নৈহাটি থানার হাজিনগরে মহরমের মিছিল থেকে হিন্দুদের উপর হামলা

নৈহাটি থানার অন্তর্গত হাজিনগর পেপার মিল চৌমাথায় হিন্দুদের উপর হামলা চালায় জেহাদিরা। হিন্দুদের বাড়ি, দোকান ভাঙচুর চালায় । নয়াবাজার এলাকা থেকে দলে দলে মুসলিমরা গিয়ে আক্রমণকারীদের সাথে যোগ দেয় বলে খবর পাওয়া গেছে ।

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অন্তর্গত প্রায় প্রতিটা থানা থেকে পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী এবং RAF এনে কোনরকমে ধামাচাপা দেয়া হয় হাজিনগরে মুসলিমদের তাণ্ডব। এলাকার বিধায়কের উপস্থিতিতে, বিনা বাধায়, কয়েক ঘন্টা ধরে হিন্দুদের সম্পত্তি ভাঙচুর ক’রে জেহাদিরা। যে দুইএকটা পকেটে হিন্দুরা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে সেখানেই পুলিশ তাদের আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে বহুদূরে আটকে দেয়া হয়েছে যানবাহন। ব্যারাকপুর থেকে কাঁচরাপাড়া বাসরুট দুইদিক থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেহাদী সন্ত্রাসের সামনে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন। তবে আগামীকালের খবরের কাগজে এই খবর দেখার আশা করবেননা। আর যদি কিছু দেখতেও পান তাহলেও সেটা হবে- “হাজিনগরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে”।

গতকাল ৯টা থেকে থানা অবরোধ করে হিন্দুরা। প্রচুর মহিলা, যাদের গতরাতে শ্লীলতাহানি করেছিল, অবরোধে সামিল হয়েছেন। এলাকার হুকুমচাঁদ জুটমিল সহ সব দোকানপাট বন্ধ। এই বিভীষিকার আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি হাজিনগর। গতকাল ঐ রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখলাম যে গরুরফাড়ি আর হাজিনগর কোনা মোড়- দুটি প্রবেশপথেই রয়েছে যথেষ্ট পুলিশ প্রহরা। এই দুইটি জায়গার মধ্যে দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার, কিন্তু এই লম্বা রাস্তায় পথচারীর সংখ্যা হাতে গোনা যায়। নয়াবাজারের আগেপাছে বাস রাস্তার উপর বেশ কয়েকটি তাজিয়া ও রাস্তার পাশে বড় বড় পতাকা টানানো থাকলেও একজন মুসলিমেরও দেখা পেলামনা। কিছুদূর অন্তরই পুলিশদের জটলা। হাজিনগর পোস্ট অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি জলকামানের গাড়ি। নিমতা, দমদম ইত্যাদি থানার স্করপিও গাড়ি দেখে বোঝা গেল যে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অন্তর্গত প্রায় সব থানা থেকেই পুলিশবাহিনী আনা হয়েছে। রাস্তার মাঝে মাঝেই পড়ে আছে ভাঙা কাঁচের টুকরো। রাস্তার আশেপাশের বেশ কয়েকটি দোকানের কোলাপসেবল শাটার পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশদের বিভিন্ন দলকে এলাকার বিভিন্ন গলির টহল দিতে দেখা গেল। কোনার মোড় থেকে হালিসহরের দিকে কিছুটা আসতেই, নেলসন রোড, যেটিকে ববি হাকিমের বয়ান অনুযায়ী “মিনি পাকিস্তান” বলা যায়, সেখানে প্রায় সাত-আটটি পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে পুলিশ এবং RAF বাহিনীর উপস্থিতি বেশ উল্লেখজনক।

Advertisements