জিহাদের শিকড় সারা পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে গিয়েছে

এনআইএ গোয়েন্দাদের এতো  ধরপাকড় সত্বেও এই রাজ্যে এখনো যে জিহাদিদের শক্ত ভিত রয়েছে এবং তা শুধুমাত্র বর্ধমান-বীরভূমে সীমাবদ্ধ নেই, তা ধৃত বুরহান শেখকে জেরা করে জানতে পারলেন গোয়েন্দারা। এতো নজরদারি সত্বেও সে এতদিন নির্বিঘ্নে রাজমিস্ত্রির ছদ্মবেশে সারা রাজ্যে এমনকি রাজ্যের বাইরেও জিহাদি কাজকর্ম পুরোমাত্রায় চালিয়ে গিয়েছে।  খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত বুরহান শেখ রাজ্যে নব্য জেএমবি’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিল। ছুতোরের কাজের আড়ালে সে সংগঠন বৃদ্ধির চেষ্টা করছিল। মুর্শিদাবাদের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বসেই জেহাদি কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল বুরহান। সীমান্তের কাছাকাছি থাকায় সে ঘন ঘন বাংলাদেশে যাতায়াত করতে পারত। ধরা পড়ার পর তাকে জেরা করে এমনই তথ্য পেয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। বুরহানকে এই কাজে সাহায্য করছিল ওই জঙ্গি সংগঠনের প্রতি সহানুভুতিশীল এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে আবার নব্য জেএমবি’র সদস্যদের যোগাযোগ রয়েছে বলে খবর। সীমান্তে চোরাচালানের পাশাপাশি সে জেহাদিদের পারাপার এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ তাদের এরাজ্যে নিয়ে আসার কাজ করত বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে বুরহান শেখকে তোলা হয়। এনআইএ’র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ এদিন আদালতে বুরহানের জঙ্গি কার্যকলাপের বিবরণ তুলে ধরেন। শুনানি শেষে বিচারক কুন্দনকুমার কুমাই তাকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত এনআইএ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হয় বুরহান শেখ। পরে তাকে এনআইএ’র হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাকে জেরা করে জানা যাচ্ছে, খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর সে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। কয়েকমাস পর সে ফিরে আসে এরাজ্যে। ইতিমধ্যেই জেএমবি দুর্বল হয়ে পড়ায় নব্য জেএমবি’র হয়ে কাজ শুরু করে বুরহান। এরাজ্যে ফিরে এসে মুর্শিদাবাদের রানিতলার নাজিরচকে সে ডেরা বাঁধে। সেখানে তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় জেহাদিদের এক অনুচর। বুরহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে নব্য জেএমবি’র জাল বোনার। সেইমতো সে কাজ শুরু করে। এলাকায় তার পরিচয় ছিল একজন ছুতোর মিস্ত্রি হিসাবে। একইসঙ্গে অন্যান্য জায়গায় শ্রমিকের কাজও করত। এই কাজের সুবাদে সে কয়েকবার দক্ষিণ ভারতে গিয়েছে। আসলে সেখানে গিয়ে সে নব্য জেএমবি’র সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের সঙ্গে সংগঠন নিয়ে বৈঠকও করেছে সে। বাংলাদেশের নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতারা দক্ষিণ ভারতের সংগঠকদের তার মাধ্যমেই টাকা পাঠিয়েছে বলে খবর। মুর্শিদাবাদ থেকে সে নিয়মিত মালদহে যাতায়াত করত। কখনও ছুতোরের কাজের নাম করে, আবার কখনও রাজমিস্ত্রি হিসাবে সে ওই জেলায় কাজ করেছে।
কাজের আড়ালে সীমান্ত লাগোয়া ওই জেলার বিভিন্ন অনুমোদনহীন মাদ্রাসায় বুরহান জেহাদি ভাষণ দিয়েছে। এমনকী সংগঠনে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যদের অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণও দিয়েছে। মুর্শিদাবাদের একাধিক খারিজি মাদ্রাসাতেও সে জেহাদি ভাষণ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে খবর এনআইএ আধিকারিকদের কাছে। বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ শিল্পে কাজ করতে আসা অল্পবয়সি যুবকরা ছিল তার টার্গেট। মগজ ধোলাই করে তাদের জেহাদি কাজকর্মে উদ্বুব্ধ করাই ছিল তার কাজ। এই কায়দায় সে বেশ কিছু যুবককে নব্য জেএমবিতে নিয়োগ করেছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি জায়গায় তার নেতৃত্বে বিস্ফোরক তৈরি করা হচ্ছে বলে খবর। যার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হয়েছে। তৈরি হওয়া বিস্ফোরক বুরহানের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে এনআইএ’র আধিকারিকরা জেনেছেন। এই ব্যাপারে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে।
Advertisements