অর্ধেক কলকাতা ওয়াকফ সম্পত্তি – মোঃ কামরুজ্জামান

15036566_361703800837400_2698858064205937229_nমুহুর্মুহু স্লোগান উঠছিল, “নারায়ে তাকবীর – আল্লাহু আকবর।”
ভাবছেন কোন মিলাদ বা মহফিলে ? আজ্ঞে না এই স্লোগান উঠছিল কলকাতার ধর্মতলায় মঙ্গলবারের ইমাম সমাবেশে। প্রায় ৪০টি ইমাম সংগঠন মিলে সারাবাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানের আহ্বানে এইদিন ভরিয়ে ফেলে কলকাতার রাজপথ।

আজকের এই সভার মূল বিষয় ছিল ইমাম, মোয়াজ্জেন ভাতা বৃদ্ধি সহ – ইউনিফর্ম সিভিল কোড অর্থাৎ শরিয়ত কানুনের বাইরে অভিন্ন ‘দেওয়ানী বিধি’ কেন্দ্র সরকার দ্বারা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াসের বিরোধীতা করা।আজকের এই সভায় বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এই সভার আহ্বায়ক এবং সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান, তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদ, কলম পত্রিকার সম্পাদক ও তৃণমূল সাংসদ আহমাদ হাসান ইমরান, আইনজীবী ইদ্রিস আলি, এটিএম রফিকুল হাসান, কলকাতা রেড রোডের দুই ঈদের নামাজের ইমাম ক্বারী ফজলুর রহমান, আইনজীবী আব্দুল হান্নান এবং সুখনন্দ সিং আলুওলিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে ৪০টির বেশী ইমাম সংঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সভায় প্রায় সকল বক্তাই কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর উপর কথার বান ছুড়ে দেন। ব্যাতিক্রম নন তৃণমূলের তিন সাংসদও। একদিকে যেমন আহমেদ হাসান ইমরান মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা করতে গিয়ে অপমানিত হন এই বলে যে চাকরীতে মুসলিমদের শতাংশ বেড়েছে। এই দাবী করতেই মিডিয়া ব্যারিকেটের পিছন থেকে আওয়াজ ওঠে মিথ্যা কথা, সঙ্গে সঙ্গে গলা মেলান কিছু উপস্থিত জনতা। তাদেরকে বসিয়ে দেওয়া হলে প্রসঙ্গ বদলান আহমেদ হাসান ইমরান। অন্যদিকে সুলতান আহমেদ সরাসরি তৃণমূলের প্রচার করে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে পরাজিত করার জন্য মমতার নেতৃত্বে যদি কোন ফ্রন্ট তৈরী করা হয় তাহলে সেই ফ্রণ্টকে সহযোগীতা করার আহ্বান জানান ইমামদের। প্রয়োজনে তিনি নিজে দায়ীত্ব নিয়ে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারে সচেষ্ট হবেন এবং ইমাম – মোয়াজ্জিন ভাতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবেন বলে জানান।

এই সভায় অধিকাংশ বক্তাদের দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীর উপর ক্ষোভ উগরে দিতে এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড, নাজিব আহমেদ নিখোঁজ, সিমি সদস্য হত্যা, আখলাক হত্যা, রোহিত ভেমুলা সুইসাইড, জেএনইউ ক্যম্পাসের ছাত্রদের উপর অত্যাচার, ঘর ওয়াপসি সহ ইত্যাদি বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করা হয়।

মোঃ কামরুজ্জামান ছিলেন আজকের সভার মধ্যমনি তিনি বলেন, ” ইডেন গার্ডেন ও রাজভবন সহ অর্ধেক কলকাতা ওয়াকফ সম্পত্তি। অবিলম্বেই তার তদন্ত করা হোক। মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ৫ বছর আগে ইমাম – মোয়াজ্জিনদের ভাতা ঘোষনা করেন। তখন বাজার দরে আলুর দাম ছিল ৬ টাকা কেজি আর এখন ২০ টাকা কেজি তাহলে সেই ২৫০০ টাকা ইমাম ভাতা এবং মোয়াজ্জিনদের ১০০০ টাকা পুরানো ভাতায় কীভাবে চলতে পারে।” তিনি উদাহরন দেন “রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মাইনে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৫ লাখ হতে পারে তাহলে ইমাম – মোয়াজ্জিনদের ভাতা কম থাকবে কেন ? আমরা রাজ্য সরকারের টাকা থেকে ভাতা চাইনা, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার করে দিল্লির ন্যায় ভাতার ব্যাবস্থা করা হোক।”

সভায় জ্বালাময়ী বক্ত্যব্য রাখেন আব্দুল মাতিন সাহেব। সকল বক্তাদের মত উনিও ২০ তারিখের মহা সমাবেশে মানুষদের দলে দলে যোগ দিতে বলেন এবং জুম্মায় প্রতিটা ইমামদের নির্দেশ দেন তারা যেন ইউনিফর্ম সিভিল কোডের ব্যাপারে লোকেদের বোঝান।