ধর্ম-পরিচয় গোপন করে বিয়ে,ইসলামপুরের যুবকের সাত বছরের জেল

FB_IMG_1504936245508ঘটনাটি উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের। গত শুক্রবার পরিচয় গোপন করে ফুসলিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনায় ইসলামপুরের ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড আদালত। জানা গিয়েছে, গোয়ালপোখর থানার মজলিশপুর মিলিকটোলা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় বিহারের কিষাণগঞ্জের এক বেসরকারি নার্সিংহোমের কর্মচারী শেফালী মার্ডির সঙ্গে ইসলামপুরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা রঞ্জিত মল্লিকের ছেলে জিৎ মল্লিকের মিসড কলের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সম্পর্ক গভীর হতেই তারা ২০১৬ সালের ৫ই ফেব্রূয়ারি হিন্দু শাস্ত্রমতে বিয়ে করে দিল্লী চলে যায়।   পরে ২০১৬ সালের মে মাসে শেফালী তার স্বামী জিৎকে নিয়ে তার বাপের বাড়ি মজলিশপুর মিলিকটোলা গ্রামে ফিরে আসেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর জিৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সেসময় শেফালী মার্ডি গর্ভবতী ছিলেন। ২০১৬ সালের ২রা ডিসেম্বর শেফালী মার্ডি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এদিকে জিৎ-এর আর কোনো খোঁজ না মেলায় শেফালির আত্মীয় সোনাটি সোরেন তার বাপের বাড়ি গোয়ালপোখরের আমবাড়ি এলাকায় জিৎ-এর ছবি নিয়ে খুঁজতে শুরু করেন। শেফালীরা জানতে পারেন, জিৎ মল্লিক আসলে গোয়ালপোখরের গোয়ালিন গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহাবের ছেলে আলমগীর। বাড়িতে তার আগের দুই স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। তখন শেফালী আলমগীরের বিরুদ্ধে গোয়ালপোখর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ২০১৭ সালের ২৫সে এপ্রিল। পুলিশ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। ইসলামপুর আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অরুন রাই আলমগীরকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনান।
অনেকেই মনে করছেন, শেফালী মার্ডি লাভ জেহাদের শিকার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিগত দিনে এই ধরণের ভুরি ভুরি অভিযোগ ইসলামপুর মহকুমাজুড়ে রয়েছে। মুসলিম যুবকেরা বিশেষ করে প্ৰত্যন্ত অঞ্চলের সাদাসিধে হিন্দু মেয়েদের লাভ জেহাদের শিকার হিসেবে বেছে নিচ্ছে, শেফালী মার্ডি তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
Advertisements