কাকদ্বীপে আট বছরের হিন্দু নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা ৪৫ বছরের কেসিমুদ্দিনের : গ্রেফতার অভিযুক্ত; উঠছে ফাঁসির দাবী।

1

কাকদ্বীপ, ২২শে এপ্রিল; ২০১৭: আট বছর বয়েসী নিজের মেয়ের বান্ধবীকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল ৪৫ বছর বয়েসী বাবার বিরুদ্ধে। আজ এমনই এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে’র বুধাখালি থেকে।
ঘটনায় প্রকাশ, পেশায় মৎসজীবী বছর তিরিশের অরুন দাসের বাড়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে’র অন্তর্গত উকিলের হাট স্টেশনের নিকটবর্তী বুধাখালি ডাকঘর সংলগ্ন বিশালক্ষ্মী পুর। দুই মেয়ে, একছেলে আর স্ত্রী নিয়ে তার ভরা সংসার। আট বছরের বড় মেয়ে প্রিয়া দাস (নাম পরিবর্তিত) স্থানীয় সুকান্ত শিশু শিক্ষানিকেতনের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী। অন্যদুটি আরও ছোট। পেশার তাগিদে তাকে প্রায়শই মাছ ধরতে ট্রলারে মাঝসমুদ্রে পাড়ি দিতে হয়। অন্যদিকে, দুর্ভাগ্যবশত এরই মধ্যে তার স্ত্রীও হঠাৎ-ই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় বাড়িতে ছোট বাচ্চাগুলিকে মূলত পাড়া প্রতিবেশীরাই আগলে রাখতেন। আজ সেখানেই ঘটে গেল এই মারাত্মক ঘটনা।
এলাকার মানুষজনের মতে অভিযুক্ত কেসিমুদ্দিন শেখ’কে (পিতাঃ সাত্তার সেক) সবাই এতদিন, উকিলের হাট স্টেশনের নিকটবর্তী বুধাখালি’র বাসিন্দা অরুণ দাসের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বলেই জানতেন। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় কেসিমুদ্দিনের মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে প্রিয়ার। অভিযোগ, তখন থেকেই নাকি তার উপর দৃষ্টি পড়ে অভিযুক্ত কেসিমুদ্দিনের। কিন্তু বাপের বয়েসি এই ব্যক্তিই যে এলাকার-ই একটি ফুটফুটে নিস্পাপ মেয়ের এমন সর্বনাশ করার কথা ভাবতে পারে, তার আঁচ পাননি কেউই।
ঘটনায় জানা যায় যে, জীবিকার তাগিদে এদিন সকালে নিগৃহিতার বাবা অরুণ দাসকে বিশেষ কারনবশত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। মা-ও বেরিয়ে পড়েছিলেন বাড়ি ফাঁকা রেখেই। আর এর-ই সুযোগ নেয় সেই নরপশু। ভাই বোন যখন বাইরে খেলছে, সেই সময় বিকেল ৪টে ৪৫ নাগাদ ফাঁকা বাড়িতেই প্রিয়ার মুখে হাত চাপা দিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে সে। অন্যদিকে মনে কু ডাকায় ঠিক সে সময়েই বাইরের কাজ সেরে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন প্রিয়ার বাবা। মেয়ের এই অবস্থা দেখে চিৎকার জুড়ে দেন তিনি। হইচই শুনে ছুটে আসেন অন্যান্য প্রতিবেশীরা। এতে হতচকিত হয়ে অভিযুক্ত কেসিমুদ্দিন মেয়েটিকে বিস্রস্ত অবস্থায় ফেলে রেখে তার বাবাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসেন স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মী-সমর্থকেরা। মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় কাকদ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে ছুটে যান তারা। অভিযোগ পাবার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে। অভিযুক্ত কোসিমুদ্দিন’কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন তারা। ইতিমধ্যেই জেরায় অভিযুক্ত তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানা যচ্ছে। অন্যদিকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাঁসপাতালে ঠিকঠাক ভাবে মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী গভীর রাত পর্যন্ত সংহতির কর্মীরা থানায় অবস্থান করে বিষয়টির উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছেন। – অত্যন্ত উত্তেজনার মধ্যে আপাতত এলাকাবাসীর দাবী একটাই – অপরাধীর ফাঁসি চাই ……। 

Advertisements