সঙ্গমের জন্য মিলছে ‘ভাড়ার পুরুষ’, নিকাহ হালালায় চূড়ান্ত হেনস্তায় মুসলিম মহিলারা

muslim-woman_webতিন তালাক প্রথা রদ নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা দেশেই ঘুরছে নানা মত৷ মুসলিম রমণীদের অধিকার রক্ষায় এ প্রথা বন্ধের আবেদন তুলেছেন অনেকে৷ একই মত কয়েক লক্ষ মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষের৷ যদিও কিছু মুসলিম সংগঠন এখনও মনে করছে, এ প্রথা রদ হলে ক্ষুণ্ম হবে ইসলাম ধর্ম৷ আর এ সবের মধ্যেই গোপনে বেড়ে চলেছে নিকাহ হালালা৷ আর তার জন্য পুরুষ ভাড়া মিলছে সোশ্যাল মিডিয়াতেই৷

তালাক পাওয়ারও পরও যদি মুসলিম মহিলাদের প্রাক্তন স্বামীর কাছে ফিরতে হয় তবে দ্বারস্থ হতে হবে এই নিকাহ হালালা প্রথার৷ অন্য কোনও পুরুষকে আর বিয়ে করতে হয় তালাকপ্রাপ্ত রমণীকে৷ তাঁর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতোই কাটাতে হয়৷ এবার এই দ্বিতীয় ব্যক্তি তালাক দেন তাঁর পত্নীকে৷ তখন মহিলাটি আবার তাঁর প্রথম স্বামীকে নিকাহ করতে পারেন৷ এ প্রথা মুসলিম সমাজে বহুল প্রচলিত৷ তালাকের কুফল যাতে জীবনভর সহ্য না করতে হয়, সে কারণে অনেক মহিলাই এ প্রথা মেনে নেন৷ অচেনা পুরুষের স্ত্রী হয়ে যান কিছুদিনের জন্য৷ আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে৷ সম্প্রতি ফেসবুকে এ ধরনের বিজ্ঞাপন নজরে আসে৷ এরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক সাংবাদিক মুসলিম রমণী সেজে ওই চক্রের অন্দরের তথ্য বের করে আনে৷ জানা যাচ্ছে,  মোটা টাকার বিনিময়ে পুরুষ মেলে, যারা তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম রমণীকে বিয়ে করে৷ তাঁর সঙ্গে সহবাস করে৷ পরে ফের তাকে তালাক দেয়৷ এভাবেই সম্পন্ন হয় নিকাহ হালালা৷

পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তাঁর দাবি, এটা নিছক একটি সামাজিক পরীক্ষা ছিল মাত্র৷ যদিও তালাক পাওয়া মুসলিম রমণীরা বলছেন নিকাহ হালালার কবলে পড়ে রীতিমতো হেনস্তার শিকার হতে হয় তাঁদের৷ অনেক সময় মসজিদের মধ্যেই ইমাম বা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সহবাস করতে হয়৷ তবে একবারেই তা শেষ হয় না৷ দীর্ঘদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়৷ আদতে ভোগ্যবস্তুতে পরিণত হন মুসলিম মহিলারা৷ আর এই পরিস্থিতি থেকে তাঁদের বাঁচাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুলেফেঁপে উঠেছে পুরুষ ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা৷

লন্ডনের শরিয়ত কাউন্সিল ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, নিকাহ হালালা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি প্রথা৷ নিষিদ্ধও বটে৷ এর নিন্দার কোনও ভাষা নেই৷

সৌজন্যে : সংবাদ প্রতিদিন