“তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে” : যাদবপুরের দেশবিরোধী স্লোগানকে ব্যাঙ্গালোরের টেকনোক্রাটদের চ্যালেঞ্জ

গত শনিবার ১৭ই সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর প্রখ্যাত মিথিক সোসাইটি হলে “অ্যাওকেন্ড বেঙ্গল” আয়োজিত আলোচনাসভা ছিল তথ্যপ্রযুক্তিক এবং চিন্তাশীল মানুষের ভিড়ে ঠাসা l অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদীপ প্রজ্বলন আর দীপায়ন ব্যানার্জীর গিটারের স্ট্রিংয়ে দেশপ্রেমের অনুরণন সকলকে বুঝিয়ে দিল বাঙালী আধুনিকতার ফ্যুশন এর সাথে ভারতীয় ট্র্যাডিশনকেও সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে l গ্রুপের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে তথ্যপ্রযুক্তিক শ্রী অধিরাজ লাহিড়ি বলেন যখন দিল্লীর JNU থেকে  “ভারত কি বরবাদীর” স্লোগান উঠেছিল তখন সারা দেশ  স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলো l কিন্তু সেই একই দেশবিরোধী স্লোগান যখন একদা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শোনা গেল, বাঙালী হিসেবে লজ্জায় আমাদের মাথা নত হয়ে গেল l কলকাতার রাস্তায় কাশ্মীরি সন্ত্রাসীদের সমর্থনে মোমবাতি মিছিল বের হলে নিজের শহর কোলকাতাকে ভীষণ অচেনা মনে হয়েছিল l মনে প্রশ্ন জাগলো, এই কি সেই বাংলা যা একসময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রদূত ছিল? এই কি সেই রাজ্য যা ছিল ভারতের নবজাগরণের পথপ্রদর্শক? ভারতের জাতীয়তাবাদের বীজমন্ত্র বন্দেমাতরম থেকে শুরু করে জাতীয়সঙ্গীত “জন গণ মন অধিনায়ক” আর স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনোত্তর ভারতে দেশবাসীর শিরায় স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টিকারী উদ্ঘোষ “জয় হিন্দ” তো তিনজন বিশ্ববন্দিত বাঙালীরই দান! একসময় এই বাংলাই তো ছিল ভারতীয় জাতীয় চেতনার রিসার্চ ল্যাবরেটরীl তাহলে বাঙালী কেন আজ দিকভ্রষ্ট? বাংলা কি আজ জাতীয়তার মূলস্রোত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন? সেই জিজ্ঞাসা থেকে, কিছুটা আত্মসমীক্ষা করে বাংলাকে জাতীয়তার মূলস্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রতিজ্ঞা নিয়েই পথচলা শুরু অ্যাওকেন্ড বেঙ্গল গ্রুপের l তথ্যপ্রযুক্তির রাজধানী বেঙ্গালুরু শহরের বেশকিছু বাঙালী তথ্যপ্রযুক্তি ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, লেখক ও সামাজিক কর্মী এগিয়ে এসেছেন বাংলার এই বামপন্থী এবং জিহাদী মদতপুষ্ট জাতীয়তাবিরোধী বাতাসকে কলুষমুক্ত করতে l

“জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও ভারতের জাতীয় সংহতি” শীর্ষক এই আলোচনাসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে “হিন্দু সংহতির” প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট সোশ্যাল এন্টারপ্রেনার শ্রী তপন ঘোষ বলেন যে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনই ছিল ১৯৪৭ এ দেশভাগের প্রধান কারণ l সারা পৃথিবীকেই এই জনসংখ্যাতত্ব একটি কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন করে তুলেছে l  ২০১১ এর আদমসুমারি রিপোর্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভারতবর্ষ অদূর ভবিষ্যতে আবার এক বড়সড় বিভাজনের সম্মুখীন হতে চলেছে l কাশ্মীরের পর এইবার পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা সহ উত্তরপূর্ব ভারতের আরো কয়েকটি রাজ্য এবং দক্ষিণের কেরালার জনবিন্যাস আমাদের জাতীয় সংহতিকে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে l
তিনি আরো বলেন যে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তনের মুখ্য কারণই হল কয়েক দশক ধরে চলে আসা বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশ l সেকুলারিজমের অজুহাতে ভোটব্যাংকের রাজনীতি দেশের পক্ষে আত্মহননকারী হয়ে উঠেছে l অন্যদিকে মুসলিমদের বর্ধিত জন্মহারও এর জন্য ভীষণভাবে দায়ী l যা কেবলমাত্র অভিন্ন দেওয়ানী আইন প্রণয়নে কখনোই বাধাপ্রাপ্ত হবেনা l তাই  অভিন্ন দেওয়ানী আইনের সাথে সাথে দেশে পুরুষভিত্তিক সন্তান উৎপাদনকে জন্মনিয়ন্ত্রণের  মাপদন্ড হিসেবে না দেখে মহিলাভিত্তিক মাথাপিছু সন্তান উৎপাদনের হার কে জাতীয় জন্মনিয়ন্ত্রণের মাপদন্ড হিসেবে প্রণয়ন করা অত্যন্ত আবশ্যক l তাঁর মতে নিঃশব্দ জনবিন্যাস পরিবর্তন কোন যুদ্ধ, দাঙ্গা বা বড় কোনো গণহত্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর, তা দেশভাগের ইতিহাস আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে l

আলোচনাসভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গালুরুর প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক শ্রী সন্দীপ বালাকৃষ্ণ l সভার সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট মাইক্রোবায়োলোজিস্ট ও সমাজকর্মী ডক্টর গিরিধর উপাধ্যায় l অনুষ্ঠানের শেষে প্রশ্ন উত্তর পর্বে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ, উৎসাহ, আর বিচার বিশ্লেষণ ছিল নজরে পড়ার মতো l

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কম্পিউটার প্রাযুক্তিক শ্রী ভাস্বর গোস্বামী l আগামী দিনে ব্যাঙ্গালোরে আরো অনেক আলোচনা ও বিতর্কসভার আয়োজন করা হবে বলে জানালেন সংস্থার যুগ্ম আহ্বায়ক ডঃ জয়দীপ ব্যানার্জী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালুমনি প্রাযুক্তিক শ্রী আনন্দ ভট্টাচার্য l

বাংলায় জাতীয়তাবাদকে পুনরুজ্জীবিত করতে অ্যাওকেন্ড বেঙ্গল বদ্ধ পরিকর l ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে এবং বিদেশেও প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এইরকম জাতীয়তাবাদী আরো অনেক গ্রুপ আত্মপ্রকাশ করবে বলে অ্যাওকেন্ড বেঙ্গল আশাবাদীl

লেখক : জয়দীপ ব্যানার্জী (Scientist, Social Worker),

E-mail: djoybanerjee@gmail.com