জেলে বসে তোলাবাজির ছক

জেলে বসেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে চেয়েছিল এক দুষ্কৃতী। এই ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে পৌঁছেও গিয়েছিল তার শাগরেদ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সিসি টিভিতে পুলিশ ওই দুষ্কৃতীর দুই শাগরেদকে দেখে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম জাকির হোসেন ওরফে পুঁটে ও লাল্টু গাজি। বাড়ি ঘোজাডাঙা সীমান্তে। বাড়ি বসিরহাটের গোখনা গ্রামে। তাকে জেরা করে পুলিশ ৪২ কেজি গাঁজাও উদ্ধার করেছে। এ দিন তাকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাঁটরা এলাকার বিল্ডার্সের ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফোনে ৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। গত কয়েকদিন ধরেই ফোনে প্রাণহানির হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, প্রায়ই সন্ধ্যায় ওই ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে জনা কয়েক যুবক-সহ জাকির এসে বলত ‘‘টাকা না দিলে ফল ভাল হবে না।’’
দিন দশেক আগে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী বসিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে পুলিশ। ব্যবসায়ীর মোবাইলে আসা ফোন রেকর্ড করে রাখার পাশাপাশি দোকানের সামনে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়।
তদন্তকারী এক অফিসার জানান, মোবাইল ট্যাব করে জানা যায় সেটি দমদম সেন্ট্রাল জেলের মধ্যে থেকে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, এক বছর আগে মাদক নিয়ে ধরা পড়ে স্থানীয় ভ্যবলায় বাড়ি অনিল মিস্ত্রি নামে এক দুষ্কৃতী। সে ফোন করে ওই টাকা চাইছে। দ্রুত যাতে ওই টাকা মেলে তার জন্য তার শাগরেদদের দোকানের সামনে পাঠাচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় অনিল তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ জাকির হোসেন ওরফে পুঁটে, মোল্লা, বাবাই, ছোটন, আসানুর গাজি ওরফে আকাশ এই পাঁচজনকে সনাক্ত করে। এরপরেই গ্রেফতার হয় লাল্টু ও পুঁটে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।