বাংলাদেশী গো-পাচারকারীদের হামলায় নিহত আর.পি.এফ জওয়ান

গত ১৫ই মে এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটা থানার সীমান্তঘেঁসা আংড়াইল-ঘোষপাড়া। বাংলাদেশী গো-পাচারকারীদের হামলায় নিহত হলেন আমাদের আর. পি.এফ. জওয়ান নির্মল ঘোষ (৪০)। দুষ্কৃতিদের আক্রমণে মারাত্মক জখম তাঁর দাদা পরাণ ঘোষ বর্তমানে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
Nirmal Ghosh_
ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন ? স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ইছামতী নদী পেরিয়ে প্রায় শ’দুয়েকেরও বেশি বাংলাদেশি দুষ্কৃতি এপারে এসে ধারাল অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে আর পি এফের শিয়ালদহ শাখার কনস্টেবল নির্মল ঘোষ কে। তাঁর দাদা পরাণ ঘোষ ও তাদের হাত থেকে রেহাই পান নি। বর্তমানে তিনি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁকেও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে দুষ্কৃতিরা। তাঁর মাথায় চারটি সেলাই পড়েছে।পরিবারের মহিলাদেরও অশালীনভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। বনগাঁর এস ডি পি ও মীর শাহিদুল আলির রুটিন বয়ান,“দুষ্কৃতিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।”
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে ইছামতী পেরিয়ে ওপারের পুটখালি থেকে এপারের আংড়াইলে পাচারের উদ্দেশে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতিরা। গ্রামবাসীদের বাড়ির উপর দিয়েই যাতায়াত করে তারা। প্রতিবাদ করা অসম্ভব। ১৪ই মে বুধবার রাতে ওই গ্রামের বাসিন্দা নির্মলবাবুর বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে তারা তাঁর মোবাইল ফোন চুরি করে। এদিন হাসপাতালে পরাণ ঘোষ পুলিশকে জানান, তিনি এলাকার কিছু বাংলাদেশি পাচারকারীকে চেনেন। ফোন চুরি হওয়ার পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তাদের কাছে চুরি যাওয়া ফোনটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তারা তাঁকে জানায়, বাংলাদেশের ওই দুষ্কৃতিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বুধবারই রাত দশটা নাগাদ পরাণবাবুর বাড়ির সামনে লাঠি নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় দু’জন। পরাণবাবুর চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন ছুটে আসেন। একজনকে ধরে ফেলে সবাই, অন্য জন পালায়। ধৃত ব্যক্তির ফোন থেকে ফের বাংলাদেশি পাচারকারীদের ফোন করে সিমকার্ড ফেরত দিতে বলেন পরাণবাবু। তাঁরা তাকে জানায়, তারা সিম ফেরত দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি তাঁকে এ-ও জিজ্ঞাসা করে, যাকে ধরে রাখা হয়েছে, সে কোথায় ? পরাণবাবুর দাবি, অন্য যে দুষ্কৃতি পালিয়েছিল, সে-ই বাংলাদেশে গিয়ে পাচারকারীদের খবর দিয়েছিল। এর পরে রাত ১১ টা নাগাদ ইছামতী পেরিয়ে ওপার বাংলা থেকে প্রায় শ’দুয়েকেরও বেশি সশস্ত্র মুসলমান দুষ্কৃতি এপারে আসে। ততক্ষণে নির্মলবাবুও ঘটনাস্থলে চলে এসেছিলেন। অন্ধকারের মধ্যে দুষ্কৃতিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরাণবাবুর মাথায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারতে থাকে তারা। তিনি কোনও রকমে পালান। নির্মলবাবুকে তখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় আংড়াইল বি এস এফ ক্যাম্পে।কিন্তু বি এস এফ জওয়ানেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই পালায় দুষ্কৃতিরা। নির্মলবাবুকে খুঁজতে শুরু করেন তাঁর দাদা ও এলাকার বাসিন্দারা। একটি গর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। এলাকার মানুষ দু’জনকেই বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা নির্মলবাবুকে মৃত ঘোষণা করে বলেন, মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে। রাতেই গাইঘাটা থানার ওসি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় এলাকায় তদন্ত করতে যান। নির্মলবাবুর স্ত্রী, আট বছরের মেয়ে ও পাঁচ মাসের ছেলে আছে। পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাঁদের দাবি, এলাকারই কেউ নির্মলবাবুকে চিনিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতিদের। খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা স্থানীয় রামনগর রোড অবরোধ করেন বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধ ওঠে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতিরা চলে আসে এপারে। অতীতে বি এস এফের সঙ্গে পাচারকারীদের সংঘাত হয়েছে। মেয়েদের উপরেও অত্যাচার করেছে তারা। বাসিন্দাদের দাবি, গুলি চালানো নিয়ে বি এস এফের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরেই দুষ্কৃতিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। ২১ মে স্থানীয় পুলিশ ও বি এস এফকে নিয়ে একটি সভা ডেকেছিলেন বাসিন্দারা। গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ধ্যানেশ নারায়ণ গুহ বলেন, “ওই এলাকায় সীমান্তে কাঁটা তার না দেওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব না”।images
পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্ত এলাকাগুলিতে গরু-পাচার এক সংঘটিত অপরাধমূলক শিল্পে (Organized Crime Industry)পরিণত হয়েছে। বিগত কয়েক দশকের শেষে এই অপরাধ বর্তমানে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। “রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ” হবার এই কর্মযজ্ঞের প্রধান পুরোধা হল সীমান্ত লাগোয়া মুসলমান জনগোষ্ঠী। এদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে স্থানীয় কিছু কর্মহীন ডাকাবুকো বেকার হিন্দু এজেন্ট। পাশাপাশি BSF এর গুলি চালাবার অধিকার হরণ করে, তাদের নপুংসক শিখণ্ডী দাঁড় করিয়ে চলে কাঁচাটাকার (কমিশনের) হরির-লুঠ। কে নেই সেখানে – প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সব্বাই এখানে সামিল। ফলতঃ এলাকাগুলি পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের মুসলমান দুষ্কৃতিদের মুক্ত অভয়ারন্যে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সীমাহীন নির্লজ্জ মুসলিম তোষণ, তাতে প্রতিনিয়ত ঘৃতাহুতি দিয়ে চলেছে। ফলে আইনরক্ষকদের হাতে সুরক্ষিত এই দুস্কৃতিদের হাতে এখন কোটি কোটি টাকার পাহাড়। বিপদে পড়ছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় সাধারন খেটেখাওয়া হিন্দু মানুষ। স্থানীয় হিন্দু মহিলাদের ও ইজ্জত-আব্রু নিয়ে প্রায়শই চলছে টানাটানি। এই নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হলেও, ইছামতী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে, কিন্তু দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের ভয়ে এবং সেই ভাবে জনসচেতনা সংঘটিত না হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতির কিছুমাত্র পরিবর্তন (উন্নতি) সাধিত হয় নি। চোখে লঙ্কা ডলে, কপারসালফেট (CuSo4) খাইয়ে, বড় বস্তা সেলাইয়ের ছুঁচ ফুটিয়ে যেভাবে সর্বসাধারণের সামনে দিয়ে দিবালোকে নিত্যদিন গোধন পাচার চলে, তা দেখে অনেকেই চোখের জল সামলাতে পারেন না। কিন্তু এক্ষেত্রে মরমে মরা ছাড়া আর গতি কী ? তার উপর দুষ্কৃতকারীরা সহজেই ওপার বাংলায় পালিয়ে যেতে পারে বলে তাদের ধরা পড়ারও কোন ভয় থাকে না।তাইতো এই দস্যুরা এখানে স্থানীয় নিরীহ হিন্দুদের প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করার ভয় দেখায়। জনসমক্ষে বলে,- “টাকা রাখবি ব্যাঙ্কে, গরু রাখবি ক্যাম্পে, বউ-মেয়ে রাখবি কোথায়?” প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে প্রতি রাতের হানাদারদের হাত থেকে গরুগুলিকে রক্ষা করার জন্য অনেকেই তাদের এই প্রিয় পোষ্যদের প্রতি সন্ধ্যায় স্থানীয় BSF Camp-এ গিয়ে বেঁধে রেখে আসতে বাধ্য হন। গ্রামের মানুষ, যাদের অনেকেরই ঘরে কোন Electric Fan না থাকা সত্ত্বেও বাইরে খোলা হওয়ায় শোবার কোন জো নেই।এই গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহের সময়েও রাতে ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে অসহ্য গরমে অনিদ্রায় ছটফট করতে হয়। সব চেয়ে করুণ অবস্থা স্থানীয় হিন্দু রমণীদের।শতকরা ১০০ ভাগ নিরাপত্তাহীনতা তাদের নিত্যসঙ্গী। দেশ এবং দেশবাসীর নিরাপত্তা তথা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোষ করে সরকারের প্রকাশ্য মদতে পরিপুষ্ট ভয়ানক এই পাচারকার্য, আধুনিক পৃথিবীর মানচিত্রে এক বিরলতম ঘটনা।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রে শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, বিজেপির এক শক্তিশালী সরকার নির্বাচিত হওয়ায় এলাকার বহু মানুষ ইতিমধ্যে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। দেখা যাক দিল্লীর ঐ বদলে, এখানকার কোন পরিস্থিতি বদলায় কিনা?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ স্বরূপ আগামী ২৪শে মে, শনিবার বৈকাল ৩ ঘটিকায় হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শন করবেন।তৎসহ ওইদিনেই আংড়াইল-ঘোষপাড়ায় অনুষ্ঠিত হবে একটি প্রতিবাদ সভা। হিন্দু সংহতির স্থানীয় প্রতিনিধিস্বরূপ শ্রীঅজিত অধিকারী মহাশয় ইতিপূর্বেই ক্ষতিগ্রস্থ ও সন্ত্রস্ত পরিবারটির সঙ্গে দেখা করে, শোকসন্তপ্ত দের প্রতি সমবেদনাজ্ঞাপন করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে যেকোন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে থাকার সর্বাঙ্গীণ অঙ্গীকার করেন। (তথ্যসূত্রঃ নিজস্ব সংবাদদাতা)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s