আল তাকিয়ে এবং গজবা – ই – হিন্দ

সুরা আল বাকারা-২ “এই সেই মহান গ্রন্থ যাতে কোনো সন্দেহ নাই,যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে এই কিতাব কেবল তাদের জন্যেই পথপ্রদর্শক”

কুরআনের দৃষ্টিতে সর্বধর্মের সমন্বয় ও গজবা-ই-হিন্দ হাদিস

বিভিন্ন Social Media & Web site তে পবিত্র কুরআনের যখন সুরা ও আয়াত ধরে ধরে আয়াত গুলো দেখানো হয়, যেখানে বিধর্মীসংহার, বিধর্মীবিদ্বেষ ও কট্টরবাদের ব্যাপারে উল্লেখ থাকে! তখন ইসলামি বিজ্ঞরা চোখের সামনে সত্যকে দেখে অস্বীকার করে বা তাকিয়া( ﺍﻟﺘﻘﻴﺔ) বাজী করে।
তাকিয়ার Definition হল – “অন্য কারো সামনে নিজের মনোভাব/মতাদর্শ গোপন করে বাইরে তার বিপরীত কিছু প্রদর্শন করা অর্থাৎ মিথ্যা অভিনয় করা”। মহান আল্লারা বান্দারা পবিত্র কুরআনের এইসব আয়াত গুলোর মুখোমুখি হলে তাকিয়াবাজী অবলম্বন করে নানা অভিনব ব্যাখ্যা নিয়ে এসে তিল কে তাল করে ছেড়ে দেয়! এই তাকিয়াবাজী ইসলামে সম্ভবত জায়েজ, ইসলামি হাদিস ও বিভিন্ন ইমামের লিখিত বর্ণনাগুলি তার জীবন্ত প্রমাণ। নিচে তার Reference সহ প্রমাণ দেওয়া হল।

(১) আবু জাফর(আ) বলেন- ‘তাকিয়া আমার এবং আবার পূর্বপুরুষের ধর্ম,যার তাকিয়া নেই, তার দ্বীন নেই’

[আল কাফি, ১৩৫/২,বা’ব ৯৭; বিহারুল আনওয়ার ১০৩/৬৭; মিরাত আল-উকুল ১৮০/৯]

(২) আবু আবদুল্লাহ(আ) বলেন-‘তাকিয়া দ্বীনের ১০ ভাগের ৯ ভাগ’

[আল কাফি,১৩৩/২]

(৩) ‘তাকিয়া ছেড়ে দিলে সে কাফের’

[ফিকহ আল-রেযা পৃ ৩৩৮; মুস্তাদরাক সাফিনাতুল বিহার ৪১৭/১০]

(৪) শীর্ষ ইসলামি ধর্মগুরু শায়খ সাদুক বলে- ‘যে তাকিয়া ছেড়ে দিল সে যেন সালাত ছেড়ে দিল’

[আল ই’তিকাদাত,পৃ ১০৭] মালাঊন রুহুল্লাত খোমেনীও অনুরূপ সায় দিয়েছে তার কিতাবে(মাকাসিব আল-মুহাররামাহ, ১৩৪/২)

(৫) আলী বিন হুসাইন(আ) বলেন- ‘আল্লাহ্ আখিরাতে সব পাপ মাফ করবেন, শুধু তাকিয়া ত্যাগ করা ও ভাইয়ের হক্ক নষ্ট করা ব্যতীত’

[ওয়াসায়েল আশ-শিয়া ২২৩/১৬]

(৬) আমিরুল মু’মিনীন(আ) বলেন- ‘তাকিয়া মু’মিনের সবচেয়ে উত্তম আমল’

[তাফসিরে আসকারী পৃ ৩২০-বর্ণনা ১৬৩]

সুতরাং – এটাই প্রমাণিত হচ্ছে ইসলামে “তাকিয়া” জায়েজ। তবে এটা সেইসব মুসলমানদের ব্যাক্তিগত জাতিগত ব্যাপার, তারা যদি ধর্ম রক্ষা ও প্রচারের জন্য তাকিয়াবাজী করে থাকেন! এখানে আমার কিছুই বলার নাই কারণ এটা উনাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা।

আপনারা টি.ভি, নিউস চ্যানেল এমন কি Social media সব স্থানে ইসলামি বিজ্ঞদের ওয়াজ ও লেকচার, ইন্টারভিউ শুনে থাকবেন। সেখানে একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, তারা ঢ়ালাও করে নিজেকে অ-সাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ দেখানোর জন্য বিভিন্ন Publicity Stunt দেখায়। তার মধ্যে একটি হল “আমরা হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই”। সম্ভবত বাক্যটি কোনো সর্বধর্মের সমন্বয়কারী ঠিকাদার বানিয়েছে, কারণ যদি এটাকে কুরআনের আলোতে বিচার করি তবে এটাই প্রমাণিত হবে ইহা তাকিয়াবাজী ছাড়া আর কিছুই না। নিম্নরূপ –

১. নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। [৩:১৯]

1

২. তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দুগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। [২:৮৫]
2.jpg
৩. হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।

[২:২০৮]

3.jpg

এছাড়া আরো প্রমাণ দেখুন –

 কুরআন ৩.৩২-৩৩

4.jpg

                                         কুরআন ৪.৫৯

5

                                    কুরআন ৪.৮০

6

                                           কুরআন ৩৩.৩৬

7

সুতরাং আল্লার স্বীকারক্তি থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে, আল্লার কাছে এক ইসলাম ও এক মুসলমান সর্বদা অগ্রাধিকারভুক্ত। সেখানে অন্য ধর্ম ও অন্য ধর্মের মানুষ কোনোভাবে সমাধিকার ভুক্ত নয় অর্থ্যাৎ সর্বধর্মসমম্বয়ের কোনো স্থান নাই! 
কিন্তু কতিপয় মগজ বিহীন সর্বধর্মসমম্বয়কারী ঠিকাদার হিন্দু পন্ডিতবর্গ, ইসলামের এইসব দিক গুলো না দেখে এক হাতে তালি বাজানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে। তারা এটা ভুলে যায় মুসলমানরা আগে কুরআন মানে তারপর অন্য কিছু! তাই স্পস্টত যেসব মুসলমান ভায়েরা ও বোনেরা সত্যিই সর্বধর্মসমন্বয়ের পন্থাতে বিশ্বাসী, তাদের কুরআনের এইসব শিক্ষা বর্জন করা উচিত। 

এবার প্রসঙ্গে – গজবা-ই-হিন্দ হাদিস

হাদিস হলো মূলত ইসলাম ধর্মের বাণীবাহক হযরত মুহাম্মাদের বাণী ও জীবনাচরণ। হাদিসের উপদেশ মুসলমানদের জীবনাচরণ ও ব্যবহারবিধির অন্যতম পথনির্দেশ। কুরআন ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ এবং হাদিসকে তার ব্যাখ্যা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। ইসলামে একাধিক হাদিস আছে তার মধ্যে একটি হল “গজবা-ই-হিন্দ”। ইহা ৫টি হাদিস নিয়ে গঠিত একটি অতি সংক্ষিপ্ত হাদিস, যা হযরত মুহাম্মাদের একটি অতৃপ্ত ইচ্ছাকে তুলে ধরে। যদিও এই হাদিস টি নিয়ে ইসলামি বিজ্ঞ গণেরা সব সময় তাকিয়ে মেরে এড়িয়ে যান। কিন্তু আজ পর্যন্ত ইসলামি বিজ্ঞগণেরা এই হাদিসটিকে “জাল”/”বাতিল”/”অসহী” বলার সাহস দেখায় নি, না সৌদি আরবের না পাকিস্থানের না ভারতের না বাংলাদেশের ইসলামি বিজ্ঞ গণেরা।
বাক্তিগত ভাবে এই হাদিসটি পড়ে আমি বলতে পারি এটা  ভারতে-পাকিস্থানী ও বাংলাদেশি জঙ্গীহানা, আক্রমণ ও হিন্দুদের উপর লুটপাট এর প্রধান বীজ হতে পারে!
কারণ এখানে নবী মুহাম্মাদই তার অনুসারীদের আদেশ দিয়ে গেছেন হিন্দুস্থানের অধিবাসীদের উপর আক্রমণ চালাতে ও তাদের সম্পদ লুট করতে ! এরজন্য বিশিষ্ট ইসলামি বিজ্ঞগণেরা এটার হিন্দি ও বাংলাতে অনুবাদ করতে ভয় পান।
এখানে আমি উক্ত হাদিসটির ইংরেজি থেকে বাংলাতে অনুবাদ করে এর পর্দাফাঁস করলাম। এখন কেউ যদি বলে এটা করা ইসলাম ধর্মনুভূতিতে আঘাত, তবে এখানে আমার কিছু করার নাই এখানে ভূমিকায় আমি একটি পরিস্কার আয়না এবং একজন ভারতীয় হিসাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন করা আমার সংবিধানিক অধিকার।

(গজবা-ই-হিন্দ হাদিসের বাংলা অনুবাদ)

#হাদিস নং ১
হযরত আবু হুরাইরা (রা) প্রথম হাদিস:-
এই প্রথম হাদিস টি হযরত আবু হুরায়রা (রা) এর সাথে সম্পর্কিত। তিনি বলেন যে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হযরত মুহাম্মদ (নবী) আমাকে যে বলেছিলেন যে এই উম্মাহর মধ্যে সেনা কে সিন্ধু ও হিন্দের দিকে এগুতে হবে। হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, যদি আমি এই পক্রিয়ায় যে কোনো ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের একটি সুযোগ পাই এবং (এতে অংশগ্রহণ করে যদি) আমি শহীদ পাই, তবে তা হবে ভালো এবং সৎ। যদি বেঁচে ফিরে আসি একজন যোদ্ধা হিসেবে, তখন আমি হবো মুক্ত, যাকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন”

তথ্যসুত্র →
http://www.ghazwatulhind.com/english/English/1st_Hadees.html

http://english.ghazwa-e-hind.org/hadith-1-ghazwa-e-hind-english/

ওয়েব পেজের একটি স্কিনশট-

8

———————————————————-
#হাদিস নং ২
হযরত সুবানের হাদিস (রা):-
এটি হযরত মুহাম্মদের (নবী) মুক্ত দাস হযরত সুবান (রা) এর সাথে সম্পর্কিত, হযরত মুহাম্মদ বলছেন যে; আমার উম্মতদের মধ্যে দুটি শ্রেণী যাকে আল্লাহ (জাহান্নামের) আগুন থেকে মুক্ত করেছেন, এমন হতে হবে; প্রথম গোষ্ঠী যারা ভারত আক্রমণ করবে ও দ্বিতীয় গোষ্ঠী যারা হবে সহগমনকারী ঈসা ইবনে-ই-মারিয়ামের।

তথ্যসুত্র → http://english.ghazwa-e-hind.org/hadith-2-ghazwa-e-hind-english/

http://www.ghazwatulhind.com/english/English/2nd_Hadees.html

ওয়েব পেজের একটি স্কিনশট-

9.jpg

—————————————————
#হাদিস নং ৩
হযরত আবু হুরাইরার দ্বিতীয় হাদিস: –
ইহা সম্পর্কিত আবু হুরাইরার (রা) যেখানে হযরত মুহাম্মদ (নবী) হিন্দুস্থান (ভারত) সম্পর্কে বলছেন; তিনি বলছেন নিশ্চিতভাবে, আপনার সেনাকে হিন্দুস্থান সঙ্গে একটি যুদ্ধ করতে হবে, আল্লাহ ঐ সমস্থ যোদ্ধাদের সাফল্য দান করবে, যারা যতটা সম্ভব তাদের রাজাদের চেইন/বেড়ি পড়িয়ে টেনে আনতে পারবে এবং আল্লাহ (এই মহান যুদ্ধের বর স্বরূপ) তাদের ক্ষমা করবেন। আর যখন সেইসব মুসলমানরা ফিরে আসবে, তারা হযরত ঈসা ইবনে-ই-মারিয়াম কে সিরিয়ার মধ্যে পাবে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলছেন যে, যদি আমি গজবা খুঁযে পাই, তাবে আমার সব নতুন ও পুরাতন সামগ্রী বিক্রি করবো এবং এই যুদ্ধে অংশ নেবো। যখন আল্লাহ আমাদের সফলতা দান করবে আমরা ফিরে আসবো, তখন আমি হবো মুক্ত; যে গর্বের সাথে হযরত ঈসা কে খুঁজতে খুঁজতে সিরিয়া আসবে, হে মুহাম্মাদ! সেই সময় এটা আমার তীব্র ইচ্ছা যে হযরত ঈসার কাছাকাছি এসে, আমি তাঁকে বলতে পারি যে আমি মুহাম্মাদের সাহেবী! বর্ণনাকারী বললেন যে তখন হযরত মুহাম্মদ হেসে বললেন, ‘খুব কঠিন, খুব কঠিন।

তথ্যসুত্র→ http://english.ghazwa-e-hind.org/hadith-3-ghazwa-e-hind-english/

http://www.ghazwatulhind.com/english/English/3rd_Hadees.html

ওয়েব পেজের একটি স্কিনশট-

10.jpg

————————————————————-
#হাদিস নং ৪
এই হাদিসটি হযরত কা’ব (রঃ) এর। তিনি বলছেন জেরুসালেমের একজন রাজা (বায়াতুল-উল-মুকাদ্দাস) একটি সেনাদল হিন্দুস্থানের দিকে পাঠাবে। তারা হিন্দের ভূমি ধ্বংস করবে। প্রাপ্ত ধন-ভান্ডার তার হবে, তারপর রাজা জেরুশালেমের সাজসজ্জার জন্য ওই ধন-ভান্ডার ব্যাবহার করবে। যেসব সৈন্যরা ভারতীয় রাজাদের জেরুজালেমের রাজার সামনে আনতে পারবে, রাজার আদেশ অনুসারে তার যোদ্ধারা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সব এলাকা প্রাপ্ত করবে এবং দাজ্জালের আর্বিভাব পর্যন্ত তারা হিন্দুস্থানেই অবস্থান করবে।

তথ্যসুত্র→http://www.ghazwatulhind.com/english/English/4th_Hadees.html

http://english.ghazwa-e-hind.org/hadith-4-ghazwa-e-hind-english/

ওয়েব পেজের একটি স্কিনশট-

11

———————————————————–
# হাদিস নং ৫
এই পঞ্চম হাদিসটি হযরত সাফওয়ান বিন উমর (রঃ) এর সাথে সম্পর্কিত ও তার আদেশের অন্তর্ভুক্ত পর্যায়। তিনি বলছেন যে কিছু লোক তাকে বলেন হুজুর(নবী মুহাম্মদ) বলেছেন “আমার উন্মতের কিছু লোক হিন্দুস্থানের সঙ্গে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তাদের সাফল্য প্রদান করবে, যদি তারা ভারতীয় রাজাদের বেড়ি পড়িয়ে বন্দী করে আল্লাহ সেইসব যোদ্ধাদের মুক্ত করবে। যখন তারা সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হবে তখন তারা সেখানে ঈসা-ইবনে-ই-মারিয়াম কে খুঁজে পাবে।”

তথ্যসুত্র→http://www.ghazwatulhind.com/english/English/5th_Hadees.html

http://english.ghazwa-e-hind.org/hadith-5-ghazwa-e-hind-english/

ওয়েব পেজের একটি স্কিনশট-

12.jpg

————————————————————-

## সম্পূর্ণ ওয়েব সাইট ##

http://english.ghazwa-e-hind.org

http://www.ghazwatulhind.com

সুতরাং এই পবিত্র হাদিসের আলোয় এটাই প্রমাণিত হচ্ছে নবী মুহাম্মাদের এই ইচ্ছাটা কিন্তু আমাদের সাপেক্ষে রাষ্ট্রবিরোধী ।
এখন ভারতীয় মুসলমান বিজ্ঞরা যারা Electronic Media তে চ্যাঁচামেচি করেন, তারা যদি সত্যিই সংবিধান ও দেশপ্রেমী ও সর্বধর্ম সমন্বয়কারী হয়ে থাকেন, তবে এই হাদিসের বিরোধীতা করে ফতোয়া জারি করে অন্তত এই হাদিসটিকে “অ-ইসলামি, জাল ও হারাম” ঘোষণা করে দেখাক!  এবং সেই ফতোয়ার একটি কপি অনলাইনে রাখুক!

Advertisements