অবৈধ মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা ব্যর্থ হল খড়দহে

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার খড়দহ থানার অন্তর্গত রহড়া, সারদাপল্লীর লোকেরা বেশকিছুদিন ধরেই একটা অপ্রীতিকর পরিবেশের শিকার। বিগত মাস তিনেক আগে সারদাপল্লীর একটি পুরোনো ইদগাহ-র জমিতে হঠাৎ করে অবৈধভাবে বাশ আর প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে, দিনে পাঁচবার নামাজ পরা শুরু হয়। পাড়াটিতে হিন্দু পরিবার শতকরা নব্বই ভাগের বেশী। ইদগাহ-র ত্রিশ মিটারের মধ্যে একটি দুর্গা মণ্ডপ রয়েছে এবং একশ মিটারের মধ্যে রয়েছে তিন তিনটি মন্দির। ওই পাড়ারই দুই তিনজন মুসলিম ছেলে বাকি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর সুবিধা অসুবিধার কথা না ভেবে, কারুর সঙ্গে কোন আলোচনা না করে, এমনকি, আইন আর জেলাশাসকের অনুমতির তোয়াক্কা না করে, ওই ঈদগাহ মাঠে মসজিদ নির্মাণের অপচেষ্টা শুরু করে। প্রসঙ্গত, উঃ ২৪ পরগণা, সীমান্ত জেলা হওয়ার জন্য, এই জেলায়, কোন নতুন মস্‌জিদ তৈরীর আগে জেলাশাসকের অনুমতির দরকার হয়। উপরন্তু কলকাতা High Court Ruling এর সুবাদে কোন মন্দির প্রাঙ্গণের একশ মিটারের মধ্যে, নতুন কোন মস্‌জিদ নির্মাণ করা যায় না। তবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় এলাকার হিন্দু জনসাধারণের মধ্যে। জনৈক এলাকাবাসী তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ” যে কারণের জন্য একদিন উদ্বাস্তু হয়ে পালিয়ে এসেছিলাম, এখানে এসেও আবার সেই উৎপাত কিছুতেই সহ্য করা যাবে না। তার জন্য যা করতে হয় করবো।” তাই ল্যান্ড জেহাদের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন সারদাপল্লীর শুভবুদ্ধিসপন্ন লোকেরা। পাশের পাড়া, রামকৃষ্ণ পল্লী এবং শান্তি পল্লীর লোকেরাও এই বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।সম্পূর্ণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় সমাজসেবী শ্রী বাবন সরকার।

গত কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী হিন্দুরা হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চান।সংহতির কর্মকর্তাদের পরামর্শে একটি মাস পিটিশন করা হয় প্রশাসনের কাছে। অবশ্য এর আগেও এলাকার হিন্দুরা প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শেষমেশ কয়েকদিন আগে তাঁরা মুসলমান ছেলেগুলিকে ডেকে এলাকাবাসীর বক্তব্য জানিয়ে দিলে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির কারণে চাপে পড়ে প্রশাসন ২৫ তারিখ রাত্রেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসাতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি পরের দিন খড়দহ থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেই মিটিংয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসলমানদের পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে ঈদগাহ-র জমি থেকে বাশ আর পলিথিন Structure খুলে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনও দিন ওই জায়গাতে নতুন মস্‌জিদ নির্মাণের জন্য অনুমতি পাওয়া যাবেনা। সুতরাং ইদগাহ ফিরবে তার পুরোনো চেহারাতেই। সূত্রের খবর, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল ওই ঈদগাহ মাঠের অস্থায়ী নির্মাণ, বাশ আর পলিথিন Structure খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়ে গেছে।