বাসি মহরমের মিছিলেও বিসর্জন স্থগিত রাখার দাবি চাঁচোল থানার পুলিশের

এবার শুধু মহরম নয়, বাসি মহরমের মিছিলের জন্যেও দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন স্থগিত রাখতে হবে- কলিগ্রামের হিন্দুদের কাছে এমনটাই দাবী করেছিল মালদা জেলার চাঁচোল থানার পুলিশ। গত ৩২ বছরে যেটা হয়নি সেটা এবার করতে দিতে হবে এটাই ছিল পুলিশের দাবী নতুবা গ্রামবাসীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ নেবেনা বলে জানিয়েছিল তারা।

প্রশাসনের এই তুমুল চাপের সামনেও নতজানু হয়নি কলিগ্রামের হিন্দুরা। তারা গ্রামের ভিতর দিয়ে বাসি মহরমের মিছিল না যেতে দেয়ার ব্যাপারে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই গতকাল সন্ধ্যায়, তাঁরা বাসি মহরমের প্রস্তাবিত পথে মা দুর্গার প্রতিমা রেখে অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষন পরেই ‘ইসলাম বিপন্ন’ আওয়াজ তুলে জেহাদি মুসলিমরা গ্রামের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের নিজেদের সাধ্যমত প্রতিহত করে কলিগ্রামের হিন্দুরা এবং অন্য রাস্তা দিয়ে বাসি মহরমের মিছিল নিয়ে যেতে বাধ্য করে।

আজ ভোরবেলায় চাঁচোল পুলিশের উপস্থিতিতে ঐ প্রতিমার বিসর্জন করা হয় এবং তারপরে পুলিশ গ্রামের বেশকিছু ব্যক্তিকে আলোচনার জন্যে আলাদা জায়গায় নিয়ে যায়। ঐ ব্যক্তিরা হলেন, ১) প্রাক্তন প্রধান ও বিজেপি নেতা রতন দাস(৪৮), ২) সিদ্ধার্থ নন্দী(৩২), ৩) হিন্দু সংহতির কর্মী সুমন গুহ(৩৮), ৪) হিন্দু সংহতির মনীশ সরকার(৩৮), ৫) হিন্দু সংহতির গোপেশ সরকার(৩৫), ৬) আরএসএস-র অজিত প্রামাণিক(৪৫), ৭) তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রামকৃষ্ণ দাস(৩৫), ৮) টুবাই(৪৫), ৯) অ্যাডভোকেট হিমাদ্রী কুমার দাস(৪০)।

আলোচনার নাম করে ডেকে পাঠানো ব্যক্তিদের এরপরেই আটক করে চাঁচোল থানার পুলিশ। প্রশাসনের মুসলিম তোষণ নীতির প্রতিবাদ করার কারনেই তাদেরকে বিনা অপরাধে আটক করা হয়। এই খবর গ্রামে পৌছাতেই হাজার হাজার গ্রামবাসী এসে চাঁচোল থানা অবরোধ করে। পুলিশের নির্লজ্জ তোষণ নীতির প্রতিবাদে ফেটে পরে গ্রামবাসীরা। ধৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবীতে চাঁচোল থানায় চলছে অবরোধ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আশেপাশের অন্যান্য গ্রাম থেকেও হিন্দুরা এসে যোগ দিচ্ছে এই অবরোধে।