তিন তালাকের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির উদ্যোগ

১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র আহ্বান জানিয়েছিল। কলকাতার হিন্দুরা সেই “ডাইরেক্ট অ্যাকশন”-এর অর্থ বুঝতে পারেনি। তারা ভেবেছিল ওটাও বোধহয় লম্পট গান্ধীর নিরামিষ আন্দোলনের মতই কিছু একটা হবে। কিন্তু হিন্দুদের সেই ধারনা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল যখন শহীদ মিনার ময়দানের মিটিং-র পরে মুসলিমরা আল্লাহু আকবর বলে হিন্দুদের উপর ঝাঁপিয়ে পরলো।

দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী মুসলিমের বিশ্বাসী রুপ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল গণিমতের মাল লুট করতে। সুরাবর্দীর প্রশাসন নিশ্চল হয়ে রইলো আর মুসলিমরা বিনা বাধায় তাদের তান্ডব চালিয়ে যেতে লাগলো কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায়, অলিগলিতে। বেছে বেছে লুট হ’ল হিন্দুদের দোকান, ধর্ষণ করা হ’ল হিন্দু মহিলাদের। হিন্দুদের তৎকালীন অবতার গান্ধীর তরফ থেকে হিন্দুদের রক্ষা করার জন্যে কোন ভূমিকা নেয়া তো দূরের কথা, একটা শব্দ পর্যন্ত খরচা করা হলনা যতক্ষন না গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হিন্দুরা পালটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মুসলিমদের পালটা আক্রমণ করে পিছু হটতে বাধ্য করব।

মোদীজীর সরকার সুপ্রিম কোর্টে তিন তালাকের বিরুদ্ধে হলপনামা জমা দেয়ায় পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা সেই সিদ্ধান্তের আগামী ১৮-২০ নভেম্বর রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে। ঘরপোড়া হিন্দুরা যদি ইতিহাস থেকে কিছুটা শিক্ষা নিয়ে থাকে তাহলে বুঝতে পারবে যে এই বিক্ষোভ শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার অন্যতম উপলক্ষ হতে চলেছে। কালিয়াচক, তুফানগঞ্জ, ইলমবাজার, ঢোলাহাট প্রভৃতি স্থানে থানা আক্রমণ বা ২৪শে নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে কলকাতার শহীদ মিনারে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সভায় তিনজন আইপিএস অফিসার সহ পুলিশকর্মচারীদের আক্রমণ সেই ক্ষমতা প্রকাশের ট্রেলার মাত্র, আসল সিনেমা হবে ১৮-২০ নভেম্বর।

তাই হিন্দুরা যদি নিজেদের অস্তিত্বরক্ষা করতে চান তাহলে তাত্ত্বিক কচকচি বাদ দিয়ে আত্মরক্ষার জন্যে নিজেদের বাড়িতে উপযুক্ত বন্দোবস্ত করুন। উনিশশো ছেচল্লিশের হিন্দুরা যে ভুল করেছিল দুহাজার ষোল সালেও যদি তারা সেই ভুল করে তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর এই রাজ্যে সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারবেনা।

                                                                                                                               —— প্রসূন মৈত্র

Advertisements