অস্ত্র-কারখানার হদিশ তিলজলায় , উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র-কার্তুজ

এক ঝলক দেখলে মনে হবে আর পাঁচটা চালু কারখানার মতোই | চাকচিক্য এবং পারিপাট্য , দুই -ই আছে | একাধিক লেদ মেশিন, ড্রিলিং করার নানাবিধ আধুনিক যন্ত্রপাতি, ফার্নেস , ঝালাই বা পালিশ করার টুকিটাকি সরঞ্জামের ছড়াছড়ি , ছেনি -হাতুড়ি -বাটালি -ছুরি..আরও যা যা থাকে আর কী | গড়পড়তা কারখানার বহিরঙ্গের আড়ালে যে বেশ কিছুদিন ধরে এখানে চলছিল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির পরিপাটি কারবার , কে ভেবেছিল !
ওয়েস্ট পোর্ট থানা এলাকা থেকে যখন দিন চারেক আগে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের উপর ভিত্তি করে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১০ রাউন্ড গুলি সহ গ্রেফতার হয় আদতে মুঙ্গেরের বাসিন্দা ইমতিয়াজ আমেদ এবং আফরোজ আমেদ , তখনও ভাবা যায়নি , কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোবে | বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি এবং সরবরাহের ব্যাপারে মুঙ্গের অঞ্চলের নামডাক আজকের নয় , বহুদিনের | ধৃত দুই মুঙ্গেরবাসীকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু এবং ক্রমে হিমশৈলের চূড়ার প্রকাশ |ধৃত দুই দুষ্কৃতীর স্বীকারোক্তি থেকে যা জানা গেল , এক কথায় চাঞ্চল্যকর | সম্প্রতি তিলজলা এলাকার ১৬ ডি , চন্দ্রনাথ রায় রোডের একটি চারতলা বাড়ির একতলাটি মাসিক আট হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিল মুঙ্গের থেকে আসা চারজন, ( পরিচয় যদিও দিয়েছিল শহরবাসী হিসেবেই )কারখানা চালানোর অছিলায় |নিয়মমাফিক এসেছিল মেশিন, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি, যেমন আসে | কাজ চলতো রাতভর , সন্দেহ করার তেমন কোনও কারণও দেখেননি বাড়ির উপরের তিনটি তলার আবাসিকরা |
” কাজ ” বলতে আসলে কারখানার নামে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উৎপাদন এবং রাজ্যে বা রাজ্যের বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় এক-একটি অস্ত্র বেচে দেওয়া | কাকভোরে কারখানায় হানা দেয় পোর্ট ডিভিশনের বিশেষ তদন্তকারী দলের অফিসাররা | হাতেনাতে ধরা পড়েছে আরও চার দুষ্কৃতী | মহম্মদ সোনু , সৌরভ কুমার , মহম্মদ রাজু এবং সরফরাজ আলম | আগেই লিখেছি , সকলেই মুঙ্গেরের | প্রথম দফায় দুই , দ্বিতীয় দফায় চার , ধৃত ৬ জনের থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮ টি 7.65 mm সেমি-অটোমেটিক পিস্তল , ৫০ রাউন্ড গুলি , ১৬ টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ | ছবিতে রইল যার কিছু ঝলক | ছয় “গুণধরের ” ছবিও ভাগ করে নিলাম |
তদন্ত শেষ হয়নি, সবে মাঝপথে | শিকড় কতদূর বিস্তৃত , সেটা জানার কাজ এগোচ্ছে জোরকদমে |

Advertisements