জেহাদি আগ্রাসনের গ্রাসে এবার কালিমাতা ঠাকুরানীর দেবোত্তর সম্পত্তি/শ্মশানঃ পুনরুদ্ধারের আশায় হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ গ্রামবাসীরা

imagesএই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে হিন্দুদের সম্পত্তি গা-জোয়ারি দখলের অভিযোগ পাওয়া যায় ভূরি ভূরি। কিন্তু খোদ ঠাকুরের সম্পত্তি বেদখল! তায় আবার শ্মশান, এমনই বিরল অভিযোগের নজির পাওয়া গেল আরামবাগের একটি গ্রামের গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে।
অভিযোগ, হুগলীর আরামবাগ মহকুমার অন্তর্গত হরিণখোলা ১ নম্বর অঞ্চলের হরাদিত্য গ্রামের বাজার পাড়ায় অবস্থিত প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো ঐতিহ্যশালী শ্রী শ্রী কালিমাতা ঠাকুরানী’র বারোয়ারী দেবোত্তর সম্পত্তি’টি বর্তমানে জেহাদি জমি হায়নাদের নজরে পড়ে বেদখল হবার জোগাড়। গ্রামবাসীরা তাদের লিখিত অভিযোগপত্রে এই কথা জানিয়ে আরও লিখেছেন যে, সাকুল্যে এক একর একুশ শতক জমির উক্ত দেবোত্তর সম্পত্তির একুশ শতক জমি ইতিমধ্যেই বেহত হয়ে গেছে। ভূমিরাজস্ব দফতরের প্রামাণ্য পর্চা অনুযায়ী সমগ্র সম্পত্তির ৫০৯ ও ৫১০ দাগের যথাক্রমে উল্লিখিত ডাঙ্গা (২শতক) এবং ডাঙ্গা/শ্মশান (১৯শতক) ১৪ই মার্চ স্থানীয় দুই মুসলমান দখল করে সেখানে বাড়িঘর নির্মান ও চাষাবাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে আরও জানা যাচ্ছে, ২০০৯’তে জমি দখল হবার কথা জানাজানি হবার পর থেকেই দখলদারদের কাছে জমি ফেরত চাইতে গেলে, তারা স্থানীয় হিন্দুদের জানিয়েছে, মন্দির কমিটির অছি পরিষদের (ট্রাস্টি বোর্ড) এক সদস্য জনৈক গোকুল ভট্টাচার্য্য নাকি স্থানীয় ভাগচাষী হাসমত আলীর কাছে উক্ত সম্পত্তি ইতিমধ্যেই জলের দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু দেবোত্তর সম্পত্তি এই ভাবে ক্রয় বিক্রয় অসম্ভব জানতে পেরে এবং সরকারি নথিতে স্পষ্ট ভাষায় সেই সম্পত্তির পরিমান বিশদে উল্লিখিত অবস্থায় পেয়ে, পরবর্তি কালে মন্দিরকমিটির বুকে নতুন আশার সঞ্চার হয়। উল্লিখিত, “ডাঙ্গা/শ্মশান” জমির চরিত্র’টি কিভাবে “শালী” হয়ে গেল এই প্রশ্ন তুলে দখল হয়ে যাওয়া বারোয়ারী সম্পত্তিটি ফিরে পেতে তারা দ্বারস্থ হয় স্থানীয় প্রশাসনের। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয় নি।
পরবর্তিকালে বহু জায়গায় হত্যে দেবার সুবাদে একসময় তারা পরিচিত হন “হিন্দু সংহতি” নামের সংগঠন’টির সঙ্গে। সংহতি সভাপতি শ্রী তপন ঘোষ পাশে এসে দাঁড়ানোয় বুকে বল ফিরে পান তারা। শ্রী বিপ্লব দাস, রাজু দে বা হেমন্ত দে-দের সম্মিলিত উদ্যোগে কোন এক রবিবারে স্থানীয় মন্দিরতলায় মিটিং ডেকে তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েতে “মাস পিটিশন” জমা দেওয়া হয়। পঞ্চায়েতের পক্ষে-ও দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বিতর্কিত জমিতে নির্মিয়মান বাসগৃহটি’র কাজ বন্ধ করবার নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়। এই ভাবেই হিন্দু সংহতিকে পাশে নিয়ে এলাকায় পুরোদমে শুরু হয়ে যায় জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই।

Advertisements