এবার ঠিকানা বঙ্গোপসাগর

আজ পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা এমন জায়গায় এসেছে যে, যেসব জায়গায় মুসলমানেরা ৩০% থেকে ৪০% সেসব জায়গা থেকেও পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে যাতে তারা পাড়া ছাড়া, গ্রাম ছাড়া এবং শেষ পর্যন্ত কোলকাতার আশেপাশে আশ্রয়হীন উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। আমাদের প্রত্যেকেরই জানা আছে যে, পূর্ববঙ্গ থেকে কী ভয়ংকর অত্যাচারের শিকার হয়ে সেই ১৯৪৮ সাল থেকে হিন্দুরা চলে এসেছে এবং এখনও আসছে। বাংলাদেশে তবু মৌলবাদী মুসলমানদের বিরুদ্ধে কিছু বাঙালী সংস্কৃতিমনস্ক মুসলমান প্রতিরোধে সামিল হওয়ায় এখনও সেই দেশ পুরোপুরি পাকিস্তানপন্থী হয়ে যায় নি। কিন্তু খোদ পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানেরা বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামীর সমর্থক – তারা এই সময়ে প্রণব মুখোপাধ্যায় বা মনমোহন সিংহের বাংলাদেশ সফর করারও ঘোর বিরোধী ছিল এবং সহবাগ আন্দোলনে বাঙালিদের ঘাতকদের শাস্তি দেওয়ার যে দাবী উঠেছে, তারা তাতে বিন্দুমাত্র সমর্থন দেয় নি, বরং কাদের মোল্লার ফাঁসীর বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়ে উঠেছে ( কলম পত্রিকা )। অর্থাৎ এদেশের মুসলমানদের যারা গরিষ্ঠ অংশ, তারা মৌলবাদী এবং স্বভাবতই ভারতবিরোধী ও হিন্দুবিরোধী। জন্ম থেকে এদেশের মাটিতে লালিত পালিত হয়েও এরা কোনক্রমেই এদেশের মানুষের সাথে এক হয়ে দেশের উন্নয়ন করতে আগ্রহী তো নয়ই, বরং  বাঙালী সংস্কৃতি ধ্বংস করে আরবের ধ্বজা ওড়ানোই এদের লক্ষ্য। দুঃখের বিষয়, বহু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বাঙালী এই মৌলবাদীদের বিপদ সম্বন্ধে একেবারেই অচেতন, অথবা তাদের দেওয়ালের লিখন পড়ার বুদ্ধিই এখনও গজায়নি – একেবারে বিতাড়িত হওয়ার আগে গজাবে বলে মনেও হয় না।  কিন্তু সাধারণ মানুষ, যারা শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার জন্য এই মৌলবাদীদের নানারকম তান্ডবের শিকার হচ্ছেন – তাদের নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে লড়তেই হবে, কারণ এর পর বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর বাঙালী হিন্দুর জায়গা থাকবে না। আমাদের পরের প্রজন্মের তরুনদের আগে বুঝতে হবে যে, এটা আমাদের দেশ এবং আমাদের এখানে থাকার অধিকার কারো চেয়ে কম তো নয়ই, বরং বেশী। বিহার বা উত্তরপ্রদেশে হিন্দুরা এত আত্মবিস্মৃত নয় – তাদের উপর আক্রমন হলে তারা ছেড়ে দেয় না। সেজন্য তাদের ভিটে -মাটি হারানোর ভয় এখনও নেই। আমাদের আত্মরক্ষা করার অধিকারও এখন সরকার ও পুলিশ কেড়ে নিতে চাইছে। পুলিশে যারা আছেন তাদেরও এই চেতনা আসা দরকার যে মৌলবাদী মুসলমানদের তোল্লা দিয়ে তারা নিজেদের সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যতের কি সর্বনাশ করছেন।

এখন হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। গোষ্ঠী নির্বিশেষে এবং রাজনৈতিক দলাদলি বিসর্জন দিয়ে – হিন্দুদের মা, মাটি, মানুষের ঐক্য দরকার মৌলবাদীদের হিংস্র আক্রমণকে ভোঁতা করার জন্য।

2 thoughts on “এবার ঠিকানা বঙ্গোপসাগর

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s