পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সংহতির কর্মীকে মারধোর, ভাঙচুর

৩০শে জুন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিল কোলাঘাটের হিন্দু সংহতির যোদ্ধা, অনুপম মন্ডল। রাস্তায় আনিসুর মল্লিক ও তার দুইজন বন্ধু অকারণে অনুপমকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক কথা বলে, তার পরিবার নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যও করে তারা। অনুপম তাদের কথার প্রতিবাদ করায়, বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। এরমধ্যেই আনিসুর ভোজালি বের করে অনুপমের হাতে আঘাত করে। চিড়ে যায় অনুপমের আঙুল। প্রাথমিক ঝটকা সামলে অনুপম আক্রমণকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে এবং তাদের হাতের ভোজালি কেড়ে নিয়ে তাদেরকেই আক্রমণ করে। প্রতিআক্রমণের ফলে আনিসুর ও তার সঙ্গীরা সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয় আর Kolaghat Hindu Samhati-র অনুপম আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে।
না, ঘটনা এখানে শেষ নয়, বরং শুরু। আনিসুর মল্লিক তার সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০ লোক নিয়ে রাত দশটা নাগাদ অনুপমের বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির লোকদের তুমুল গালিগালাজ করার সাথে সাথে ইঁটবৃষ্টি হতে থাকে অনুপমের বাড়িতে। স্থানীয় কোলাঘাট থানায় খবর দিলে জনৈক সাব-ইন্সপেক্টর কতিপয় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছান কিন্তু দুই শতাধিক উন্মত্ত জেহাদি জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাদের ছিলনা। বরং জেহাদিদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে সেই অফিসার স্বয়ং আহত হন।
এরপর কোলাঘাট থানার OC-র নেতৃত্বে আরও বড় পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌছায় কিন্তু এলাকার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে তারা অনুপম ও তার পরিবারকে তাদের বাড়ি ছেড়ে কোলাঘাট থানায় আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেন। কোলাঘাট থানায় যাবার পথে পুলিশ ফের তাদের মত বদলায় এবং কোলাঘাট থানাও অনুপমদের জন্যে নিরাপদ হবেনা মনে করে তাদের সরাসরি তমলুক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তমলুক থানায় পৌছানো মাত্রই অনুপমকে হাজতে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে, রাত তিনটে নাগাদ, পুলিশ প্রহরায় পরিবারের বাকি সদস্যদের বাড়িতে ছেড়ে এসে হয় এবং তাদের নিরাপত্তার জন্যে বাড়িতে জনাকয়েক সিভিক পুলিশও নিয়োগ করা হয়।
অনুপম ও তার পরিবার জেহাদি আক্রমণের নিশানা হওয়া সত্ত্বেও সেই অনুপমকেই গ্রেপ্তার করলো পশ্চিমবঙ্গের মহান পুলিশ। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তার বিরুদ্ধে IPC-র 307 ধারায়, অর্থাৎ, হত্যার প্রচেষ্টা যেটা কিনা জামিন অযোগ্য অপরাধ, কেসও দায়ের করলো কোলাঘাট থানার পুলিশ।
অনুপমের বিরুদ্ধে কেস দায়ের করলেও, অনুপমের উপর এবং তার বাড়িতে যারা হামলা করলো, পুলিশ অফিসারকে আহত করলো তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু কোন কেস করেনি কোলাঘাট থানার পুলিশ। তাদের যুক্তি, তাদের কাছে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নন্দীগ্রাম থেকে কোলাঘাট, মুসলমানদের পদলেহন করতে ব্যস্ত পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ প্রশাসন বোধহয় ভুলে গেছে যে ভারতে, আমেরিকার ধাঁচের আইন প্রচলিত নয় যেখানে পুলিশকে কেস করতে হলে অভিযোগকারী থাকা আবশ্যক বরং আমাদের দেশে ব্রিটিশ আইন অনুসরণ করা হয় যা অনুসারে কোন অপরাধের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। এক্ষেত্রে একজন পুলিশ অফিসার আহত হওয়ার পরেও কোলাঘাট থানার কোন suo motu বা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেনি যদিও তাদের কাছে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার খবর ছিল।
অবশেষে, গতকাল অনুপমের স্ত্রী, সান্ত্বনা মন্ডল কোলাঘাট থানায় একটি অভিযোগপত্র দেয় যেটায় আনিসুর মল্লিক সহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয় যার ভিত্তিতে একটি FIR-ও করা হয় কিন্তু মজার ব্যাপার হল যে নিরপরাধ অনুপম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ যে তৎপরতা দেখিয়েছিল তার সিকিভাগও আনিসুর মল্লিক ও তার দলবলের ক্ষেত্রে দেখা যায়না। তাই অভিযোগ দায়ের করার ২৪ ঘন্টা পরেও আনিসুররা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্য চোকাতে অনুপম হাজতে আটক আছে।