৩৫০০ কোটির মাদক পাচারের নেপথ্যে কি আইএসআই, সন্দেহ গোয়েন্দাদের

Heroin (1).jpgগত ৩০ শে জুলাই গুজরাট সীমান্তে বাজেয়াপ্ত হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের পেছনে কি পাক গুন্তচর সংস্থা আইএসআই ? তদন্তে নেমে ধৃতদের জেরা করে এ তথ্যই প্রাথমিক ভাবে উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ১৫০০ কেজি হেরোইন ১৫০ কোটি টাকায় বিক্রির কথা ছিল মুম্বইয়ের বাসিন্দা বিশাল যাদবের৷ তবে ওই হেরোইন কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল, সেটাই এখন জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা৷আদতে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের বাসিন্দা বিশালের বর্তমান ঠিকানা মুম্বইয়ের ডোংরি৷ শুক্রবার জাহাজ ক্যাপ্টেন কলকাতার এন্টালির বাসিন্দা সুপ্রীত তিওয়ারি ও তার ভাই সুজিতের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিশাল ও ইরফান শেখকে৷ সুপ্রীত মুম্বইয়ে হেরোইনের কনসাইনমেন্ট পৌঁছে দেওয়ার পর তাকে ঠকিয়ে বিশালের সেই মাদক হাতিয়ে নেওয়ার ছক ছিল কি না , তা -ও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা৷ গুজরাট উপকূলে জাহাজ থেকে ৩৫০০ কোটির হেরোইন উদ্ধারের পর তদন্তকারী জানতে পেরেছিলেন , বিশালের কাছ থেকে মোটা টাকার অফার পাওয়ার পরই জাহাজে লুকোনো হেরোইন মিশরের বদলে মুম্বই নিয়ে আসছিল সুপ্রীত৷ মুম্বইয়ে ১৫০ কোটিতে সেই মাদক বিক্রি করে সুপ্রীতকে ৫০ কোটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশাল৷ তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, জাহাজটি ধরা পড়ায় শুধু দেশের বৃহত্তম মাদক উদ্ধার হয়েছে তা নয় , আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের পর্দাও ফাঁস হয়েছে৷ পাক গুন্তচর সংস্থা বা কোনও জঙ্গি সংগঠনের নির্দেশেই যে ওই মাদক ইরান থেকে মিশর যাচ্ছিল, তা স্পষ্ট৷ এই সব তথ্য অজানা নয় ধৃত সুপ্রীত, বিশালদের৷ ফলে ওই বিপুল পরিমাণ মাদক মুম্বইয়ে এনে নিশ্চিত ভাবেই রাতারাতি খুচরো বিক্রি করা সম্ভব ছিল না৷ অথচ বিশাল সুপ্রীতকে জানিয়েছিল ১৫০ কোটিতে পুরো হেরোইন বিক্রি করবে৷ ফলে তার সেই ১৫০ কোটির হেরোইনের গ্রাহক কে ? বিশালের থেকে মাদকের কনসাইনমেন্টটি কার নেওয়ার কথা ছিল ? সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন তদন্তকারীদের কাছে৷ সে ক্ষেত্রে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বিশালের যোগের সম্ভবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ গোয়েন্দারাও জানতে পেরেছেন , মাঝ সমুদ্রে জাহাজের তেল কমে আসায় বিশালের পরামর্শ মতো ডোংরির আরও এক বাসিন্দা ইরফানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুপ্রীত৷ ইরফান জাহাজের যন্ত্রাংশ বিক্রির দালালিতে যুক্ত৷ এই ইরফানের সঙ্গে এক সময় ডি কোম্পানি কয়েকজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও খবর৷ ইরফান সুপ্রীতকে গুজরাটের ভাবনগরের কাছে আলংয়ে (সেখানে জাহাজ ভাঙা হয় ) জাহাজটিকে নিয়ে যেতে বলে৷ হেরোইন ভর্তি জাহাজ আলং পৌঁছনোর পর রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে তিনটি বোটে হেরোইন মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল ইরফানের৷ তার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল তার৷ কয়েক দিনের টানা জেরার পর শুক্রবার ইরফান, বিশাল ও সুজিতকে গ্রেপ্তার করে নারকোটিক কন্টোল ব্যুরো (এনসিবি )৷ শনিবার, ৫ ই আগস্ট তাদের আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের এনসিবি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত৷ তাদের জেরা করে এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কার যোগ আছে , কোথায় -কাকে হেরোইন জোগান দেওয়া হত , তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা৷ জাহাজটি ধরা পড়ায় শুধু দেশের বৃহত্তম মাদক উদ্ধার হয়েছে তা নয় , আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের পর্দাও ফাঁস হয়েছে৷ পাক গুপ্তচর সংস্থা বা কোনও জঙ্গি সংগঠনের নির্দেশেই যে ওই মাদক ইরান থেকে মিশর যাচ্ছিল , তা স্পষ্ট৷ এই সব তথ্য অজানা নয় ধৃত সুপ্রীত , বিশালদের৷ ফলে ওই বিপুল পরিমাণ মাদক মুম্বইয়ে এনে নিশ্চিত ভাবেই রাতারাতি খুচরো বিক্রি করা সম্ভব ছিল না৷

Advertisements