গাইঘাটায় গোরু পাচারকারী গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু বিএসএফ জওয়ানের

পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে লরির পরিবর্তে এখন এসি স্যান্ট্রো, অল্টো এবং ইন্ডিকা গাড়িতে গোরু পাচার চলছিল বাংলাদেশ সীমান্তে। বৃহস্পতিবার ভোরে গাইঘাটার আংরাইল সীমান্তে গোরুবোঝাই ইন্ডিকা গাড়ির ধাক্কাতেই মৃত্যু হল এক বিএসএফ জওয়ানের। গোরুবোঝাই ইন্ডিকা গাড়িতে তল্লাশি করার জন্য তিনি আটকাতে গিয়েছিলেন। তখনই পাচারকারীরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই জওয়ানের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় এক পথচারীও জখম হয়েছেন। তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বিএসএফ জওয়ানের নাম তুষারকান্তি দাস (৪৬)। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় তাঁর বাড়ি।
এ রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচারের ঘটনা বহু পুরানো। বছর দেড়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশকে পাচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরই কড়াকড়ি শুরু হয়। আগের তুলনায় সেই পাচার এখন কমে গিয়েছে। আগে দিনের আলোয় লরিতে করে সীমান্তে গোরু নিয়ে যাওয়া হত। এখন অবশ্য সেই দৃশ্য দেখা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে পাচারকারীরা যে গাড়িতে মানুষ যাতায়াত করে সেই ফ্যামিলি কারেই অল্প অল্প করে গোরু পাচার করছে। কোনও কোনও পাচারকারী একসঙ্গে অনেকগুলি বাছুর চাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওই গাড়িতে করে। যাতে বিএসএফের চোখে ধুলো দেওয়া যায়। গত কয়েক মাসে এই ধরনের ছোট চারচাকা গাড়িতে করে গোরু পাচার করার অভিযোগে জেলাজুড়ে পুলিশ একাধিক পাচারকারীকে গ্রেপ্তারও করেছে। প্রচুর গোরু এবং বাছুরও উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোররাতে বিএসএফ জওয়ান তুষারকান্তি দাস গাইঘাটার আংরাইল সীমান্তের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন। ভোর ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ একটি ইন্ডিকা গাড়ি বনগাঁর দিক থেকে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় তিনি গাড়িটিকে আটকানোর জন্য হাত তোলেন। ধরা পড়ার ভয়ে পাচারকারীরা গাড়ি না দাঁড় করিয়ে বিএসএফ জওয়ানকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তবে, দুর্ঘটনার পর ওই ইন্ডিকা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পাশেই একটি দোকানে গিয়ে ধাক্কা দেয়। সেখানে চিরঞ্জিত ঘোষ নামে স্থানীয় একজন রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ধাক্কার জেরে তিনিও মারাত্মক জখম হন।
ইন্ডিকার পাচারকারী চালক পালাতে সক্ষম হলেও গাড়ির ভিতরে একজন আটকে পড়েছিল। তাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বনগাঁর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অনিল রায় ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। বিএসএফ অফিসাররাও পৌঁছান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিএসএফ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisements