বিধাননগরে ঝাড়ফুঁকের নামে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার সামশের আলী

আজকাল মুসলিম বাবা-ফকিরদের খুব বাড়বাড়ন্ত। বিভিন্ন সংবাদপত্রে বড়ো বড়ো বিজ্ঞাপন দেখা যায়। সেখানে প্রেমে বাধা,সংসারে অশান্তি থেকে শুরু করে সব সমস্যার সমাধান করে দেবার দাবি করা হয় ‘দোয়ার’ মাধ্যমে। আর সেই ফাঁদে পা দিলেন এক শিক্ষিত শহুরে মহিলা। নিজে অসুস্থ। বাড়িতে অশান্তি। ভরসা করে নিজের দুঃখের কথা মুসলিম তান্ত্রিক সামশের আলীকে  জানিয়েছিলেন এক মহিলা। অভিযোগ, তাঁর এই অন্ধবিশ্বাসের সুযোগে তন্ত্রসাধনার নামে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই ব্যক্তি। সল্টলেকের বিডি ব্লকের এই ঘটনায় অভিযুক্তকে উত্তম-মধ্যম দেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।অভিযোগকারিণী বিডি ব্লকের বাসিন্দা। সামশের আলী  নামের তান্ত্রিক ওই এলাকার  একটি বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ করত। পরিচিত হিসাবে নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন ওই মধ্যবয়সী মহিলা। সামশের  ওই মহিলাকে আশ্বস্ত করে বলেন  তিনি তন্ত্র সাধনা জানেন। এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। ঝাড়ফুঁকের দাওয়াই দিয়ে শনিবার সামশের ওই মহিলার ফ্ল্যাটে যায় । তখন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। মহিলার অভিযোগ তাঁর শরীরে তিল দেখার অছিলায় পোশাক খুলতে বলে সামসের। গোপনাঙ্গ দেখতে চায়। এর প্রতিবাদে তিনি চেঁচামেচি জুড়ে দিলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ঝাড়ফুঁক চলার সময় ওই মহিলাকে মন্ত্রঃপুত জল খাওয়ায় সামসের। ধীরে ধীরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন ওই মহিলা। তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে ওই অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।মহিলার মুখে ওই তান্ত্রিকের কুকর্মের কথা জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন এলাকার বাসিন্দারা।  সামশের-এর  উপর তারা চড়াও হয়। গণধোলাই দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার থেকে মাদক মেশানো জল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তকে নিজেদের রিমান্ডে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ। কতদিন ধরে সে এমন কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাও জানতে চান তদন্তকারীরা। তবে সচেতনতা শিকেয় তুলে কোন যুক্তিতে বাইরের লোকের উপর ভরসা করলেন ওই মহিলা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও দেখতে পারেন এই লিংকে –https://youtu.be/r3JofNkr5OU
Advertisements