বহরমপুরে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ৫

এ দিনই কলকাতায় বসে অমিত শাহ অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে এখন শুধু বোমা তৈরির কারখানা চলছে। আর সেদিনই মুর্শিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্রের খোঁজ পেল পুলিশ। আর এই ঘটনায় জড়িয়ে গেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নামও।
এই ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডোমকলে পুরসভা ভোটের আগেই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার চিন্তিত মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। ধৃতদের বুধবার (২৬শে এপ্রিল) আদালতে পেশ করা হয়। তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে খড়গ্রাম থানার পুলিশ মোরগ্রামের কাছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে সাইদুল শেখ নামে একজন কে গ্রেফতার করে। সে খড়গ্রামের এরোয়ালির বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত সইদুল তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। গত বছর তার বাড়িতে একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, তার বাড়িতে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। তার কাছ থেকে একটি কার্বাইন, একটি ডিবিবিএল, একটি রাইফেল, ছ’টি সেভেন, এমএম পিস্তল, সাতটি পাইপগান ও ৫০টি গুলি উদ্ধার হয়। গ্রেফতার করা হয় গাড়ির চালক সাফর আলিকে। সেও খড়গ্রামের বাসিন্দা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে লালবাগ এলাকার বাসিন্দা দু’জনের নাম উঠে আসে। রাতেই তল্লাশি চালিয়ে লালবাগ থেকে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটো পাইপগান উদ্ধার হয়।
রাতেই কান্দির চাঁদনগর তল্লাশি চালিয়ে গাফর শেখ নামে একজনকে ধরা হয়। তার কাছে একটা ডিবিবিএম, দুটো সেভেন এমএম ও তিনটে পাইপগান উদ্ধার হয়। জেলা পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ জানান, ‘অনেকদিন থেকেই সাইদুলের খোঁজে তল্লাশি চলছিল। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা ওকে ধরি। মুঙ্গের থেকে একটা বলেরো গাড়িতে প্রচুর অস্ত্র নিয়ে আসছিল সে। সব মিলিয়ে মোট ২৪ টি অস্ত্র উদ্ধার ও ৫০ টি গুলি উদ্ধার হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জেরায় সাইদুল স্বীকার করেছে, মুঙ্গের থেকে আনা অস্ত্রগুলি স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। সম্প্রতি ধুলিয়ান থেকেও বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়। নির্বাচনের আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র কারবারি
গ্রেফতারের ঘটনায় কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলাবাসীর। পুরোভোটেও কি তবে বিধানসভা ভোটের মতো বলি হতে হবে সাধারণ মানুষকে? আশঙ্কায় রয়েছেন বাসিন্দারা।
‘এবার বাংলা’! মমতার তোষণের রাজনীতি তুলে ধরেই বাংলা দখলের চ্যালেঞ্জ অমিতের যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি এবং মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূল নেতা সৌমিক হোসেনের অবশ্য দাবি, ধৃত সইদুলের সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীর দাবি, ‘ডোমকলে পুরভোটের আগে তৃণমূল অস্ত্রের আমদানি করে সন্ত্রাস তৈরির চেষ্টা করবে, আমরা আগেই সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। এই ঘটনায় প্রমাণিত হল, পুরভোটের আগে দুষ্কৃতীদের হাতেই দলের রাশ তুলে দিতে চাইছে তৃণমূল।’