কলকাতার কাছেই বিরাট অস্ত্রাগারের হদিশ পেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ

arm-rescue_webকলকাতার কাছেই অস্ত্র বানানোর কারখানার হদিশ পেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ৷ মহেশতলা সংলগ্ন রবীন্দ্রনগর থানার কানখুলি এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করল ১০১টি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র৷ উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র তৈরির মেশিন৷ গ্রেফতার বিহারের বাসিন্দা মাস্টারমাইন্ড আফতাব হোসেন-সহ পাঁচ৷

কিছুদিন আগেই পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় অস্ত্র কারবার চলছে৷ জেলাতে বসেই অস্ত্র তৈরি করে বিক্রিও করা হচ্ছে৷ তারপরেই দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তৈরি হয়৷ পুলিশ ক্রেতা সেজে অস্ত্র কেনার টোপ দিয়ে প্রথমেই পৌঁছয় নিজাম পুরকাইতের কাছে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, নিজাম এই অস্ত্র কারবারের চক্রে সেলার ছিল৷ নিজামের সূত্র ধরে পুলিশ পৌঁছয় সেলিম মোল্লার কাছে৷ সেলিমও সেলার হিসাবে কাজ করত৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র বিক্রি করার মূল দায়িত্ব ছিল সেলিম ও নিজামের৷ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ হদিশ পায় রবীন্দ্রনগর থানার কানখুলি এলাকার৷ যেখানে ঘর ভাড়া নিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হত৷ কারিগর ছিল মহম্মদ আসলাম ও মহম্মদ এফসান৷ এরপরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ স্পেশাল এসওজি গ্রুপকে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করে অস্ত্র কারবারের মূল পান্ডা আফতাব হোসেনকে৷ বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা আফতাব৷ রবীন্দ্রনগরে ঘর ভাড়া করে সে অস্ত্র তৈরির কারবার চালাত৷ কারিগরদের আনা হত বিহার থেকে৷

পুলিশ অস্ত্র কারখানা থেকে উদ্ধার করেছে, ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র৷ ৯৫টি ওয়ান শটার পাইপগান, ৪ টি ডবল ব্যারেল পাইপগান, ২ টি নাইন এমএম পিস্তল, ৫৭ রাউন্ড গুলি, ৭ টি মোবাইল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা৷ পাশাপাশি, আটক করা হয়েছে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত লেদ মেশিন-সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ৷ পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরি জানিয়েছেন, “ধৃতদের আদালতে তুলে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়া হবে৷ ধৃতদের বিরু‌দ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৫ এ‌তে, ৩৫, ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে৷ ঘটনায় আর কারা জড়িত আছে তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হবে৷” পুলিশ জানিয়েছে, মূলত গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ, বন্দর, দুই ২৪ পরগনায় অস্ত্র বিক্রি করত আফতাব ও তার শাগরেদরা৷ আর কোথায় অস্ত্র তৈরির কারখানা আছে কি না, তার তল্লাশিও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ তবে এত বড় অস্ত্র বানানোর কারখানার হদিশ পাওয়া পুলিশের বড়সড় সাফল্য হিসাবেই দেখা হচ্ছে৷

Advertisements