কাশ্মীর সীমান্তে অন্তত ৪০০ পাক প্রশিক্ষিত জঙ্গি অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন রিপোর্ট অনুযায়ী কম করে ৪০০ জন পাক মদতপুষ্ট জঙ্গির একটি দল ভারত পাক সীমানা বরাবর বিভিন্ন স্থানে ওঁত পেতে আছে। বেআইনি ভাবে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে, দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে যতটা বেশি সম্ভব ক্ষয় ক্ষতি করাই এই জেহাদি দলটির একমাত্র উদ্দেশ্য। পাকিস্থানে পুরদস্তুর জঙ্গি প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এই দলটি এখন লাইন অফ কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় পাক বাঙ্কারের আড়ালে লুকিয়ে আছে এবং সুযোগের অপেক্ষা করছে।

প্রকৃতপক্ষে এই অঞ্চলে জেহাদিদের কাছে অনুপ্রবেশের মোক্ষম সময় হল মে মাস থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বছরের অন্যান্য সময়ে তীব্র শৈত্য প্রবাহ, তুষারপাতসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা এই অঞ্চলকে অনুপ্রবেশের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই এই সময়, অর্থাৎ মে মাস থেকে বরফ গলার সূত্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবছর অনুপ্রবেশের তৎপরতা মারাত্মক হারে বেড়ে যায়। এই বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। যথারীতি পাকিস্থান রেঞ্জার্স তাদের নিরাপদে সীমান্ত অতিক্রম করানোর লক্ষ্যে পুরোপুরি কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। সীমান্ত অনাক্রমণ চুক্তি লঙ্ঘন করে বিনা প্ররোচনায় নিয়মিতভাবে প্রায় প্রতিদিনই তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে গোলাগুলি নিক্ষেপ করছে। উদ্দেশ্য – ভারতীয় বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে সীমান্তের কিছুটা স্থান অরক্ষিত করা, এবং সেই সুযোগে সেখান দিয়ে জেহাদি উগ্রপন্থীদের সহজেই সীমানা পার করিয়ে দেওয়া।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিগত ২৭ শে এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় জওয়ানরা একাধিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৮ জন জঙ্গি অনুপ্রবেশকারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে এই বছর ২৬ শে মে তারিখে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভারতে আগমন এবং পরবর্তী পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শান্তি স্থাপনের প্রয়াস ভেস্তে দিতেই পাকিস্থানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ আই এস আই এবং পাক সেনাবাহিনীর একাংশ সক্রিয় বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।

সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের সাম্প্রতিক বিবরণ পঞ্জিঃ

১. ২৫শে এপ্রিলঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, পুঞ্চ সেক্টর; নাঙ্গি টেকরি অঞ্চল – পাকিস্থান রেঞ্জার্স কম করে ৩০ মিনিট ব্যাপি মাঝারি ও সীমিত পাল্লার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাহায্যে ব্যাপক গোলা গুলি বর্ষণ করে।
২. ২৮শে এপ্রিলঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, রাজৌরি সেক্টর; ভিমবি গালি অঞ্চল – গোলা বর্ষণ অন্তত ২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এক্ষেত্রে মর্টার এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
৩. ৩রা মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল,পুঞ্চ সেক্টর; মেন্ধার অঞ্চল – ৪৫ মিনিটেরও বেশি সংঘর্ষ স্থায়ী হয়। এখানেও মাঝারি ও সীমিত পাল্লার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাহায্যে ব্যাপক ভাবে গোলা গুলি বর্ষণ করা হয়।
৪. ৫ই মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল,রাজৌরি সেক্টর; ভিমবি গালি অঞ্চল – অন্তত দেড় ঘণ্টা ব্যাপী উভয় পক্ষে তুমুল সংঘর্ষ চলে।
৫. ৭ই মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, রাজৌরি সেক্টর – পাকিস্থানের পক্ষে মূলত মর্টার দিয়ে হামলা চালানো হয়।
৬. ১০ই মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, পুঞ্চ সেক্টর – নাঙ্গি টেকরি অঞ্চলে একই ভাবে বিনা প্ররোচনায় হানাদারেরা হামলা চালায়।
৭. ১৪ই মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, পুঞ্চ সেক্টর।
৮. ২০ই মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, পুঞ্চ সেক্টর।
৯. ২৬ই মেঃ লাইন অফ কন্ট্রোল, পুঞ্চ সেক্টর; কৃষ্ণ ঘাটি– এবারেও মাঝারি ও সীমিত পাল্লার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাহায্যে প্রচুর পরিমানে সীমান্তের ওপার থেকে গোলা বর্ষণ করা হয়।

এরই মধ্যে জঙ্গি-সেনার মধ্যে গুলির লড়াইয়ে লস্কর-ই-তৈবার দুই বিদেশি গেরিলা-কমান্ডারের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সোপোরে। গতকাল ২৩শে জুন, সন্ধে থেকেই জঙ্গি-সেনার গুলির লড়াই বাঁধে। সেনার গুলিতে মহম্মদ ভাই নামে এক জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। আরও এক জঙ্গির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। পরে সেনার গুলিতে মেহমুদ ভাই নামে আরও এক লস্কর জঙ্গির মৃত্যু হয়। মৃতদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s