পুলিশ। ভরতপুর থানার বিনোদীয় এলাকায় তার বাড়ি। ২০১৬সালের ২৬ডিসেম্বর থেকে সে জেলে ছিল।

Advertisements