ভালবাসার নামে চূড়ান্ত প্রতারণা; বিয়ের প্রায় ২ বছর পরে স্ত্রী জানলো স্বামী হিন্দু নয়, মুসলমান

মানস জানা। বয়স ২৮। পূর্ব রানাঘাটা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন। এই রকম পরিচয় দিয়েই Love_Jihad_1-compressedসে প্রেমের ফাঁদে ফেলল ২২ বছরের মেয়েটিকে। মেয়েটি পরিবেশ বিজ্ঞানের স্নাতক। দক্ষিন বারাসাত ধ্রুবচাঁদ হালদার কলেজে এম. এ. পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছে সবে। কলেজে যাতায়াতের সময় জয়নগর স্টেশনে দেখা হত প্রায়ই। ধীরে ধীরে প্রেম। মানস বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তাকে বলল অভিভাবকদের সাথে কথা বলতে।

ছক কষা ছিল আগে থেকেই। মানস দেখা করলো মেয়েটির বাবার সাথে। মেয়ের বাবাও অশিক্ষিত মানুষ নন, পেশায় একটি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি স্বভাবতই মানসের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে চাইলেন। মানস বলল, তার বাবা-মা অন্য একটি মেয়েকে পছন্দ করে রেখেছেন তার জন্য। তাই তাঁরা এই বিয়েতে মত দেবেন না। সুতরাং দেখা করে লাভ নেই। বরং জ্যাঠার সাথে দেখা করা যেতে পারে। অগত্যা জ্যাঠার বাড়িতে যাওয়া হলো। জ্যাঠার সাথে কথা বলে সন্তুষ্ট হলেন মেয়ের অভিভাবকরা। কিন্তু তারা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না যে এ জ্যাঠা আসল নয়, নকল, সাজানো জ্যাঠা।

এবার ছেলের কাজকর্ম সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে হয়। মেয়ের বাবা নির্দিষ্ট দিনে মানসের স্কুলে পৌঁছে গেলেন। ইউসুফ মোল্লা, সি.পি এম-এর স্থানীয় নেতা নিজেই সেজে গেলেন স্কুলের হেড মাস্টার! আগে থেকেই সবকিছু ম্যানেজ করে রেখেছিলেন এই Love_Jihad_4-compressed1মোল্লাসাহেব। মেয়ের বাবা মানসকে নিজের চোখে দেখলেন ক্লাসরুমে ছাত্র পড়াতে। নকল হেডমাস্টার মোল্লাসাহেবও ভূয়সী প্রশংসা করলেন মানসের। সুতরাং সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। শুধু শিক্ষকদের রেজিস্টার দেখা হল না। দেখতে চাইলে ইউসুফ মোল্লা বললেন নিরাপত্তার কারণে সব খাতাপত্র স্কুলের সেক্রেটারীর বাড়িতে রাখা আছে। পরে একদিন দেখানো যাবে। এই নাটকটা মেয়ের বাড়ির লোকেরা বুঝতে পারল না। ইউসুফ মোল্লার দাপট এতটাই যে, স্কুলের আসল হেডমাস্টার থেকে শুরু করে অন্য কোন শিক্ষক বা কর্মচারীদের ক্ষমতা ছিল না ইউসুফের কথা অমান্য করে। গোটা স্কুল সেদিন এক নাটকের রঙ্গমঞ্চে রুপান্তরিত হয়েছিল ইউসুফ মোল্লার পরিকল্পনায়।

মেয়ের বাবা আর খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না। হয়তো ভেবেছিলেন, চাকরিজীবি পাত্র পাওয়া গেছে, সময় নষ্ট করলে পরে পস্তাতে হবে। অতএব শুভস্য শীঘ্রম। ২৭ জুন, ২০১২ তারিখে রেজিস্ট্রি হয়ে গেল। এখানেও সেটিং ! মানসের কোন রকম সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়াই রেজিস্ট্রি হয়ে গেল। জানা গেছে ডক্যুমেন্ট হিসাবে মানস রেশন কার্ড এবং মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিল, যার কোনটিতেই ছবি থাকে না। ছেলে পক্ষের কোন সাক্ষীও উপস্থিত ছিল না রেজিস্ট্রির সময়। কিন্তু তাদের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়ে গেল!

পরে আনুষ্ঠানিক বিয়ে হল। এই অনুষ্ঠানেও মানসের কোন আত্মীয়-স্বজন আসে নি। বিয়ের পরে জয়্নগরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করলো স্বামী-স্ত্রী। এরপর একে একে মেয়েটির সোনার অলংকার বন্ধক দিতে শুরু করলো মানস। মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন অথচ বন্ধক দেওয়া গহনা ছাড়ানোর কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না – কোন ভাবেই হিসাব মেলাতে পরছিল না Love_Jihad_6-compressed1মেয়েটি। এভাবেই সন্দেহের সূত্রপাত। এবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করলো মানস। মেয়ের বাবা ৪০ হাজার টাকা দিলেন তার দাবি অনুযায়ী। কিন্তু চাপ বাড়তেই থাকলো। একদিন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল মেয়েটির। মানসকে চেপে ধরা হলো। মেয়েটির এবং তার পরিবারের এই চাপের সামনে ভেঙ্গে পড়ল মানস জানা। বিয়ের এক বছর আট মাস পরে নিজের আসল পরিচয় যখন সে নিজের মুখে প্রকাশ করলো, মেয়ের মাথায় তখন আকাশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।  মানস বলল যে সে মানস নয়, ওসমান। ওসমান আলি। বাবা আবদুল গনি সেখ।  সে হিন্দু নয়, একজন মুসলমান। বাড়িতে তার বিবি আছে, সামশেদ বিবি। সে দুই ছেলে আর এক মেয়ের বাবা। তাদের বয়সও ১৮-র বেশি! ওসমান পরিচালিত একটি এন.জি.ও – র কাগজপত্র থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা তার এই স্বীকারোক্তিকেই সত্য বলে প্রমাণিত করে। সেই জ্যাঠার বাড়ি এবং সেই স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে সবই সাজানো।

এই ঘটনা কোন সাধারণ ঘটনা নয়। এ এক গভীর ষড়যন্ত্র। বিশাল এবং সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে এর পিছনে। তা না হলে এতবড় নাটক সাজানো যায় না, উপযুক্ত কাগজ ছাড়া রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করা যায় না। এই চক্র এভাবেই হিন্দু মেয়েদের প্রতারিত করে যৌন শোষণ করে চলেছে। মেয়েটির বাবা পঞ্চায়েতে নালিশ করে কোন বিচার পান নি। মন্দিরবাজার থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাঁকে আপসে মীমাংসা করে নিতে পরামর্শ দিয়েছে। এ সমস্ত কিছুই একটি চক্রের উপস্থিতির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে বলে সকলের ধারণা। ওসমান এখনও এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমনকি মেয়েটিকে এবং তার পরিবারের লোকেদের হুমকি দিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মেয়েটির একমাত্র দাবি প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s