আসিফ মহিউদ্দিন এর লেখনী –

১৯৯১ সালের কথা। ভারতের ফ্ল্যাইট স্টুয়ার্ডেস অমৃতা আহলুভালিয়া একদিন দেখতে পেলো, ফ্ল্যাইটে একটা ছোট্ট মেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। সে ছিল একটা আরব শেখের সাথে। অমৃতা এগিয়ে গিয়ে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলো, কী হয়েছে? মেয়েটা উত্তর দিলো, তার নাম আমিনা। তার বয়স দশ বছর। পাশের আরব শেখটি তার স্বামী। তার বাবা একজন রিকশা চালক। এই আরব শেখটি তাদের বাসায় এসেছিল তার বড়বোনকে বিয়ে করতে। কিন্তু বড়বোনকে পছন্দ না হওয়ায় দশ বছরের মেয়েটাকেই সে বিয়ে করতে চায়। রিকশাওয়ালা বাবা মা বেশ কিছু টাকা পায় এই বিয়ে দেয়ায়, এবং তারা তুলে দেয় এই আরব শেখটির কাছে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটাকে।

অমৃতা সাথে সাথে পুলিশে ফোন করে, ফ্ল্যাইট বন্ধ করে পুলিশ আরব শেখকে গ্রেফতার করে। এই নিয়ে সে সময়ে বড় ধরণের হৈচৈ হয়েছিল। জানা গেল, ঐ আরব শেখের আরও বেশ কয়েকটা স্ত্রী আছে। মাঝে মাঝেই সে দরিদ্র দেশ থেকে বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে করে নিয়ে যায়। তাদের আর কোন হদিস পাওয়া যায় না। সেসময়ে ভারতের মুসলমান সমাজ দাবী করেছিল, দশ বছরের মেয়ে কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বিয়ে করা তাদের ধর্মীয় অধিকার। বহু বিবাহ করাও তাদের অধিকার। এগুলো তাদের ধর্ম দ্বারা সংরক্ষিত। এই অধিকারে হস্তক্ষেপ তাদের ধর্ম পালনের অধিকারে হস্তক্ষেপেরই শামিল।

প্রমাণ হিসেবে তারা দেখিয়েছিল, হযরত আয়শাকে মুহাম্মদ বিয়ে করেছিল যখন আয়শার বয়স ছিল ছয় বছর। ৯ বছর বয়সে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছিল। যেহেতু মুহাম্মদকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বলে দাবী করা হয়, সেহেতু তার সমস্ত কাজকেই সঠিক কাজ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এখন ভারতের আইন যদি ১০ বছরের মেয়েকে বিয়ে করায় কাউকে ক্রিমিনাল হিসেবে সনাক্ত করে, তাহলে মুহাম্মদের চরিত্রও কলুষিত হয়। কারণ এই বিবেচনায়, মুহাম্মদ আর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে গণ্য হওয়ার উপযুক্ত থাকে না। তাই যেহেতু মুহাম্মদের চরিত্র ঠিক রাখতে হবে, সুতরাং এরকম অজস্র নারীর জীবন, অসংখ্য শিশুর জীবন ধ্বংস হলেও কিছু যায় আসে না!

মুসলিম ভোট ব্যাংকের লোভে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতাই ভয়ে শিশু বিবাহ, বহু বিবাহের মত বর্বর প্রথাগুলো সম্পর্কে মুখ খুলতো না। কিছু হলেই মুসলমানরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলে এইসব আইন চালু রাখার চেষ্টা করতো। তারা নিজেরাই যে অসংখ্য নারী শিশুকে নির্যাতন করে যাচ্ছে, তার হিসেব কে দেবে? বর্তমানে ভারতে ইউনিফর্ম সিভিল ল’ নিয়ে আবারো আলোচনা হচ্ছে। আমি আশা করি, ভারতের ইউনিফর্ম সিভিল ল’ হবে ধর্মের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত, আধুনিক, সেক্যুলার এবং মানবিক। যেকোন ধর্মের মানুষ যত চেঁচামেচিই করুক না কেন, ধর্ম পালনের অধিকার বলে যত উৎকট আন্দোলনের ভয়ই দেখাক না কেন, এবার যেন কোন অবস্থাতেই ধর্মের নাম করে নারী ও শিশু নির্যাতনের এই পুরনো বর্বর আইনগুলো টিকে না থাকে। ভোটের রাজনীতিতে মুসলমান ভোট ব্যাংক একটা গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার অবশ্যই, কিন্তু সেই ভোট হারানোর ভয়ে ১৪০০ বছরের উদ্ভট আইন করে যেন লক্ষ লক্ষ নারী আর শিশুকে বলি দেয়া না হয়।

Advertisements