মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র সহ কলকাতায় গ্রেপ্তার হল ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের চাঁই মহঃ জাহিদ হোসেন

AK1পশ্চিমবঙ্গ যে মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা আবার প্রমাণিত হল মহম্মদ জাহিদ হোসেনের গ্রেপ্তারে। গত ২ জুলাই, বুধবার রাতে কলকাতা রেল স্টেশন থেকে মহম্মদ জাহিদ হোসেনকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তার কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকার জাল নোট, একে-৪৭ রাইফেলের ৪০টি গুলি, ডিটোনেটরের তার, ব্যাটারি, কিছু সিমকার্ড, মোবাইল এবং বিস্ফোরক মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইএম এবং সিমি-র বেশ কিছু সদস্যের ফোন নম্বরও জাহিদের মোবাইলগুলি থেকে মিলেছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি। এসটিএফের বক্তব্য, বাংলাদেশে ইকবাল ভটকলের প্রধান ‘লিঙ্কম্যান’ ছিল এই জাহিদ। ইকবালের নির্দেশ মতো ঢাকার মীরপুরে ঘাঁটি গেড়ে অন্তত দশ বছর ধরে সে আইএম-এর কাজকর্ম চালাত। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভারতের নানা জায়গায় বিস্ফোরক ও জাল নোট সরবরাহের সে-ই অন্যতম মাথা।

এই জাহিদ হোসেন জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন (আইএম)-এর প্রধান ইকবাল ভটকলের ঘনিষ্ঠ অনুচর। বাংলাদেশে আইএম সংগঠনের এক নম্বর লোক সে। বিস্ফোরক ও জাল নোট পাচারে তার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ করছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার জাহিদকে ব্যাঙ্কশাল আদালতের চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে তোলা হয়। বিচারক ১৬ জুলাই পর্যন্ত জাহিদকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহ, নোট জাল করা ও বেআইনি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনআইএ-ও তাকে জেরা করতে পারে।

গোয়েন্দাদের অনেকের মতে, ৫৭ বছরের জাহিদ আদতে বাংলাদেশি, নদিয়া সীমান্তে চুয়াডাঙ্গায় তার আসল বাড়ি। আবার এক গোয়েন্দা অফিসারের কথায়, জাহিদ পাকিস্তানিও হতে পারে। তবে সে যে ঘন ঘন বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে গিয়ে ইকবাল ভটকলের সঙ্গে দেখা করত, সে ব্যাপারে নিঃসংশয় হয়েছে এসটিএফ। গোয়েন্দারা বলছেন, ধরা পড়ার কিছু ক্ষণ আগেও সে ফোনে আইএম-প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছে। পাকিস্তানে ভারতীয় জাল নোটের সব চেয়ে বড় কারবারির সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

পুলিশ জেনেছে, নদিয়ার আনোয়ার হোসেন মল্লিকের মাধ্যমে বিস্ফোরক পাঠাত জাহিদ। আনোয়ার কলকাতায় এসে সেই বিস্ফোরক তুলে দিত আইএম-এর তদানীন্তন ‘অপারেশনাল চিফ’ ইয়াসিন ভটকলের হাতে। গোয়েন্দাদের একাংশের ধারণা, এই বিস্ফোরক দিয়েই ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে পুণের জার্মান বেকারিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জাহিদকে জেরা করে বিস্ফোরক পাচারের বিষয়ে নতুন একটি তথ্য জেনেছে পুলিশ। এর আগে ২০০৯-এ বাংলাদেশ থেকে দু’বার ১৫ কেজি করে বিস্ফোরক আসার খবর স্বীকার করেছিল আনোয়ার বা ইয়াসিন। কিন্তু জাহিদ পুলিশকে জানিয়েছে দু’বার নয়, ২০০৯ সালেই সে আরও এক বার ১৫ কেজি বিস্ফোরক পাঠিয়েছিল আইএম-কে। অর্থাৎ শুধু ২০০৯ সালেই তিন দফায় বাংলাদেশ থেকে বিস্ফোরক এসেছিল ভারতের আইএম-এর কাছে। আর তা পাচার হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ হয়েই।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s