এবার পুজোয় আমার দুর্গার নাম বেগম রোকেয়া

ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ র ক্লাস নিই আজ কয়েকবছর। বছর দুয়েক আগে তুমুল বৃষ্টির এক দুপুরে ধারাপাত অগ্রাহ্য করে রাস্তায় বেরিয়ে যাওয়া দুটি মেয়েকে আমার এক সতীর্থ অধ্যাপক বলেছিলেন, বৃষ্টি ধরলে যাস। মেয়ে দুজন হাসতে হাসতে জবাব দিয়েছিল, আপনাদের সমাজে জন্মাইনি।যখন তিন তালাক বলবে, তখনই বেরিয়ে যেতে হবে।
কথাটা গেঁথে ছিল মাথায়। ওদের বলা হয়নি যে আমার সমাজেও সতীদাহ ছিল, বিধবাদের না খাইয়ে মেরে ফেলা ছিল।
ছিল। আজও অনেক খারাপ আছে। কিন্তু সেই রামমোহনের সময় থেকেই নৃশংসতার বিরুদ্ধে লড়াইটাও আছে।
শুধু প্রাণধারণ করতে চেয়ে শাহবানু বা সায়রা বানোরা যখন সুপ্রিম কোর্টের দরজা ঠকঠকিয়ে ছিলেন তখন কোনও রামমোহন বা বিদ্যাসাগরকে পাশে পাননি তারা।
কোনো বৃন্দা কারাত বা সীতারাম ইয়েচুরি সংসদে দাঁড়িয়ে একবারের জন্য বলেননি যে মুখের কথায় একটা মেয়েকে রাস্তায় বের করে দেওয়া যায় না, ধর্ম পরে, মানবিকতা আগে। যে তিন তালাক পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো বাইশটি ইসলামিক দেশে নিষিদ্ধ সেই প্রথা ভারতে জারি রাখা অন্যায়, এই কথাটি মুখ ফুটে কোনও মহাপণ্ডিত, মহা সেকুলার বলেননি।
কিছু এসে যায়নি তাতে। মানুষকে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা ভণ্ড ধর্ম-নিরপেক্ষদের তোয়াক্কা না করে আজ সায়রা বানোরা নিজেদের লড়াই নিজেরা লড়ছেন এবং জিতছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথমবার দেশের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সবচেয়ে অত্যাচারিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টে বয়ান দিয়েছে তিন তালাকের বিরুদ্ধে।
যে কাজটা জওহরলাল নেহরু থেকে জ্যোতি বসু করেননি এবং করতে চাননি আজ সেই কাজ নরেন্দ্র মোদীর ফ্যাসিস্ট(!) অসহিষ্ণু (!) সরকার করে দেখিয়েছে।
লজ্জা করছে না কমরেড? কিন্তু আপনাদের লজ্জা না করলেও আমার এবং আমাদের গর্ব হচ্ছে আজ। আজ না হলেও কাল বা পরশু আমার দেশের, আমার পৃথিবীর কোনও মেয়েকে বৃষ্টির মধ্যে পথে বেরিয়ে যেতে হবে না।
এবার পুজোয় আমার দুর্গার নাম বেগম রোকেয়া।
ভাল থেকো মা।

………… বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

Advertisements