সেনাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী ও পাকিদের বৈরিতা। তাতে আমাদের কী !

।। অভিমন্যু রায়।।

উদাত্ত গলার বক্তৃতা শুনছিলাম।
‘না না পাকিস্তানী অভিনেতারা কেউ ফেরত যাবে না। তারা শিল্পী। শিল্পীর কোনো সীমান্ত নেই। শিল্পের ঠিকানা উন্মুক্ত আকাশ। শিল্পের অবারিত গতি। পাকিস্তানী গায়করা এদেশে গান গাইবেনই। গান ও এক মোহন শিল্প। উদার আকাশ ও বহন্ত বাতাসে যার অবাধ গতিবিধি। পাকিস্তানী খেলোয়াড়রা এদেশে খেলবেনই। কত রোমাঞ্চের ক্রিকেট দুদেশের। কত মজা ও আমোদের খেলা। খেলোয়াড়দের কোনো বর্ডার নেই। নির্দোষ আনন্দের নেই কোনো বাঁধা। পাকিস্তানী কবিরা এদেশে আসবেন। আমাদের কবিরা ওদেশের মেহফিল রাঙিয়ে আসবেন। না না না। অভিনেতা, শিল্পী, সাহিত্যিক, খেলোয়াড় এরা বিশ্ব নাগরিক। দেশ কালের সীমায় এদের আটকে রাখা মূর্খতা। এদের সাথে আমাদের কিসের শত্রুতা! আমাদের কোনো বৈরিতা পাকিস্তানের শিল্পী, সাহিত্যিক, খেলোয়াড় বা সাধারণ মানুষ কারো সঙ্গে নেই।
আকাশ বাতাস মথিত করা ভাষণ শুনতে শুনতে আবেগাপ্লুত বোধ হচ্ছিল। চলতে চলতে হঠাৎ দেখা নদীর নির্জন ঘাটে বসা দুটো ছেলের সঙ্গে। বিষণ্ণ মনে জলের ধারে বসে ঘাস ছিঁড়ছিলো তারা। কদিন আগে তাদের কফিনের ছবি কাগজে দেখেছি। আলাপ করে জানতে চাইলাম, আচ্ছা ভাই পাকিস্তানীদের সঙ্গে আপনাদের কোনো শত্রুতা ছিল ? জৈশে মহম্মদ, লস্কর এ তৈবার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ছেলেবেলায় মারামারি করেছেন?
বিস্মিত ছেলেদুটো বললো- ‘নাতো! শত্রুতা দূরস্থান জন্মাবধি আমাদের সঙ্গে কোনো পাকিস্তানীর পরিচয়ই ছিল না।’
-না না ভেবে দেখুন শত্রুতা নিশ্চয়ই ছিল। এ জন্মে না হলেও আগের জন্মে কোনো প্রবলেম অবশ্যই ছিল। ছেলে দুটি সকরুণ চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।
-একটু গলা চড়িয়েই বললাম শ্রীমান বিশ্বজিৎ ঘরাই, শ্রীমান গঙ্গাধর দলুই ভাবুন ভাবুন,কী এমন শত্রুতা আপনাদের সঙ্গে পাকিস্তানীদের ছিল যার জন্যে ওরা আপনাদের গুলী করে মেরেছে। শত্রুতা নিশ্চয়ই ছিল।’

‘আমরা যে সেনাবাহিনীতে ছিলাম।হয়তো ওটাই শত্রুতা।’

তাই বলুন। সেনাবাহিনীতে চাকুরী করছিলেন। তাইলে মরেছেন ঠিকই আছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের কী। আমরা শিল্পী,খেলোয়াড়, কবি, আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের সঙ্গে কারো শত্রুতা নেই। আমরা পরস্পর ভালো আছি। সেনাবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানের বৈরিতা আছে। সন্ত্রাসীদের বৈরিতা আছে। তারা গুলী খাবে, তারা মরবে। এতে আমাদের কী !
কথাগুলো শুনিয়ে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে এলাম।
তাদের গুলীতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া দেহের চক্ষু কোটর থেকে অবাক বিস্ময় মিশ্রিত যে দুঃখ স্রোত ভেসে আসছিল সেদিকে তাকানো যায়না।

Advertisements