এই রাজ্যে আইন এবং আদালতের আর কোন প্রয়োজন নেই : শাসক দলের নেতারাই এখন মানুষের বিচার করবে

এই রাজ্যে আইন এবং আদালতের আর কোন প্রয়োজন নেই, শাসক দলের নেতারাই এখন মানুষের বিচার এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর এই কাজে যাতে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশকে তাদের সহায়তা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্তত উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালির ঘটনা তারই ইঙ্গিত বহন করছে। গত ২৫ আগস্ট সকালে সন্দেশখালি থানার সরবেড়িয়া অঞ্চলের খোলাচটি পাড়ায় অনুপ মন্ডল এবং পরেশ মন্ডলকে ঘেরাও করে প্রচন্ড মারধর করে কিছু দুষ্কৃতি। তাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় অনুপ। পরেশ এখন স্থানীয় খুলনা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

স্থানীয় একটি বিতর্কিত বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঝামেলার জেরে অনুপ ও পরেশ গ্রামবাসীদের গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও,স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে কুখ্যাত সাজাহান সেখের বাহিনীই এই ঘটনার সাথে যুক্ত। প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, সন্দেশখালি থানার পুলিশের উপস্থিতিতে সাজাহানের দলবল ওই দুজনকে মারধর করে। এমনকি সরবেড়িয়া – আগারাটি অঞ্চলের উপপ্রধান, টি এম সি নেতা সাজাহান সেখ পুলিশের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে নিজের হাতে সেই লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক গ্রামবাসী।

পুলিশের উপস্থিতিতে কিভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং পুলিশ কেন ছেলেদুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলো না তা নিয়ে একটা রহস্য থেকেই যাচ্ছে। জানা গেছে, মারধরের পরে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে অচৈতন্য অবস্থায় ছেলেদুটিকে প্রথমে সরবেড়িয়ার টি এম সি পার্টি অফিসে এবং তারপরে থানায় তাদের বেশ কিছু সময় ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের স্থানীয় খুলনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অনুপকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পরেশ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জনৈক গ্রামবাসীর কথায়, শাসক দলের নেতারাই যদি এখন পুলিশের উপস্থিতিতে মানুষের বিচার করে শাস্তি দিতে শুরু করে, তাহলে আইন – আদালতের আর প্রয়োজন কি?

এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনার অন্য একটি দিক সামনে উঠে এসেছে। জানা গেছে এই অনুপ ও পরেশরা সাজাহান বাহিনীরই সদস্য। জনৈক অময় ভূঁইয়া(গোড়া) র নেতৃত্বে এদের দলটি ধীরে ধীরে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। পরেশ, অনুপসহ এই দলের কয়েকজন হিন্দু সদস্য স্থানীয় হিন্দুদের উপরে সাজাহানের অত্যাচারকে ভালো চোখে দেখছিলনা। এই কারণেই তারা সাজাহানের রোষের মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s