কালিয়াচকের ঢঙে থানায় আগুন : উত্তাল ঢোলাহাট

গতকাল কালিয়াচক, ইলামবাজার, ময়ুরেশ্বরের পর আবার ওই একই মডেল থানায় আগুন লাগলো উত্তেজিত মুসলিম জনতা। একজন পুলিশ কর্মী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবং অপর একজনকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। আজ বিকাল পাঁচটা নাগাদ দঃ 24 পরগণার ঢোলা থানায় ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার , 5 সেপ্টেম্বর। ওই দিন সকালে লক্ষ্মীকান্তপুরের এক মুসলমান গরু ব্যবসায়ীর মৃতদেহ পাওয়া যায় ভাজনা গ্রামের কাছাকাছি। পরের দিন স্থানীয় মুসলমানরা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ভাজনাসহ আশপাশের অন্যান্য গ্রামের হিন্দুদেরকে রাস্তা আটক করে মারধর করা শুরু করে। দুজন গৃহশিক্ষক সহ রবীন্দ্রনাথ বৈদ্য নামে একজন পোস্টম্যান এতে গুরুতর আহত হন। ওই পোস্টম্যানের হাত থেকে চিঠিপত্রের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার স্থানীয় মুসলমানরা ঘোষণা করে, কেডো হাসপাতাল মোড়ে কোনও হিন্দুর দোকান খোলা রাখা যাবে না। মুসলিম জনতা সেইমতো কেডো হাটে হিন্দুদের দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য করে। পরের দিন ওই একই ফতোয়া জারী করা হয় জুমাই লস্করের হাটে। সেখানে ডায়মন্ড হারবারের এক হিন্দু সার ব্যবসায়ী সকালবেলা দোকান খোলার সাথে সাথে একদল মুসলমান তার দোকান আক্রমণ করে এবং দোকান লুঠ করার সাথে সাথে তাকে প্রচন্ড মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় ফতিমা নার্সিংহোমে ভর্তি করতে হয়।

এমতাবস্থায় চাপে পড়ে পুলিশ ভাজনা গ্রামের দুজন হিন্দুকে তুলে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আজ বিকালে স্থানীয় মুসলমানরা সেই নিহত গরু ব্যবসায়ীর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে এবং আটক হওয়া দুজন হিন্দুকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে একটা মিছিল বার করে। সেই মিছিল ঢোলা থানার সামনে পৌঁছে মারমুখী হয়ে ওঠে। মিছিল থেকে থানা লক্ষ্য করে গুলি-বোমা ছোঁড়া শুরু হয়। পুলিশ প্রতিরোধে নামলে একজন কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হন। কয়েকজন পুলিশকর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একজনের হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত এলাকা প্রচন্ড উত্তপ্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে 144 ধারা জারী করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবুও রাস্তার মোড়ে মোড়ে মুসলমানদের জমায়েত আছে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বোমাবাজী চলছে বলে জানা গেছে।