কেন্দ্রে মোদী-সরকার গঠিত হওয়ার সুফল এরাজ্যের হিন্দুরা পাবে তো?

গত কাল হালদার ঘেড়ি গ্রাম, গায়েন পাড়ার নিজের বাড়ি থেকে গোষ্ঠ গায়েন এবং সুশীল গায়েনকে গ্রেপ্তার করে সন্দেশখালী থানার পুলিশ। এই গোষ্ঠ এবং সুশীল পি.জি. হাসপাতালে ১০ দিন চিকিত্সার পরে সদ্য বাড়ি ফিরেছে।গত মাসের ২৬ তারিখ সন্দেশখালীর এই অঞ্চলে কুখ্যাত সাজাহান শেখের বাহিনী তান্ডব চালায়। DEb2পুলিশের উপস্থিতিতে রাস্তা অবরোধকারী গ্রামবাসীদের উপরে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে সাজাহানের বাহিনী। একজন পুলিশকর্মীসহ মোট ২৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৩ জনকে পি.জি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই ১৩ জনের মধ্যে এই গোষ্ঠ এবং সুশীলও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিল। আশ্চর্যের বিষয় পুলিশ এখনও পর্যন্ত আক্রমণকারী সাজাহান শেখকে স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ তাদের আক্রমণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে বি.জে.পি-র ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় টি.এম.সি-র পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা অঞ্চলের ত্রাস সাজাহান শেখের গুন্ডাবাহিনী সন্দেশখালীর এই সব এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ২৬ মে-র এই ঘটনার কিছুদিন আগেই ঝুপখালিতে এই সাজাহানের বাহিনী একটি আদিবাসী হিন্দু বাড়িতে ডাকাতি করে ও সেই ব্যক্তির নাবালিকা কন্যাকে নৃসংশভাবে গণধর্ষণ করে। হালদার ঘেড়ির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বি.জে.পি-র একটি কেন্দ্রীয় দল এলাকায় ঘুরে গেছে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ কে তাদের রিপোর্ট পেষ করেছে। কিন্তু গোষ্ঠ এবং সুশীলের এই গ্রেপ্তার এটাই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয় নি। রাজনৈতিক রঙ দিয়ে হিন্দুদের উপরে চিরাচরিত অত্যাচারের পরম্পরা অব্যাহত আছে। প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রে মোদী-সরকার গঠিত হওয়ার সুফল এরাজ্যের হিন্দুরা পাবে তো?

গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বি.জে.পি উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। সারা দেশের মানুষের সাথে সাথে এই রাজ্যের মানুষও মোদীজীর উপর বিশ্বাস রেখেছেন। নির্বাচনের আগে সারা দেশে একটা ধ্রুবিকরণের  পরিবেশ তৈরী হয়েছিল তা আমরা সবাই স্পষ্ট অনুভব করেছি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে এই ধ্রুবিকরণের পরিণামস্বরূপই বি.জে.পি-র এই অভাবনীয় সাফল্য সম্ভব হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ফলপ্রকাশ এবং কেন্দ্রে শক্তিশালী মোদী-সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পশ্চিমবঙ্গে বি.জে.পি-র দিকে মুসলমানদের একটা ঢল নেমেছে। আসলে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কারণ মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক দর্শন হল, যতদিন নিজেদের সংখ্যার জোরে মুসলিম লীগের মত কোন রাজনৈতিক দল তৈরী করে নির্বাচনে জেতার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা না যায়, ততদিন ক্ষমতায় আসীন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রবেশ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য চাপ সৃষ্টি করে যেতে হবে। ঠিক এই দর্শন অনুসারেই সাজাহান শেখের মত দুষ্কৃতিরা বাম জমানায় সি.পি.এম-এর লাল পতাকার তলায় থেকে হিন্দুদেরকে দাবিয়ে রেখেছে, পরে তারাই টি.এম.সি-র পতাকার আড়ালে সেই একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এটাই স্বাভাবিক যে মুসলমানেরা এখন দলে দলে বি.জে.পি-তে ঢুকবে এবং ক্ষমতার অংশীদার হয়ে সেই কাজই চালিয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু রাজ্যের হিন্দুত্বিবাদী বি.জ়ে.পি সমর্থকদের আশংকা তাড়াতাড়ি ক্ষমতা দখলের লোভে বি.জে.পি নেতৃত্ব এই মুসলিম ভোটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে না তো? না হলে ভালো। কিন্তু এই আশংকা বাস্তবে রুপান্তরিত হলে বাংলার হিন্দুরা যে বি.জে পি-র দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সে ক্ষেত্রে রাজ্যে বি.জে.পি-র বিকল্প হিসাবে নতুন একটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দলের উত্থানের সম্ভাবনাকে কি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়?

3 thoughts on “কেন্দ্রে মোদী-সরকার গঠিত হওয়ার সুফল এরাজ্যের হিন্দুরা পাবে তো?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s