শাক দিয়ে কি মাছ ঢাকা যায়?

হিন্দু সংহতি গত ছয় বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের স্থানে স্থানে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের অগণিত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও এই বাংলার প্রগতিশীল এবং প্রখর সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পন্ন মিডিয়াকুল অত্যন্ত সচেতনভাবে সেই সমস্ত সংবাদকে চেপে রেখেছে। দিকে দিকে হিন্দুর উপর ব্যাপক আক্রমণ, লুঠপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, হত্যার খবর চেপে রাখার মহৎ উদ্দেশ্য – এই সমস্ত খবর প্রকাশিত হলে নাকি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়বে যা কখনই অভিপ্রেত নয়। অর্থাৎ হিন্দু অত্যাচারিত হোক, গৃহহীন হোক, হিন্দু নারী ধর্ষিতা হোক, মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হবে না। Mamata-Banerjee_20100903হলেও এমনভাবে হবে যাতে এর সাম্প্রদায়িক স্বরূপ কেউ টের না পায়। পাশাপাশি এক দশক আগের গুজরাট দাঙ্গা আজও খবর, মুজফরনগরের দাঙ্গা আজও খবর। কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত হিন্দুরা আজ কোথায়, কিভাবে আছে তা কেউ জানতে পারে না। কিন্তু মুজফরনগরের দাঙ্গাপীড়িত মুসলমানদের কষ্ট এই মুহূর্তে টেলিভিসনে কোন না কোন চ্যানেলে অবশ্যই দেখতে পাবেন। অর্থাৎ বিশ্ববাসীর সামনে এই চিত্রটা তুলে ধরা হচ্ছে যে এদেশে সংখ্যালঘু মুসলমানরা হিন্দুদের দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছে, যা বাস্তবের ঠিক বিপরীত। এর কারণ মিডিয়াগুলির বাজারী দায়বদ্ধতা! যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় চ্যানেলগুলি এবং সংবাদপত্রগুলি চলে, তাদের কাছে এরা দায়বদ্ধ, সাংবাদিকতার নীতি অথবা তাদের সামাজিক ও জাতীয় কর্তব্যের কাছে নয়। কিন্তু টাকা খেয়ে সত্যকে চেপে রাখার চেষ্টা যতই হোক না কেন সত্য একদিন প্রকাশিত হয়। কারণ শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না, কোনদিন যায় নি আর যাবেও না। তাহলে বাস্তব কী? mপুলিশ রিপোর্ট বলছে গ্রাম বাংলায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যেখানে বছরে ১২ থেকে ৪০ টা পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে, সেখানে ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ এ। আমাদের এই রাজ্য সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের নিরিখে দেশের প্রথম দশটি রাজ্যের মধ্যে একটি। অর্থাৎ গলা ছেড়ে সবাই মিলে প্রাণপণে ধর্মনিরপেক্ষতার গান গাওয়া সত্ত্বেও এরাজ্যে সাম্প্রদায়িক ভেদভাব একটুও কমে নি, বরং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ কী? অভিজ্ঞরা বলছেন বর্তমান রাজ্য সরকারের নগ্ন মুসলিম তোষণ এর অন্যতম কারণ। ইমাম ভাতা চালু করা, শুধুমাত্র মুসলমানদের দিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন সরকারী স্কীম শুরু করা এবং সর্বোপরি মমতা বন্দ্যপাধায়ের বোরখা পরিহিত ও নামাজরত চিত্রের ব্যাপক প্রচার সাম্প্রদায়িকতাকে খোলাখুলি প্রশ্রয় দেওয়া ছাড়া আর কী হতে পারে? State Minority Affairs department এর একজন পদাধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ঘাসফুলের সরকার গঠন হওয়ার পরে কমপক্ষে চারশ – র বেশি মুসলিম NGO গজিয়ে উঠেছে, আগে থেকেই আছে ৫৯৭ টি সরকার পঞ্জীকৃত মাদ্রাসা। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে আব্দুল বারিক বিশ্বাস,  মুন্না ইকবাল, আরাবুল, সেলিম, খোড়া হাসেম, সাজাহান শেখদের মত দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেওয়া এবং অতীতে সিমির মত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষিক্ত করা মুসলমানদের আগ্রাসী মানসিকতাকে পরিপুষ্ট করে তুলেছে বলে অনেকে মনে করছেন।   IMG_5154

এই ব্যাখ্যা শতকরা একশ ভাগ সত্যি হলেও অসম্পূর্ণ। রাজ্যের যে সমস্ত এলাকা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষপ্রবণ, গত কয়েক বছরে সেই এলাকাগুলিতে হিন্দু সংহতির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এক দিকে বেড়েছে হিন্দুদের চেতনা এবং সাথে সাথে বেড়েছে তাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস। ফলে আগে যারা অত্যাচারিত হওয়ার পরে মুখ খুলত না, তারা আজ পুলিশে রিপোর্ট করার সাহস করছে। যে হিন্দুরা আগে অত্যাচারিত হলেও মুখ বুজে সহ্য করতে অভ্যস্ত ছিল, তারা আজ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। অর্থাৎ, হিন্দুদের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে সংঘর্ষ হচ্ছে এবং পুলিশের খাতায় তা নথিবদ্ধও হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনার এই বৃদ্ধি উদ্বেগজনক হলেও এই পরিসংখ্যান হিন্দুদের কাছে একটা আশার বার্তা বহন করে আনছে কি না তা হয়তো সময়ই বলবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s